প্রচ্ছদ » উড়াল » সাক্ষাৎকার » কম্পিউটার কিন্তু ছেলে-মেয়ে বোঝে না

কম্পিউটার কিন্তু ছেলে-মেয়ে বোঝে না

প্রকাশ : ৮ মার্চ ২০১৭৮:২০:৪৩ অপরাহ্ন

[pfai pfaic=”fa fa-user fa-spin ” pfaicolr=”” ] সাক্ষাৎকার দল | বাংলা ইনিশিয়েটর

গত ১০,১১ ফেব্রুয়ারি আয়োজিত হয়ে গেল “ন্যাশনাল উইমেন্স হ্যাকাথন চ্যাম্পিয়নশিপ ২০১৭”। সেখানে নিজেদের একটি অ্যাপ প্রদর্শনের মাধ্যমে বিজয়ী হন উম্মে কুলসুম ও তার দল। উম্মে কুলসুম বর্তমানে রাজধানীর ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (উত্তরা শাখা) শিক্ষার্থী। তিনি একই সঙ্গে একজন সমাজকর্মী, বিতার্কিক ও শিক্ষক। তার প্রজেক্টটির নাম ছিল-Play and Learn। সম্প্রতি বাংলা ইনিশিয়েটর এই স্বতঃস্ফূর্ত তরুণীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে । সাক্ষাৎকার দলে ছিল শাফিউল ইসলাম, ইফতেখার তাসনিম ও খাতুনে জান্নাত।

বাংলা ইনিশিয়েটর: আপু কেমন আছেন?

উম্মে কুলসুম: হ্যা ভালো আছি। তোমরা কেমন আছো?

বাংলা ইনিশিয়েটর: হ্যা আমরাও ভালো আছি।  আপনার প্রজেক্ট সম্পর্কে কিছু বলুন।

উম্মে কুলসুম: আমাদের গ্রুপের নাম ছিল Jovial Girls। আর আমাদের প্রজেক্টের নাম ছিল Play and learn।  বাচ্চাদের জন্যই মূলত এই প্রজেক্ট। বাচ্চারা বই পড়তে চায় না, ডিভাইস চায়। আর আমি আমার এই অ্যাপের মাধ্যমে বাচ্চাদের বইয়ের পড়াটা শেখাবো। আমার অ্যাপটা অন্যদের চেয়ে আলাদা ছিল কারণ সেখানে ছিল Education, Play, Entertainment and General Knowledge এই চারটি জিনিসের সমন্বয়ে আমার প্রজেক্ট। চার থেকে চার বছরের উপরের বাচ্চাদের জন্য এই অ্যাপ।

বাংলা ইনিশিয়েটর: আপনার অ্যাপ নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

উম্মে কুলসুম: সরকারের সাহায্যে আমি চাইবো ডিজিটাল ক্লাসরুম করতে, অনলাইন পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করতে। আমরা একটা ওয়েবসাইট করব যেখানে অভিভাবকেরা বাচ্চাদের রেজিস্ট্রেশন করাতে পারবে। এতে একজন অভিভাবক বুঝতে পারবে তার বাচ্চা কতটা শিখতে পারছে এবং আমরা আমাদের অ্যাপে আরও কিছু ফিচার যোগ করব।

বাংলা ইনিশিয়েটর: এই অ্যাপটা কি মার্কেটে এসেছে?

উম্মে কুলসুম: না, এখনো আমরা আমাদের অ্যাপটি মার্কেটে দিইনি। তবে খুব তাড়াতাড়ি দেব।

বাংলা ইনিশিয়েটর: আপনার এরপরের প্রজেক্টগুলোও কি বাচ্চাদের জন্য হবে?

উম্মে কুলসুম: আমার এখনকার প্রজেক্টটা তো একটা Pre school Programme , এরপর আস্তে আস্তে ক্রমান্বয়ে বড়দের দিকে আগাবো।

বাংলা ইনিশিয়েটর: যাদের কাছে ডিভাইস নেই, তারা কীভাবে আপনার অ্যাপের সাথে পরিচিত হবে?

উম্মে কুলসুম: আমি বাংলাদেশ সরকারের কাছে আবেদন করব তিনি যেন বাংলাদেশের প্রাথমিক স্কুলগুলোকে ডিভাইস দেয়, প্রজেক্টর দেয়। আর বাংলাদেশে এমন অনেক এনজিও আছে, যারা সমাজসেবার কাজ করে। তাদের জন্যও অনুরোধ তারা যেন এসব ডিভাইসের সাথে পথশিশুদের পরিচয় করিয়ে দেয়। এতে সবাই আমার অ্যাপের সাথে পরিচিত হতে পারবে।

বাংলা ইনিশিয়েটর: একজন মেয়ে হয়ে কেন হঠাৎ আইসিটিতে আগ্রহী হলেন? এদেশে তো মেয়েদেরকে সাধারণত এসব বিষয়ে নিরুৎসাহিত করা হয়…..

উম্মে কুলসুম: আমি কম্পিউটার ভালোবাসি, চ্যালেঞ্জ ভালোবাসি। তাই সবসময় চেয়েছি অন্যরকম কিছু একটা করতে। আর কম্পিউটার কিন্তু ছেলে-মেয়ে বোঝে না, কম্পিউটার বোঝে তার ভাষা। আমি কম্পিউটারকে যা বলব, সে তাই করবে। অনেক মেয়ে এসব ক্ষেত্রে আগ্রহী হয়না শুধুমাত্র ভয়ের কারণে। আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি মেয়ে হয়ে পুরো দেশ চালাতে পারেন, তাহলে আমি তো দেশের জন্য কিছু করতেই পারি।

বাংলা ইনিশিয়েটর: আপনার প্রজেক্টের মাধ্যমে পথশিশুদের জন্য কিছু করার ইচ্ছা আছে?

