বই পরিচয়- শী

এইচ এম ফায়েকুজ্জামান ফাহাদ(১৬) | বাংলা ইনিশিয়েটর

বইয়ের নামঃ শী

লেখকের নামঃ স্যার হ্যানরি রাইডার হ্যাগার্ড

প্রকাশকঃ কাজী আনোয়ার হোসেন

প্রকাশনীঃ সেবা প্রকাশনী

প্রথম প্রকাশঃ ১৯৮৫

সালকাহিনী সংক্ষেপঃ হোরেস হলি। ক্যাম্ব্রিজের এক বাসায় বসবাস তার। দেখতে কুৎসিত, মোটা। তার বন্ধু ভিনসি প্রাচীন মিশরের দেবী আইসিসের পুজারী ক্যালিক্রেটিসের বংশধর। এক রহস্য উম্মোচনে আফ্রিকার উপকূলে যান তিনি। সেই রহস্য সমাধান করতে তিনি ব্যর্থ হওয়ায় সে দায়িত্ব পরে তার পুত্র লিও ভিনসির উপর। লিও পাঁচ বছরের বাচ্চা হওয়ায় তার দ্বায়িত্ব দেয়া হয় হোরেস হলিকে। এবং সেই সাথে হলির বন্ধু তাকে একটা প্রাচীন বাক্স হাতে দেন। এবং বলেন, “লিওর বয়স ২৫ হলে তার হাতে যাবে এই বাক্স। সে যদি ভেতরের প্রমাণ পড়ে রহস্য উম্মোচনে যেতে চায় তবে যাবে নয়তো পুড়ে দিতে হবে সব। এই শর্তে হোরেস হলে রাজি হয় লিও ভিনসির দায়িত্ব।

লিও ভিনসির পঁচিশতম জন্মদিনে সেই বাক্সের তালার চাবি দেয়া হয় তার হাতে। এবং খুলে সে হাতে পায় এক চিঠি।মিশরের ফারাও বংশের মেয়ে আমেনার্তাস তার স্বামী হত্যার বিরূদ্ধে প্রতিশোধ নিতে তার সন্তানের উদ্দেশ্যে লিখে যান এক চিঠি। চিঠির মূলভাবঃ মিশরের দেবী আইসিসের পুজারী ক্যালিক্রেটিস, ফারাও বংশের মেয়ে আমেনার্তাস কে বিবাহ করার জন্যে তাঁর পুরোহিতের ব্রত ভঙ্গ করে মিশর থেকে পালিয়ে যাইয় তাঁরা। অতঃপর অনেকদিন বাদে আফ্রিকার এক উপকূলে পৌঁছায় তারা। সেখান থেকে জংলিরা ধরে নিয়ে যায় তাদের। প্রায় দশদিন চলার পর পৌঁছায় এক পাহাড়ের কাছে। যেখানে এক সময় বিশাল এক নগড় ছিলো এখন এক ধ্বংসস্তুপ মাত্র। জংলিরা আমেনার্তাস ও ক্যালিক্রেটিস কে নিয়ে যায় তাদের রানীর কাছে। সেই পাহাড়ের রানী ক্যালিক্রেটিসের দিকে ভালবাসার দৃষ্টিতে তাকায় এবং সে আমেনার্তাসকে হত্যা করে হাসিল করে নিয়ে চায় সৌন্দর্যমন্ডিত ক্যালিক্রেটিসকে। পাহাড়ের ওই রানী ছিলো অমর। তার সৌন্দর্য্য পৃথিবীর সেরা। প্রাণের আগুনে স্নান করিয়ে অমরত্ম দান করতে চায় সে ক্যালিক্রেটিসকে অতঃপর বিবাহ করতে চান। কিন্তু ক্যালিক্রেটিস আমেনার্তাসকে ভালোবাসতো বলে ভয় পেতো রানীর কথায়। কিন্তু একদিন আচমকা রানী তাঁদের নিয়ে যান সেই প্রাণের আগুনের নিকট। কিন্তু যখন ক্যালিক্রেটিস অসম্মতি জানালো তখন সেই রানী হত্যা করে আমেনার্তাস ও ক্যালিক্রেটিসকে। এবং এই খুনের প্রতিশোধ নেয়ার জন্যেই আমেনার্তাস তাঁর পুত্র টিসেসথেনেসকে উদ্দেশ্য করে লিখে যান এই চিঠি।

লিও সম্পূর্ণ চিঠি পড়ে আগ্রহী হয় সেই প্রাচীন রহস্য উম্মোচন করতে। সে যাবে এই অভিযানে। হোরেস হলি একে মিথ্যা ভাবেন। তিনি অভিযানে যেতে না চাইলেও পরে যখন লিও মনস্থির করে তখন হলিও অভিযানে যেতে অযুহাত দেন।

অতঃপর একদিন তারা বেড়িয়ে পরেন আফ্রিকার উপকূলিয় অঞ্চলের উদ্দেশ্যে। হোরেস হলি, লিও ভিনসি এবং তাদের ভৃত্য জব। তারা চলেছেন প্রাচীন রহস্য উম্মোচন করতে। তা চলেছেন পাহার, নদীপথ, সমুদ্র এর শত বাধা উপেক্ষা করে। শুধুমাত্র সেই রানির খোঁজে। অমর সেই রানীর খোঁজ। দু’হাজার বছর অতিক্রান্ত হবার পরও কী তারা খুঁজে পাবে সেই রানীকে? নাকি মারা পরবে জংলীদের হাতে? অথবা কোনো সামুদ্রিক ঝড়ে। জানতে হলে পড়তে হবে “শী” বইটি।

পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ প্রথমত এই বইটা একটা সত্য ঘটনা নিয়ে। তাই এখানে যে ইতিহাসের কথা বলা হয়েছে লেখক সেটা নিজে যাচাই করে দেখেই সত্য হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, স্যার হ্যানরি রাইডার হ্যাগার্ড এই বইয়ের লেখক না তিনি সম্পাদক। আসল লেখকের নাম গোপণ রাখা হয়েছে বিধায় তার নামে ছাপা হয় এই বই। তবে, বইয়ের শুরুতে সম্পাদকের একটা খোলা চিঠি আছে। যা পড়ে জানতে পারবেন সমক্য বিষয়।
বইয়ের প্রতিটি পৃষ্ঠায় আকর্ষন রয়েছে। যা স্যার হ্যানরির সকল বইয়েই থাকে । যথারীতি আছে পাঠককে শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত ধড়ে রাখার প্রবণতা।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।