প্রচ্ছদ » বাংলাদেশ » বাংলাদেশের বিলুপ্ত প্রায় ৫ প্রাণী

বাংলাদেশের বিলুপ্ত প্রায় ৫ প্রাণী

প্রকাশ : ৩ মার্চ ২০১৭১১:৫৬:৪১ পূর্বাহ্ন

[pfai pfaic=”fa fa-user fa-spin ” pfaicolr=”” ] নাহিদ হাসান নিলয় | বাংলা ইনিশিয়েটর

একটা সময় ছিল যখন বাংলাদেশ নামটা শুনলেই মনে হতো মানুষের পাশাপাশি এ দেশ বিচিত্র প্রাণীদের আবাসস্থলের জন্য উপযুক্ত। প্রাণিদের কাছেও বোধ করি বাংলাদেশ শব্দটি বেশ আপন মনে হতো। কেননা এতো অসাধারণ প্রাকৃতিক পরিবেশ বিশ্বে খুব কমই দেখা যায়। কিন্তু দিন দিন এই সুখ্যাতি বাংলাদেশ নামের পাশ থেকে ক্রমশই দূরে সরে যাচ্ছে। বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে অনেক প্রাণী। এভাবে চলতে থাকলে এই প্রাণীগুলো আমাদের দেশে আর দেখা যাবে না। মানবসৃষ্ট, প্রাকৃতিক দুই কারণই এদের বিলুপ্তির কারণে দায়ী । আসুন পরিচিত হই কিছু বিলুপ্ত প্রায় প্রাণীর সাথে –

রাজশকুনঃ বিশ্ব প্রেক্ষাপটে একটি বিপন্ন পাখি। একটা সময় ছিল যখন বাংলাদেশে এই পাখিটি অনেক দেখা যেতো। কিন্তু বর্তমানে পাখিটি নেই বললেই চলে। এই পাখিকে ইংরেজিতে বলা হয় Red-headed Vulture or King Vulture। অন্যান্য শকুন হতে এই রাজ শকুন এর কিছুটা প্রার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। এদের মাথা লালচে, পালক কালো। তবে মজার ব্যাপার হলো এদের পুরুষ ও স্ত্রী পাখিদের চেহারা সম্পূর্ণ অভিন্ন। অন্যান্যদের মতো এরা দলবদ্ধ নয়। একবারে একটি মাত্র ডিম পাড়ে এরা। বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী আইনে সংরক্ষিত প্রজাতি এটি।

নীল গাইঃ এটি আমাদের দেশের আর একটি বিলুপ্তপ্রায় স্তন্যপায়ী প্রাণী। ১৯৪০ সালের দিকে তেঁতুলিয়া অঞ্চলের দিকে নীল গাই দেখা যেতো। বর্তমানে এদের দেখা মেলে না। বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত এই প্রাণীটি। এরা সমতল ভূমিতে বাস করে।

ঘড়িয়ালঃঘড়িয়াল বাংলাদেশের একটি অতি বিপদাপন্ন সরীসৃপ প্রাণী। বাংলাদেশ থেকে এটি প্রায় বিলুপ্ত। ভারতের উজান থেকে আসা ঘড়িয়াল কদাচিৎ নদীতে দেখা যায়।এদেরকে ব্রক্ষ্মপুত্র নদে, সিন্দু নদে, গঙ্গা নদে, মহানদীতে (ভারত) পাওয়া যায়। ঘড়িয়াল দ্রুত প্রবাহমান পানিতে বাস করে। পুরুষ ঘড়িয়ালের দৈর্ঘ্য ৬.৫ মি, এবং স্ত্রী ৪.৫ মি। প্রধান খাদ্য মাছ। একবারে ৩০ থেকে ৫০ টি ডিম পাড়ে। সাধারণত জেলেদের মাছ ধরার জালে আটকা পড়ে এদের জীবনাবসান ঘটে এবং এটি এদের বিলুপ্তির একটি বড় কারণ।

শুশুকঃ আগে আমাদের দেশের নদ-নদীগুলোতে অনেক শুশুক দেখা যেতো। এটি একটি স্তন্যপায়ী জলজ প্রাণী। বর্তমানে এটিও বিপন্ন প্রাণী হিসেবে বিবেচিত। আমাদের দেশে মূলত ২ ধরণের শুশুক পাওয়া যায়। এরা দল বেধে চলে।এদের অবশ্য অনেক ধরণের নাম লক্ষ্য করা যায় ।

মিঠাপানির কুমিরঃ বাংলাদেশের প্রাণী হয়েও মিঠাপানির কুমির আজ বিলুপ্ত। প্রাকৃতিকভাবে এদের এখন আর দেখতে পাওয়া যায় না।খান জাহান আলী (র)মাজারের (বাগেরহাট) পুকুরে অবশ্য কয়েকটি কুমির আছে। এদের দৈর্ঘ্য ৩ থেকে ৫ মিটার। নদী-পুকুর এর মিঠা পানিতে বাস করে। এরা সাধারণত নদীর পাড়ে ডিম পাড়ে।দিনে ৫০-৫৫ ডিম দিতে পারে এরা।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।