প্রচ্ছদ » বাংলাদেশ » কিংবদন্তী আজম খানের জন্মদিন আজ

কিংবদন্তী আজম খানের জন্মদিন আজ

প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৭১১:৪৩:৪৯ পূর্বাহ্ন

[pfai pfaic=”fa fa-user fa-spin ” pfaicolr=”” ] শাফিউল ইসলাম ও হোসাইন কবির | বাংলা ইনিশিয়েটর

বাংলার মাটিতে  যে কয়জন মানুষ হিরা হয়ে জন্ম গ্রহণ করেছেন, যারা সত্যিকার অর্থে দেশকে ভালোবেসেছেন দেশের সেবায় কাজ করেছন আজমখান তাদের মধ্যে অন্যতম। যিনি ছিলেন একাধারে একজন সুরকার, গীতিকার ও গেরিলা যোদ্ধা। বাংলার ব্যান্ড সংগীতের জনক পপ গুরু আজম খান এর পুরো নাম মোহাম্মদ মাহবুবুল হক খান।

আজম খান ১৯৫০ সালে ২৮ ফেব্রুয়ারি আজিমপুরে জন্ম গ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মোহাম্মদ আফতাব উদ্দিন খান, মা জোবেদা খাতুন। পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে ছেলেবেলা থেকেই আজম খান ছিলেন একটু ডানপিটে স্বভাবের। লেখাপড়ার হাতেখড়ি হয় আজিমপুরের ঢাকেশ্বরী স্কুলে ১৯৫৫ সালে। ১৯৫৬ সালে তাঁর বাবা কমলাপুরে বাড়ি বানান। সেখানে তিনি কমলাপুরের প্রভেনশিয়াল স্কুলে প্রাইমারিতে এসে ভর্তি হন।  তারপর ১৯৬৫ সালে সিদ্ধেশ্বরী হাইস্কুলে বাণিজ্য বিভাগে ভর্তি হন। এই স্কুল থেকে ১৯৬৮ সালে এসএসসি পাস করেন। ১৯৭০ সালে টি অ্যান্ড টি কলেজ থেকে বাণিজ্য বিভাগে দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হন। তারপর মুক্তিযুদ্ধের সময়ে যুদ্ধে যোগদান করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকায় সংঘটিত কয়েকটি গেরিলা অভিযানে তিনি অংশ নেন।

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময়েই আজম খান পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তখন তিনি “ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠী”র সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর শোষণের বিরুদ্ধে গণসঙ্গীত প্রচার করেন। বাবার অণুপ্রেরণায় যুদ্ধে যাবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ১৯৭১ এর শুরুতে, ২১ বছর বয়সী আজম খান পায়ে হেঁটে আগরতলা চলে যান সাথে ছিল দুই বন্ধু। এসময় তাঁর লক্ষ্য ছিল সেক্টর ২ এ খালেদ মোশাররফের অধীনে যুদ্ধে যোগদান করা। তিনি প্রাথমিক প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন ভারতের মেলাঘরের শিবিরে।

যুদ্ধ প্রশিক্ষণ শেষে তিনি কুমিল্লায় পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে সমুখ সমরে অংশ নেয়া শুরু করেন। কুমিল্লার সালদায় প্রথম সরাসরি যুদ্ধ করেন। এর কিছুদিন পর তিনি পুণরায় আগরতলায় ফিরে আসেন। এরপর তাঁকে পাঠানো হয় ঢাকায় গেরিলা যুদ্ধে অংশ নেয়ার জন্য। আজম খান ছিলেন দুই নম্বর সেক্টরের একটা সেকশনের ইন-চার্জ। ঢাকায় তিনি সেকশান কমান্ডার হিসেবে ঢাকা ও এর আশেপাশে বেশ কয়েকটি গেরিলা আক্রমণে অংশ নেন।

আজম খান মূলত যাত্রাবাড়ি-গুলশান এলাকার গেরিলা অপারেশনগুলো পরিচালনার দায়িত্ব পান। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল তার নেতৃত্বে সংঘটিত “অপারেশান তিতাস”। তাঁদের দায়িত্ব ছিল ঢাকার কিছু গ্যাস পাইপলাইন ধ্বংস করার মাধ্যমে বিশেষ করে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল (বর্তমান শেরাটন হোটেল), হোটেল পূর্বাণী’র গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটানো। তাদের লক্ষ্য, ঐ সকল হোটেলে অবস্থানরত বিদেশীরা যাতে বুঝতে পারে যে দেশে একটা যুদ্ধ চলছে। এই যুদ্ধে তিনি তার বাম কানে আঘাতপ্রাপ্ত হন। যা পরবর্তীতে তার শ্রবণক্ষমতায় বিঘ্ন ঘটায়। আজম খান তার সঙ্গীদের নিয়ে পুরোপুরি ঢাকায় প্রবেশ করেন ১৯৭১-এর ডিসেম্বরের মাঝামাঝি। এর আগে তারা মাদারটেকের কাছে ত্রিমোহনীতে সংগঠিত যুদ্ধে পাক সেনাদের পরাজিত করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকায় সংঘটিত কয়েকটি গেরিলা অভিযানে তিনি সক্রিয় অংশ নেন।

৩১ বছর বয়সে “সাহিদা বেগম” এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই কন্যা ও এক পুত্রের জনক। ব্যান্ড গানের পাশাপাশি গডফাদার সিমেমাতে অভিনয় করেন এবং কিছু বিজ্ঞাপনের জন্য মডেলিং এও দেখা যায় এই পপ গুরুকে।

আজম খানের জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে – বাংলাদেশ(রেল লাইনের ঐ বস্তিতে), ওরে সালেকা, ওরে মালেকা, আলাল ও দুলাল, অনামিকা, অভিমানী,আসি আসি বলে ইত্যাদি। তার প্রথম কনসার্ট প্রদর্শিত হয় বাংলাদেশ টেলিভিশনে ১৯৭২ সালে। দীর্ঘদিন যাবত দুরারোগ্য ক্যান্সার ব্যাধির সাথে লড়াই করছিলেন তিনি।  ৫ই জুন, ২০১১ইং তারিখ, রবিবার সকাল ১০টা বেজে ২০ মিনিটে ঢাকাস্থ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন পপ গুরু।

আজ ইতিহাসের এই নায়কের জন্মদিন। হয়তো এখন আর তিনি গাইতে পারেন না”আমি বাংলাদেশের আজম খান,বাংলাতে গাই পপ গান” । কিন্তু বাংলাদেশ সৃষ্টিতে তার অবদান এবং তার গাওয়া গানের মাঝে তিনি অমর হয়ে থাকবেন। পপগুরুর জন্মদিনে বাংলা ইনিশিয়েটর পরিবারের পক্ষ থেকে তার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।