প্রচ্ছদ » বাংলাদেশ » বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস আজ

বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস আজ

প্রকাশ : ২৪ মার্চ ২০১৭১০:৫৪:৩২ পূর্বাহ্ন

[pfai pfaic=”fa fa-user fa-spin ” pfaicolr=”” ]  সাব্বির রায়হান অপি | বাংলা ইনিশিয়েটর

আজ ২৪শে মার্চ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অধীনে ১৯৯৫ সাল থেকে প্রতি বছর এই দিনটি বিশ্ব যক্ষা দিবস হিসাবে পালন করা হয়। সারা বিশ্ব ব্যাপী সবাইকে যক্ষা বিষয়ে সচেতন করাই এ দিবস পালনের প্রধান উদ্দেশ্য। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে “ঐক্যবদ্ধ হলে সবে, যক্ষ্মামুক্ত দেশ হবে”

যক্ষায় আক্রান্ত হওয়া রোগির সংখ্যা বিবেচনায় ২২টি দেশকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এক জড়িপে দেখা গেছে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৭০ হাজার মানুষ যক্ষা রোগে মারা যান। এক লাখ ৫০ হাজার ব্যাক্তি নতুন করে যক্ষায় আক্রান্ত হয়। এ থেকেই বোঝা যায় যক্ষা বাংলাদেশে কতটা ভয়াবহ।

যক্ষা বা Tuberculosis (টিউবার্‌কিউলোসিস বা টিবি) একটি সংক্রামক রোগ যার কারণ মাইকোব্যাক্টেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস (Mycobacterium tuberculosis) নামের জীবাণু। এটি যক্ষ্মা আক্রান্ত ব্যক্তির কফ, হাঁচি, কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি হাসি, কথা বলার মাধ্যমেও এ জীবাণু বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। পরে এ জীবাণু শ্বাসের মাধ্যমে অন্য ব্যক্তির ফুসফুসে প্রবেশ করে। তবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিক থাকলে এতে কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু যদি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা না থাকে তাহলে তার যক্ষা আক্রান্ত হবার ঝুকি থাকে।

যক্ষা রোগের লক্ষনগুলো হল:

-সাধারনত তিন সপ্তাহের বেশি কাশি

-হালকা জ্বর অথবা কিছুক্ষন পরপর জ্বর আসা

-কাশির সাথে কফ এবং মাঝে মাঝে রক্ত বের হওয়া

-ওজন কমে যাওয়া

-বুকে ব্যথা, দুর্বলতা ও ক্ষুধামন্দা

ইত্যাদি লক্ষন দেখে যক্ষা আক্রান্ত কিনা তা বোঝা যায়।

একসময় বলা হত “যক্ষা হলে রক্ষা নেই”। তবে এখন তা একবারেই ভূল। উপরের লক্ষনগুলো দেখা গেলে সাথে সাথে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। এখন বাংলাদেশের সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা সদর হাসপাতাল বক্ষব্যাধি ক্লিনিক, নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সমূহে বিনামূল্যে কফ পরীক্ষা, রোগ নির্ণয়সহ যক্ষার চিকিৎসা করা হয় ও ঔষধ দেয়া হয়।

পূর্ব সতর্কতার মাধ্যমেও যক্ষা প্রতিরোধ করা যায়। তার জন্য যা যা করতে হবে তা হল:

১। জন্মের পর পর প্রত্যেক শিশুকে বিসিজি টিকা দেয়া।

২। হাঁচি-কাশি দেয়ার সময় রুমাল ব্যবহার করা।

৩। যেখানে সেখানে থুথু না ফেলা।

৪। রোগীর কফ থুথু নির্দিষ্ট পাত্রে ফেলে তা মাটিতে পুঁতে ফেলা।

৫। মুখে মাস্ক ব্যবহার করা।

আপনার সচেতনতাই পারে যক্ষামুক্ত দেশ গড়তে।আপনার সচেতনতাই পারে আপনাকে সুস্থ রাখতে।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।