প্রচ্ছদ » বাংলাদেশ » আজ শহীদ জোহা দিবস

আজ শহীদ জোহা দিবস

 মেহেদী হাসান রুমী | বাংলা ইনিশিয়েটর

আজ ১৮ই ফেব্রুয়ারি, শহীদ ড. জোহা দিবস। ৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থানের সময় পাক বাহিনীর পুলিশদের উদ্দেশ্য তৎকালীন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রক্টর প্রফেসর ড.শামসুজ্জোহা বলেছিলেন ‘কোন ছাত্রের গায়ে গুলি লাগার আগে আমার গায়ে যেন গুলি লাগে’। আজ থেকে ৪৭ বছর আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জীবন রক্ষার্থে বিলিয়ে দিয়েছিলেন নিজের জীবন। পিতা যেমন তার সন্তানকে আগলে রাখে ঠিক তেমনি জোহা স্যার নিজের জীবন দিয়ে আগলে রেখেছিলেন সকল ছাত্রের জীবন। শিক্ষকদের ইতিহাসে যিনি আত্তত্যাগের মহান দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এই ব্যক্তির দৃঢ়চেতা মনোভাব শিক্ষার্থীদের প্রেরণা যোগাতে পারে, পারে সাহসী করে তুলতে । তার মৃত্যুর ফলেই তৎকালীন পূর্ব পকিস্তানে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন চরম আকার ধারণ করে এবং বাংলাদেশ স্বাধীনতার ধারা উন্মুক্ত হয়। তার শহীদ হওয়ার এই দিনটাকে স্বরণ রাখতে নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে ১৮ ফেব্রুয়ারি পালন করা হয় রাবি শিক্ষক দিবস। যদিও জাতীয় ভাবে শিক্ষক দিবস পালনের দাবী রাবি পরিবারের দীর্ঘদিনের। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আজ সকাল ১০ ঘটিকায় শহীদ ড. জোহার সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করবে।

কি ঘটেছিল এই দিনেঃ ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন কর্মসূচির ঘোষণায় পাকিস্তানি সামরিক সরকার পূর্ব পাকিস্তানে ১৪৪ ধারা জারি করে। কিন্তু ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে মেইনগেটের সামনের মহাসড়কে পাকিস্তানি স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহা মেইনগেটে ছুটে যান। প্রক্টর হিসেবে তিনি ছাত্রদের শান্ত করা এবং ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। ছাত্ররা পিছু হটতে না চাইলে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন হাদী ছাত্রদের গুলি করার নির্দেশ দেন। তখন ড. জোহা পাকিস্তানি বাহিনীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘কোনো ছাত্রের গায়ে গুলি লাগার আগে যেন আমার গায়ে গুলি লাগে’। এ সময় তিনি ‘ডোন্ট ফায়ার! ডোন্ট ফায়ার!’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। তিনি ছাত্রদের ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু প্রক্টরের আশ্বাসে কোনো কর্ণপাত না করে বেলা ১১ টার সময় ক্যাপ্টেন হাদী তার পিস্তল বের করে ড. জোহাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। সেদিন মহান এই শিক্ষক ড. জোহার বুকের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল মতিহারের নিষ্পাপ সবুজ চত্বর। হাসপাতালে নেওয়ার পর ড. জোহা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। প্রথমে ছাত্ররা বুঝতে পারছিলেন না, ড. জোহা ও তার সহকর্মীদের ভাগ্যে কি ঘটেছে। দুপুর বারোটার দিকে ক্যাম্পাসে খবর আসে, ড. জোহাকে প্রথমে কাছ থেকে গুলি ও পরে বেয়নেট চার্জ করে ক্ষত-বিক্ষত করা হয়েছে। এবং তিনি মুমূর্ষু অবস্থায় রাজশাহী পৌরসভার একটি পুলিশ ভ্যানে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে পড়ে আছেন। পরে তৎকালীন জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ড. জোহাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে ছাত্র-জনতা ভিড় জমান হাসপাতালে। ইতোমধ্যেই অনেক দেরির কারণে প্রচুর রক্তক্ষরণ ঘটায় অপারেশন থিয়েটারে অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন ড. দত্ত। অকাতরে প্রাণ দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান তিনি। এর পরের ইতিহাস সবার জানা। ড. শামসুজ্জোহার রক্তস্নাত পথ ধরে গণআন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।