প্রচ্ছদ » মুক্তমঞ্চ » আমার কথা » লোকাল বাস ও নারী

লোকাল বাস ও নারী

সাদিয়া আক্তার শান্তা | বাংলা ইনিশিয়েটর
সিটিং সার্ভিস, দশ টাকা, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি পনেরো, জিগাতলা, সাইন্সল্যাব, শাহবাগ………বলতে বলতেই বাসটা এসে ব্রেক দিল আমাদের সামনে। আমরা কয়েকজন বান্ধবী ধাক্কাধাক্কির মধ্যেই উঠে পড়লাম। একটি সিটও বাসে খালি নেই। দাঁড়িয়ে যাওয়া ছাড়া আর উপায় দেখছিলাম না। লোকাল বাসে চড়ার অভ্যাস আছে বলে দাঁড়িয়ে যেতে আর তেমন একটা সমস্যা হয় না। আর সমস্যা হলেও কি করে নিজেকে রক্ষা করে মোকাবিলা করতে হয় সেই কৌশল শিখে গেছি।

ততক্ষণে গায়ে বেশ কয়েকটা ধাক্কা লেগে গিয়েছে। চোখ রাঙিয়ে “এক্সকিউজ মি” বলার পর হয়তো সেই কথিত “সমাজকর্তা” পুরুষ মানুষগুলি সরে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু যে ধাক্কা টা লেগে গেল সেটা কি মুছে ফেলা সম্ভব? সম্মান হারানোর পর অন্যের সম্মান ও ছিনিয়ে নেওয়া যায়। কিন্তু নিজের সম্মান আর কি অত সহজে ফিরে পাওয়া যায়? কখনো কখনো লোকাল বাসে আমরা “অবলা” নারীজাতি নিঃসব্দে এসব নিপীড়ন সহ্য করি। কারণ প্রতিবাদেও যে সম্মান হারানোর ভয়। আবার কখনো প্রতিবাদ করি। হায়রে নারী! নাহি পারি হইতে, নাহি পারি বাইতে! কিছু সামাজিক সমস্যা আমাদের আত্মসম্মানে হানা দেয়। তার প্রতিবাদেও সম্মান খোয়া যায়! তাই আমরা মুখে তালা লাগিয়েই থাকি। তাই আমরা “অবলা”।

দোলযাত্রার দিন লোকাল বাসে উঠে বাড়ি যাচ্ছিলাম। মাঝপথে কোলাহল করে বাস থামিয়ে ১০-১২ জন “আধুনিক” ছেলে উঠলো। ওরা রঙ মাখিয়ে রং উড়িয়ে উঠেছে। আমি ভয় পাচ্ছিলাম পাছে না আমার উপর রঙ উড়ে এসে লাগে। বসন্তের সব রঙই যে গায়ে মাখাতে নেই। কিছু রঙ এলার্জির চেয়েও কঠিন রোগের উদ্রেক করে। আমি সেই রঙের ভয়ে পরের স্ট্যান্ডে বাস থেকে নেমে গেলাম। প্রেস ক্লাবের সামনে দেখলাম বিআরটিসি “মহিলাদের জন্য”। ধন্যবাদ জানাই সরকারকে, ধন্যবাদ সড়ল মন্ত্রনালয়কে, ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। “অবলা” নারীর ক্ষোভ উপলব্ধি করে নারীর যাতায়াতের জন্য এত সুন্দর একটি উদ্যোগ নেওয়ার জন্য। এবং সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য।

>