প্রচ্ছদ » মুক্তমঞ্চ » আমার কথা » নালিশ ও মেয়ে-ছেলে বৈষম্য

নালিশ ও মেয়ে-ছেলে বৈষম্য

প্রকাশ : ৮ মার্চ ২০১৭৬:২০:৪৯ অপরাহ্ন

[pfai pfaic=”fa fa-user fa-spin ” pfaicolr=”” ]নিশি | বাংলা ইনিশিয়েটর

শৈলী আর আদনান দুই ভাইবোন। দুজনেই ইতমধ্যে স্কুলে ভর্তি হয়ে গেছে। শৈলী ক্লাস টু তে আর আদনান ক্লাস ফোরে পড়ে। অন্যসব ভাইবোনদের মতো ওরাও দুজন হৈ হুল্লোড়, খুনসুটি নিয়ে মেতে থাকে। বাবা-মায়ের কাছে নানারকম অদ্ভুত আবদার করতেও তাদের ভুল হয় না।

একদিন আদনান তার বাবার কাছে এসে বলল, এলাকার এক ছেলে নাকি তাকে বেদম মেরেছে। এ কথা শুনে বাবা তো ভীষণ ক্ষেপে গেলেন । এটা কোন কথা হলো!! এতো আদরের ছেলেকে কোথা থেকে কোন ছেলে এসে মেরে দিবে আর বাবা হয়ে তিনি চুপচাপ থাকবে! নাহ এভাবে চুপচাপ বসে থাকলে হবে না। কিছু না কিছু করতেই হবে। ছেলের কথা মতো বাবাও চললেন ঐ দুষ্টু ছেলেকে খুঁজতে। ছেলের সাথে গিয়ে দুষ্টু ছেলেকে খুঁজে পেতে বেশি বেগ পেতে হয় নি দুজনকে। পেয়েই আচ্ছা মতো বকে দিয়ে আসলেন। ঐ ছেলের বাবাকেও বেশ কড়া করে দু কথা শুনিয়ে দিতে ভুল করেন নি তিনি।

কিছুদিন পরের ঘটনা ছোট মেয়ে শৈলী তার মা আর খালামনিকে বললো, মা, আমি যখন ছাদে যাই তখন ৫ তলার আংকেলটা না আমাকে জড়িয়ে ধরে কি যেন করে । বিভিন্ন জায়গায় কেবল হাত দিয়ে বসে। খুব অস্বস্তিকর লাগে মা। খুব খারাপভাবে গায়ে হাত দেয়। মা মেয়ের কথা শুনে কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো। রাতে বাবা এলো। মা সবকিছু খুলে বললেন। অবশেষে স্বিদ্ধান্ত হলো কাল থেকে শৈলীর ছাদে যাওয়া বন্ধ। এ নিয়ে বাবার মাঝে হুলস্থুল কান্ড করে ফেলার কোনো প্রবণতাই দেখা গেল না। বরং মেয়ে যেন কোনোভাবেই ছাদে না যেতে পারে তার উপর তদারকি বেড়ে গেল। এখন প্রতিদিন জানালা দিয়ে আকাশ দেখাই শৈলীর দৈনিক কাজগুলোর মাঝে ঢুকে গেছে।

গল্পের শৈলী হয়তো বাবা মায়ের কাছে সুবিচার পাবার আশায় সবকিছু অপকটে স্বীকার করেছে। কিন্তু সব কিছু বলে দেওয়ায় তো তার ছাদে যাওয়াই বন্ধ হয়ে গেলো। কিন্তু নিচতলার সিক্সে পড়া সামিয়া ছাদে যাওয়া বন্ধ হবার ভয়ে কেউকেই যে কিছু বলতে পারে না।

আমাদের সমাজে এরকম হাজারো সামিহা চোখের সামনে ঘুরোঘুরি করে। লজ্জা, সংকোচে কিছুই বলতে পারে না। আদনানকে যে ছেলেটা পিটিয়েছিলো তার বিচার হয়েছিলো তাই সে হয়তো পরবর্তীতে কাউকে পেটাবার আগে দশবার ভেবে নিবে।

কিন্তু ও লোকটার কি আর কিছু ভাবতে হবে ? একটাবার কি তারা চিন্তা করবে তারা যা করছে তা একটা কচি বাচ্চার মনে কতোটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে দিচ্ছে। তবে তাদের আর দোষ কিভাবে দেই তাদের সবকিছু করবার স্বাধীনতা তো আমরাই নিজ হাতেই তুলে দিয়েছি।

 

 

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।