প্রচ্ছদ » মুক্তমঞ্চ » সম্পাদকীয় » দাঁড়ি ও টুপি সমেত সবাই কি জঙ্গি?

দাঁড়ি ও টুপি সমেত সবাই কি জঙ্গি?

প্রকাশ : ৪ মার্চ ২০১৭৯:১৪:২৮ অপরাহ্ন

এইচ এম ফায়েকুজ্জামান ফাহাদ | বাংলা ইনিশিয়েটর

জঙ্গি বলে আমরা কাদের জানি ? কারা মূলত জঙ্গি ? এই জঙ্গিদের লক্ষণই বা প্রধাণত কীরূপ ? এই রকম প্রশ্ন আমাদের সবার মনে হতেই পারে !

সময়টা এমন হয়ে দাঁডিয়েছে যে, দাঁডি, টুপি, পাঞ্জাবি সমেত সকল মানুষকেই আমরা জঙ্গি বলে ধরে নেই। ধার্মিক পোশাক পরিধান করা মানেই কি জঙ্গিবাদে সামিল হওয়া ? আমাদের সবারই জানা, ফেব্রুয়ারি মাসে বইমেলা থেকে ১৫জন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকে জঙ্গি সন্দেহ করে পুলিশ কর্তৃক ধরে নিয়ে যাওয়া হয় । যাদের মাঝে একজন লেখকও ছিলেন।

কেনো আমাদের এই ভাবনা? কেনো কিছু সংখ্যক মানুষকে আমরা এতো নিকৃষ্ট চোখে দেখি? এটা মূলত আমাদের চিন্তা ধারা! মূলত, আমাদের মাথায় কিছু সংখ্যক টেলিভিশন চ্যানেল বা পত্রিকা এটা ঢুকিয়ে দিয়েছে যে এরাই মূল জঙ্গি! গত ১ তারিখ রাতে বসুন্ধরাতে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে উদাহরণ দিয়েই বলি ।

এক ছাত্রকে পেটানোর বিরুদ্ধে যখন “নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ)” এর শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে লিপ্ত হয় তখন, নিউজ ২৪ এর একজন সাংবাদিক তাকে হঙ্গি হামলা বলে প্রচার করেন। যা আমাদের সবারই জানা। ‘এনএসইউ’ এর কিছু সংখ্যক ছাত্র বিগত বছরে ঢাকার “হলি আর্টিজন রেস্তোরায়” ঘটে যাওয়া জঙ্গি হামলায় সামিল থাকলেও, সেখানে যারা অধ্যয়নরত আছে তারা সবাই কী জঙ্গি? এমন একটা প্রশ্ন বিগত দিনগুলোতে শোনা যাচ্ছে প্রত্যেক ছাত্রের মুখেই ।

একজন ছাত্র তার বন্ধুর উপর হয়ে যাওয়া অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে অন্যান্যদের যোগ দেয়ার অনুরোধ করে যখন ‘ফেসবুক’ এ ভিডিও প্রকাশ করে তখন তাকে জঙ্গি বলে চালিয়ে দেন সেই একই সাংবাদিক। তার মুখে এক গোছা বড় দাঁডি ছিলো বলেই কী সেই ছাত্রটি জঙ্গি! দেশের সুপরিচিত একটি দৈনিকেও একই খবর বেড়িয়েছে।

আমার মতে, এই রকম চিন্তা সম্পন্ন যেসকল ব্যাক্তি আছেন তারাই মূলত জঙ্গি । তাদের অপরাধই সবথেকে বেশি । রিপোর্টারগণ নিজের পরিচিতি বৃদ্ধিতে মই হিসেবে ব্যবহার করছেন শেষপর্যন্ত একদল যুবককে! এতো নিচ তারা কিভাবে হতে পারেন । “সাংবাদিক হবেন সৎ , একজন দ্বায়ত্বশীল ব্যাক্তি !” এরকম বাণীই শুনে এসেছি এতোদিন যাবৎ। তবে কি আপনি সাংবাদিক হয়ে একে ভুল প্রমাণ করতে উঠে-বসে লেগেছেন এটা ধরে নেবো?

আমরা যখন একটা ভুল খবর তৈরি করে নিজের চ্যানেল, পত্রিকার মান বাড়াতে চেষ্টা করছি, তখন কী একবারো চিন্তা করেছে যে ছাত্রকে এভাবে জঙ্গি বানিয়ে দিচ্ছি তা কী হবে? তার পরিবারের কী হবে? তার ভবিষ্যতের উপর এটা কী বিরূপ প্রভাব ফেলবে? আমাদের এসকল কথা ভাবার কোনো প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না!

সকল প্রকার ভুল ধারণা আমাদের মস্তিষ্কে এমনভাবে বাসা বেঁধেছে যে আমরা এখন এরকম কিছু ঘটলেই তাকে জঙ্গিবাদ মনে করে হাজার উম্মাদনা শুরু করে দেই । যা সত্যিকারের অর্থে ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াতে পারে।

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ইনিশিয়েটর-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ইনিশিয়েটর কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।