প্রচ্ছদ » উড়াল » তারুণ্য » শোক থেকে শক্তিঃ অদম্য পদযাত্রা ২০১৭

শোক থেকে শক্তিঃ অদম্য পদযাত্রা ২০১৭

  এইচ এম ফায়েকুজ্জামান ফাহাদ(১৬) | বাংলা ইনিশিয়েটর

২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ‘অভিযাত্রি’ নামক সংগঠন আয়োজন করে  অদম্য পদযাত্রার। যার মূল বাক্য ছিলো “শোক থেকে শক্তি”। স্বাধীনতার চেতনাকে জাগিয়ে তুলতে একদল অভিযাত্রি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার হতে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত পায়ে হেঁটে চলার আয়োজন করেন। ২০১৩ সাল থেকেই এই ‘অভিযাত্রি’ সংগঠন  অদম্য পদযাত্রার আয়োজন করে আসছে । গেল বছর অর্থাৎ, ২০১৬ সালে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর পদযাত্রার অংশ হয় এবং পদযাত্রার মুল লক্ষ্য ঠিক করা হয় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মানে অর্থ সংগ্রহ।

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়  ৩৮জন তরুনের একটি দল ছিলো যার নাম  “বিশ্ব বিবেক জাগরণ পদযাত্রা”  যে দল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পায়ে হেটে হেটে পাকিস্তানিদের বর্বরতার কথা প্রচার ও স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে জনমত তৈরীতে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। মূলত এই “বিশ্ব বিবেক জাগরণ পদযাত্রা”  থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে য়ায়োজনটি করা হয়।

২৬শে মার্চ ভোর ছয়টায় জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার দ্বারা শুরু হয় এই আয়োজন। এই পদযাত্রায় অংশগ্রহণে নিবন্ধন করে যুক্ত হতে হয়েছে সবাইকে । শহীদ মিনার হতে শুরু করে ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্ত থেকে  দলে দলে যোগদান করে অনেকেই। নতুন প্রজন্মের অনেকেই অদম্য পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করেছে । প্রধানত এই পদযাত্রার বিষয় ছিলো মুক্তিযুদ্ধকে জানা। স্বাধীনতা একদিনে আসে নি, এই শিক্ষা দিতেই আয়োজন করা হয় এই পদযাত্রা। মুক্তিযোদ্ধারা পায়ে হেটে বিভিন্ন দূর্গম এলাকায় ঘুরেছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন অপারেশনের জন্য। নতুন প্রজন্ম যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখে নি তাদের সেই বিষয় সম্পর্কে জানানোই ছিলো এই পদযাত্রার মূখ্য উদ্দেশ্য ।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার হতে সাভার স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত পথচলায় তারা বিচরণ করে বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানে। যা মুক্তিযুদ্ধের সাথে জড়িয়ে আছে এক গভীর বন্ধনে। মূল পদযাত্রা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত হলেও “মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মানে হাটি এক মাইল” এই স্লোগানে যাত্রা শুরু হয়।

এই পদযাত্রায় স্বেচ্ছা-সেবক হিসেবে কাজ করে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।  শহীদ মিনার ও শিখা চিরন্তন ক্যাম্পের দায়িত্বে ছিলো বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীগণ। সিটি কলেজ ক্যাম্পে ছিলো সিটি কলেজের শিক্ষার্থীগণ। সরকারী শারীরিক শিক্ষা কলেজ, রায়েরবাজার বধ্যভূমি এবং জাতীয় স্মৃতিসৌধে ছিলো বাংলা ইনিশিয়েটরের শিশু-কিশোর স্বেচ্ছা-সেবকগণ। জাহাঙ্গীরগর বিশেবিদ্যালয় শহীদ মিনার ক্যাম্পে ছিলো জাহাঙ্গীরগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীগণ। এভাবেই তরূণ প্রজন্মের সহযোগীতায় সফল হয় এই অদম্য পদযাত্রা।

পথে পথে গান গেয়ে সবাইকে উৎসাহিত করে আয়োজকরা। যার দ্বারা আগ্রহ নিয়ে শেষ পর্যন্ত পথে চলেছে অনেকেই।

জাতীয় শহীদ মিনার থেকে জগন্নাথ হল, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা চিরন্তন, কাটাবন, সাইন্সল্যাব, পিলখানা, মোহম্মদপুর, রায়েরবাজার  বুদ্ধীজীবী স্মৃতিসৌধে পৌঁছায় এই পদযাত্রা। তারপর, রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে এক মিনিট নীরবতা পালন ও  শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে এগিয়ে যায় পদযাত্রা। সর্বশেষ সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে শেষ হয় এই যাত্রা।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।