উম্মে কুলসুম: আমি নিজে এমনিতেও পথশিশুদের জন্য একটা সংগঠনের সাথে কাজ করি, যার নাম পরিবর্তন চ্যারিটি ফাউন্ডেশন। আমাদের একটি স্কুল আছে যার নাম ‘পরিবর্তন স্কুলঃসুবিধাবঞ্চিত শিশু শিক্ষা কেন্দ্র’। আমাদের স্কুলে ৯০ টা শিশু লেখাপড়া করে। আমি আমার প্রাইজ মানিটা পরিবর্তন পরিবারকে দিতে চাই।

বাংলা ইনিশিয়েটর: কীভাবে আমাদের দেশের মেয়েরা তথ্য-প্রযুক্তিতে এগিয়ে যেতে পারে বলে আপনি মনে করেন?

উম্মে কুলসুম: আগে ভয়কে জয় করতে হবে। এছাড়া সরকারের এধরণের বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন মেয়েদেরকে তথ্য-প্রযুক্তিতে আরও বেশি উৎসাহিত করছে।

বাংলা ইনিশিয়েটর: কোনোরকম ভালোলাগা কিংবা বিড়ম্বনার মুখোমুখি কি হয়েছেন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর? মানে জীবনে কি কোনো পরিবর্তন ঘটেছে?

উম্মে কুলসুম:অনেক পরিবর্তন। সবাই এখন অনেক বেশি উৎসাহিত করছে। আগে যারা অনুৎসাহিত করতো, এখন তারাই ফোন দিয়ে কথা বলছে, উৎসাহিত করছে।

বাংলা ইনিশিয়েটর:মানুষজনকে কম্পিউটারের প্রতি কিংবা আইসিটিতে আগ্রহী করার কি কোনো পরিকল্পনা আছে?

উম্মে কুলসুম: হ্যাঁ। কম্পিউটারের কিছু বিষয় শেখানোর জন্য একটা প্রজেক্ট আমাদের হাতে আছে। কিন্তু আমরা আমাদের ফান্ডের কারণে সেটা করতে পারছি না। আমরা চাই এই কাজে সরকার আমাদের সাহায্য করুক।

বাংলা ইনিশিয়েটর:চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বিভিন্ন জায়গা থেকে সাক্ষাৎকার নিতে আসছে, ব্যাপারটা কেমন লাগছে?

উম্মে কুলসুম: ভালো অবশ্যই লাগছে। কিন্তু এত ফোন, এত সাক্ষাৎকার নিতে আসার কারণে ঘুমাতে পারছি না! (হাসি)

বাংলা ইনিশিয়েটর:ছোটবেলার কোনো মজার ভাবনা কিংবা স্মৃতি কি এখন মনে করতে পারছেন?

উম্মে কুলসুম: ছোটবেলায় খুব আইসক্রীম খেতে পছদ করতাম। কিন্তু মা খেতে দিত না, ঠান্ডা লেগে যাবে বলে। তখন আমি শুনেছিলাম দেশের প্রধানমন্ত্রী নাকি যা ইচ্ছা তাই করতে পারে। সে কারণে ভেবেছিলাম প্রধানমন্ত্রী হব! আরও একটা মজার ভাবনা হলো আমি ছোটবেলায় ভাবতাম একজন আচার বিক্রেতাকে বিয়ে করব। কারণ আচার আমার খুবই পছন্দের খাবার। এখন কোনো আচার বিক্রেতাকে দেখলেই আমার এই কথা মনে পড়ে।

বাংলা ইনিশিয়েটর: পৃথিবীটা যদি হঠাৎ করে তথ্য-প্রযুক্তিহীন হয়ে পড়ে, তখন কী হবে?

উম্মে কুলসুম: যদি ইন্টারনেটের সব স্যাটেলাইট ড্যামেজ হয়ে যায়, যদি সব কম্পিউটার ড্যামেজ হয়ে যায়, সমস্ত ডিভাইস ড্যামেজ হয়ে যায়, তবুও মানুষের ব্রেইন ড্যামেজ হবেনা। তখন হয়তো আমরা অন্যকিছু বানিয়ে ফেলব, আরও ভালো কিছু।

বাংলা ইনিশিয়েটর: এখনকার দিনেও সায়েন্স, কমার্স,আর্টসে পড়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাই করা হয়। এই ব্যাপারে কিছু বলুন।

উম্মে কুলসুম: সবাই সবার ক্ষেত্রে মেধাবী। আমার কাছে সায়েন্স হলো ডাল,কমার্স হলো ভাত আর আর্টস হলো তরকারি। সবকিছুই আমাদের জন্য প্রয়োজনীয়।

বাংলা ইনিশিয়েটর: এখনকার কিশোর – তরুণদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?

উম্মে কুলসুম:তোমার যা করতে ইচ্ছা করে, তাই করো। স্বপ্ন দেখো, চেষ্টা করো।

বাংলা ইনিশিয়েটর: ধন্যবাদ আপনাকে।

উম্মে কুলসুম: তোমাদেরকেও ধন্যবাদ।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।