প্রচ্ছদ » মুক্তমঞ্চ » সম্পাদকীয় » সত্যিকার অর্থেই কি নারীরা সমঅধিকার পাচ্ছে ?

সত্যিকার অর্থেই কি নারীরা সমঅধিকার পাচ্ছে ?

নুহিয়াতুল ইসলাম লাবিব | বাংলা ইনিশিয়েটর

নারী অধিকার বলতে বোঝায়, এক ধরণের স্বাধীনতা যা সকল বয়সের মেয়ে ও নারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।আর নারী ও পুরুষ সমঅধিকার বলতে বোঝায় যে, একজন পুরুষ মানুষ হিসেবে যে অধিকার পাচ্ছে ঠিক একই অধিকার নারীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হচ্ছে। এখন স্বভাবতই মাথায় প্রশ্ন খেলা করে আমরা কি আসলেই নারী পুরুষের মাঝে বৈষম্য দূর করে সমান অধিকার দিতে পারছি??

২০১১ সালের আদুমশুমারী অনুযায়ী আমাদের দেশে পুরুষের সংখ্যা ৭ কোটি ১২ লাখ ৫৫ হাজার এবং নারীর সংখ্যা ৭ কোটি ১০ লাখ ৬৪ হাজার। অতএব দেশের প্রায় অর্ধেকসংখ্যক জনগন হলো নারী। এখন আমরা যদি এই অর্ধেক সংখ্যক নারীদের পুরুষের ন্যায় সমান অধিকার না দিতে পারি তাহলে একটি দেশের উন্নতি আশা করা নিতান্তই ফ্যাকাশে হয়ে যায়।

আমরা যদি আমাদের আশপাশেই একটু ভালো করে তাকাই তাহলেই বুঝতে পারবো তাদেরকে যে শুধু সমঅধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে ব্যাপারটা তা না তাদেরকে তাদের ন্যয্য অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে।আমি জানি আমার কথা শুনে অনেক পুরুষ কিংবা নারীর মধ্যেও প্রশ্নের সঞ্চার হয়েছে তাই আমি আমার কথার কৈফিয়ত দিতে বাধ্য।

আমাদের দৈনিক কোনো না কোনো কাজে প্রায়ই বাসের শরণাপন্ন হতে হয়। একটু দেখেন তো কতোবার আপনাদের চোখের সামনে “সিট নাই” বাক্যটি শুনে নারীদের বাসে উঠা থেকে বিরত থাকতে হচ্ছে? দেশে প্রায় অর্ধেক নারীর বসবাস তাদের জন্য কি একটি বাসে ইঞ্জিনের পাশে চারটি সিট বরাদ্দ রাখা সমঅধিকারের নমুনা? নাকি সেই সিটগুলোও পুরুষদের দ্বারা দখল হয়ে যাওয়া এক ধরণের অধিকারের অন্তর্ভুক্ত? একজন নারী শ্রমিক যখন মাটি কাটায় অংশগ্রহন করেন তখন দিনশেষে তার হাতে ১৫০ টাকা আর একজন পুরুষের হাতে ২০০ টাকা ধরিয়ে দেওয়া আজকাল বেশ সাধারণ ঘটনায় পরিনত হয়েছে।

অন্তত আমার কাছে একেকটি মেয়ে একেকটি প্রজাপতির মতো। প্রজাপতির ডানায় যেমন রঙ বেরঙের কিছু সাজানো থাকে তেমনি একটি ছোট্ট মেয়ের কল্পিত ডানায় থাকে রঙ বেরঙ্গের স্বপ্ন। আর সেই ডানা আমরা মেয়ে বড় হবার সাথে সাথে দুমড়ে মুচড়ে ছিড়ে ফেলি।তারপর পাখাহীন প্রজাপতির মতো মেয়েটা কষ্টে ছটফট করতে থাকে।আমার এসব কথার পেছনে কারণটা কি ?কারণ একটা মেয়ে যখন বাবার কাছে আবদার করে বলে “বাবা, আমি সাকিব আল হাসানের মতো ছক্কা পেটাতে চাই” তখন আমাদের বাবা মা সম্প্রদায় যখনই মুখ কালো করে তার হাতে খেলনা পুতুল কিংবা খেলনা হাড়ি পাতিল ধরিয়ে দিয়ে বলে, “মা তোমার খেলা ওসব না যাও পুতুল খেলো” তখনই তাদের প্রজাপতির কল্পিত স্বপ্নময় পাখাটা ছিড়ে গুড়ো গুড়ো হয়ে যায়। অথচ দেখুন একটা ছেলে কাধে ক্রিকেট ব্যাট নিয়ে যখন আমাদের চোখের সামনে হেলে দুলে যায় তখন কিন্তু আমাদের মনে বিন্দুমাত্র কোনো প্রশ্ন দানা বাঁধতে পারে না। তাহলে সমঅধিকারটা তারা কোথায় পাচ্ছে ?

নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ২৫ নভেম্বরকে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস হিসেবে ঘোষনা করা হয়। অথচ প্রতিদিন রাতে স্বামীর অত্যাচারে কতো নারীর যে চোখের পানি মুছতে হচ্ছে তার খবর আমরা ভদ্র সম্প্রদায় মানতে রাজি না। কারণ এসব কাজ তো আমরাই করি!! জাতিসংঘ ৮ মার্চকে বিশ্ব নারী দিবস হিসেবে ঘোষনা করেছে অথচ এতোসব দিবস থাকা সত্বেও প্রতিনিয়ত তনুর মতো কতো মেয়ের জীবন অকালে ঝরে যাচ্ছে তা আমরাই দেখতে পাই।

সমঅধিকার কেবল চিৎকার করে বললেই হবে না এরজন্য প্রয়োজন এর বাস্তবায়ন।এই দেশের জনগন তো আমরাই । তাই আমরাই যদি সচেতন হই তাহলে কে তাদের সমঅধিকার প্রদানে বাঁধা দিবে বলুন। নারীদেরকে একজন নারী না মানুষ হিসেবে বিবেচনা করতে শিখুন তাহলেই সমঅধিকার বাস্তবায়িত হবে।

 

>