প্রচ্ছদ » উড়াল » তারুণ্য » তরুণরা কেন সেচ্ছাসেবী সংগঠনে ঝুঁকছে?

তরুণরা কেন সেচ্ছাসেবী সংগঠনে ঝুঁকছে?

আশ্রাফুজ্জামান বাপ্পি | বাংলা ইনিশিয়েটর

সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যানে ও সুষ্ট সমাজ গঠনে তরুণদের ভূমিকা থাকে সবচেয়ে বেশী। স্বাধীনতা পূর্ববর্তী প্রেক্ষাপট থেকে শুরু করে আমাদের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে তরুণরাই থাকে চালকের আসনে। তরুণ সমাজের বিরুদ্ধে একটা অপবাদ রটেছে। আজকের তরুণ-তরুণীরা নাকি আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে ! আসলেই কি তাই ঘটেছে?  দেশে গড়ে উঠছে অসংখ্য সেচ্ছাসেবী সংগঠন। যার পরিচালনায় আছে তরুণরা। বর্তমানে তরুণদের একটা বড় সংখ্যাকে  দেখা যাচ্ছে সেচ্ছাসেবী সংগঠনে যুক্ত হচ্ছে। তবে কি দেশের যে কোন দুর্যোগে কিংবা কোন সমস্যায় এখনো এগিয়ে আসার মানসিকতা রয়েছে আমাদের তরুণ সমাজের? কেন এখনকার তরুণরা যুক্ত হচ্ছে বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠনে? আর তাদের সেচ্ছাসেবী কর্মকান্ডে কিভাবে লাভবান হচ্ছে সমাজ? এমন প্রশ্নই করেছিলাম কয়েকজন তরুণ সংগঠক কে । আসুন দেখি তারা কি বলেঃ

কাজী আবু সাঈদ
জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, মাস্তুল ফাউন্ডেশন

আজকের তরুণরা কমিউনিকেটিভ, সবাই চায় নিজের পরিচিত গন্ডির বাইরে গিয়ে কিছু করতে। নতুন কিছু করার তীব্র একটা আকাঙ্ক্ষা কাজ করে তরুণদের মনে, পড়াশুনা এর বাহিরে কিছু করা চাই। এর ফলে প্রত্যেক এ তাদের অন্তর্নিহিত প্রতিভা বা কর্ম উদ্দিপনা দিয়ে সরাসরি সমাজে অবদান রাখছে। সে হোক রক্তদান অথবা সেচ্ছায় সেবা প্রদান যা অবদান রাখে সমাজের বিভিন্ন আয়ের মানুষ এর জীবনে। সেচ্ছাসেবী কাজে যুক্ত হবার সবচেয়ে ভালো দিক হলো নিজেকে জানা। তরুণরা অনেকে জানেন ই না নিজের মধ্যে কতটুকু নেতৃত্ব দেবার ক্ষমতা আছে, কতটা সে খাপ খাইয়ে চলতে পারে, নতুন কিছু সৃষ্টি করতে শিখে।

রাকিব রায়হান আকাশ
প্রতিষ্ঠাতা, পরিবর্তন চ্যারিটি ফাউন্ডেশন

বর্তমানের তরুণরা আগের তুলনায় অনেক বেশি সমাজসচেতন। তারা দেশকে নিয়ে ভাবে, দেশের মানুষ-সমাজ এসব নিয়ে ভাবে। তারা নিজেদেরকে শুধুমাত্র পড়াশুনা কিংবা ক্যারিয়ারের বাঁধাধরা ছকে আটকে না ফেলে বৃত্তের বাইরে যেয়ে চিন্তা করছে। এমন ভাবনা থেকেই স্বেচ্ছাসেবী কর্মকান্ডের সাথে তারা যুক্ত হচ্ছে। তরুণরা যদি স্বেচ্ছাসেবী কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত হয়, সেটি প্রাকারান্তরে তরুণদের কর্তব্যপরায়ণতা আর দেশপ্রেমেরই প্রমাণ দেয়। সমাজ এগিয়ে যাবার মূল নিয়ামক হল তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আর নের্তৃত্ব। বলার অপেক্ষা রাখেনা, তাদের এই পদক্ষেপ আমাদের অগ্রসরতার পথকে সুদৃঢ় করবে। এটি একইসাথে শিক্ষা আর অভিজ্ঞতার এক অপূর্ব মিলনস্থল, যা পরবর্তীতে জীবন কিংবা ক্যারিয়ারে অনেক গুরত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে আবির্ভুত হয়।

এআর রায়হান
পরিচালক, ফোরাম এসডিএ

বাংলাদেশে সেচ্ছাসেবী সংগঠন ক্রমাগত হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে । সংগঠন গুলে গড়ে ওঠার একটি বড় কারন হলো আমরা প্রতিনিয়ত নানা মানবিক ও প্রাকৃতিক সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছি । সমস্যার সমাধান আনার জন্যই সেচ্ছায় সংগঠন গুলি গড়ে উঠছে ।এর সেচ্ছা সেবী সংগঠনে মধ্য দিয়ে মানবিক উন্নয়নের পাশাপাশি নতৃত্ব শেখার ও সুযোগ রয়েছে। যার জন্য তরুণরা সংগঠনের ব্যাপারে আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে আসছে

মেরিনা মিতু
প্রতিষ্ঠাতা, ঘুড়ি ফাউন্ডেশন

বর্তমানে তরুণ-তরুণীদের সেচ্ছাসেবী সংগঠনে জড়িত হওয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য নিজের মধ্যে লিডারশীপ ক্ষমতা তৈরি করা। প্রত্যেক মানুষের মধ্যে কোনো না কোনো একদিক দিয়ে মেধা লুকিয়ে থাকে। সেই মেধাটাকে কাজে লাগাতেই তাদের আগমন নানান ধরনের সেচ্ছাসেবী সংগঠনে। তরুন দের পড়াশোনার বাইরে এই সেচ্ছাসেবী সংগঠনে যোগ দেয়াটা সমাজে এক অনন্য ভুমিকা রাখে। সৃজনশীলতা বৃদ্ধি পায়, আত্মনিষ্ঠ হতে পারাটা জরুরি।

কাজী মাহমুদ হাসান অয়ন
প্রতিষ্ঠাতা, সব্যসাচী

আমরা আমাদের চারিপাশে প্রতিটা মুহূর্তে দেখছি অসহায় নিপীড়িত মানুষের দুঃখ দুর্দশা। আমরা তো সুখে থাকা স্বত্বেও প্রতিনিয়তইই আরো সুখের সন্ধানে ছুটি। আর তারা প্রতিনিয়ত চিন্তা করে কিভাবে তাদের দুঃখকষ্ট কিছুটা লাঘব হবে। তাদের এই দুঃখ কষ্ট কিছুটা লাঘব করার প্রত্যয়েই তরুণদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে আসা। মূলত আমরা একা যা করতে পারি তার চেয়ে অনেকগুন বেশি কিছু করা যায় যদি আমরা তা দল বেধে করি।  বর্তমান যুগের প্রেক্ষাপটে তরুণরা প্রতিনিয়তই চাচ্ছে নতুন কিছু করতে। শুধু নতুনই নয় নিজের কিছু করতে। তাই তারা বর্তমানে হয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে কাজ করছে নতুবা নিজেই এসব সংগঠনের উদ্যোক্তা হচ্ছে। আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি তরুণদের এই পদক্ষেপ শুধু তাদের ব্যক্তিগত আত্মতৃপ্তিই নয় দেশের সামাজিক উন্নয়নেও বিরাট ভূমিকা পালন করবে।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।