প্রচ্ছদ » অনিয়ম » নির্মানাধীন ভবন যেনো এখন মৃত্যুফাঁদ !

নির্মানাধীন ভবন যেনো এখন মৃত্যুফাঁদ !

প্রকাশ : ৯ এপ্রিল ২০১৭১০:৪৩:৩৯ অপরাহ্ন

[pfai pfaic=”fa fauser fa-spin ” pfaicolr=”” ]মোঃ আল আমিন তালুকদার | বাংলা ইনিশিয়েটর
ঢাকা শহর বেশ  জনবহুল শহরই বলা চলে। প্রত্যেকটি জায়গাতেই যেন পিঁপড়ার মতো হাজার হাজার মানুষের বসবাস। জনবহুল শহর বলতেই যে সকল নাম চোখে ভাসে তার মাঝে   মিরপুর অন্যতম।

মিরপুর এলাকাটা ঘুরলে দেখা যায় হাজার হাজার ইটপাথরে তৈরী উঁচু-নিচু দালান। এসব ব্যাঙের ছাতার মতো গজানো ভবনগুলো যাদের শ্রম ও ত্যাগের ফলে সৃষ্ট, তাদের মধ্যে একজন নির্মাণ শ্রমিক রবিন(কাল্পনিক)। দুই ভাই আর চার বোনের মধ্যে রবিন বড়। বলতে গেলে উপার্জনক্ষম একমাত্র ব্যাক্তি সে নিজেই। পেটের দায়ে ও পরিবারের মুখের দিকে তাকিয়ে লেখাপড়া না জানা দুমুঠো অন্নজোগানের দায়ে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। কিন্তু তার মুখে শোনা গেলো সে কতটা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে। নির্মান কাজ যে এতটা সহজ কাজ নয়, তা রবিনের কথা শুনেই বোঝা গেলো। চূড়ান্ত পর্যায়ে ঝুঁকি নিয়ে তারা কাজ করে, যেকোন মূহুর্তে ঘটতে পারে মৃত্যু। এবং অহরহ ঘটছেও… মাঝে মধ্যে নাকি একটা মাত্র রশির উপর তাদের জীবন-মরণ নির্ভর করে। কর্তৃপক্ষকে তারা সেইফটি বেল্ট এর কথা বললে সে ব্যাপারে কাজ নেয় না। কারণ নাকি এতোদিন এভাবেই চলে এসেছে, আর তাদেরও এভাবেই চলতে হবে।

যাদের অধ্যাবসায়ে এসব ভবন নির্মিত হয়, এখানে তাদের নিরাপত্তাই যেন বেশী উপেক্ষিত। তাইতো বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কিংবা বহুতল ভবন থেকে পড়ে অহরহ মৃত্যু ঘটছে নির্মান শ্রমিকদের। বাংলাদেশ অকুপেশনাল সেইফটি, হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্ট (ওশি) ফাউন্ডেশনের এক সমীক্ষা প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে গত বছর নির্মানখাতে কর্মক্ষেত্রে মারা গেছে ১৭২ জন শ্রমিক। সমীক্ষার প্রতিবেদন অনুযায়ী বিগত কয়েক বছরে শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে- ২০১৪- ১৬৫ জন ২০১৩ – ১৭৫ জন ২০১২ -১৭৫ জন ২০১১ – ১১৬ জন ২০১০ – ১৩৮ জন ২০০৯ – ১০৬ জন ২০০৮ – ১৩৬ জন ২০০৭ – ১২২ জন ২০০৬ ১৬৩ জন ২০০৫ – ৮০ জন মোট এক হাজার ৫৪৮ জন নিহত ও ১৫৭৪ জন আহত এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে ১৩১৮৪ জন। সংশ্লিষ্টদের মতে যা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এছাড়াও নিত্যদিন নির্মানাধীন ভবনের নিচে পথচারী মৃত্যুর মতো ঘটনা তো ঘটছেই। ভবন মালিক ও ডেভেলপার-রা যদি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ১৬৭ নম্বর কনভেনশন ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নীতিমালা-২০১৩ প্রয়োগ করা গেলে হয়তো এই অবস্থা থেকে পরিত্রান মিলবে এমনটাই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।