প্রচ্ছদ » অনিয়ম » উন্নয়নের ধুলোয় ধূসরিত রাজধানীবাসী

উন্নয়নের ধুলোয় ধূসরিত রাজধানীবাসী

মেহেদী হাসান রুমী | বাংলা ইনিশিয়েটর

রাজধানীতে শুরু হয়েছে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ। কোথাও সড়ক সংস্কার করা হচ্ছে, আবার কোথাও নর্দমা পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি চলছে সেবা সংস্থার ভূগর্ভস্থ লাইন স্থানান্তর এবং বিভিন্ন অবকাঠামোর নির্মাণকাজ। সব কাজের জন্যই খোঁড়া হচ্ছে রাস্তা। তাতেই রাজধানীর সড়কগুলো হয়ে উঠেছে ধূলিময়।

দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায়, এই আবহাওয়াতে ধুলায় অতিষ্ঠ রাজধানী বাসী। দেখা দিয়েছে স্বাস্থ্যগত নানা সমস্যা। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৭০ কিলোমিটার সড়ক, ২০৩ কিলোমিটার ফুটপাত, ২৪৬ কিলোমিটার নর্দমা উন্নয়নের কাজ চলছে। দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ৫০ কিলোমিটার সড়ক, ৫৪ কিলোমিটার নর্দমা ও ১৪ কিলোমিটার ফুটপাত উন্নয়ন কাজ চালাচ্ছে। এসব কাজের জন্য রাস্তা ও নর্দমা খোঁড়া হচ্ছে।  এতে ধুলোয় ধূসরিত হচ্ছে উন্নয়ন কাজ চলা এলাকাগুলো।

মেট্রোরেল নির্মাণে আগারগাঁও থেকে মিরপুর-১০ নম্বর পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ বিদ্যুতের তার স্থানান্তরে কাজ চলছে গত ১ নভেম্বর থেকে। মেট্রোরেলের ১৬টি স্টেশন এলাকার ভূগর্ভস্থ গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, টেলিফোন ও ইন্টারনেটের লাইন সরানো হচ্ছে। এর জন্যে কাটা হয়েছে রাস্তা। ধুলা ঠেকাতে নির্মাণকাজ চলাকালে পানি ছিটানোর নির্দেশ রয়েছে। তবে সিটি করপোরেশনের এ নির্দেশ কোনো ঠিকাদারই মানেন নি , তাই রাজধানীর কোথাও দেখা যায়নি পানি ছিটানোর এই ব্যবস্থা।

রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বরে পানি,গ্যাস ও ইন্টারনেট সংযোগ স্থানান্তরিত করার জন্য চার ফুট গভীর গর্ত খোঁড়া হয় রাস্তার এক পাশে। তার বসিয়ে গর্ত বন্ধও করা হয়েছে অনেক আগেই। কিন্তু গর্তের ওপর পিচঢালাই না করায় ধুলায় নাকাল এই এলাকার বাসিন্দা ও যাত্রীরা। এমনিতেই মিরপুরের এলাকা গুলোতে ধুলার অত্যাচার অন্য এলাকা গুলোর চেয়ে একটু বেশি। ওয়াসা থেকে গর্ত খোঁড়ার পর, গাড়ি চলাচলে তা এখন অসহনীয় পর্যায়ে পৌছে গেসে। দিনের বেলায় ধুলাবালিতে সৃষ্টি হয় ঘন ধোঁয়াশা। এই ধোঁয়াশায় ১০০ ফুট দূরের জিনিসও দেখা যায় না।

মিরপুর ১০ নম্বরে বাসস্যান্ডের একটু দূরেই বসা এক চায়ের দোকানি বলেন, “ধুলার কথা কী আর কমু। দোকানে কোনো খাওয়ার জিনিস রাখা যায় না। কাস্টমারও আসে না”। পরিস্থিতি এতটা খারাপ না হলেও ধুলায় ভুগতে হচ্ছে মিরপুরবাসীকে। মেট্রোরেল নির্মাণে বৈদ্যুতিক লাইন সরানোর কাজ শুরুর থেকেই এ অবস্থা। তবে এখানে, গর্ত খোঁড়া মাটি রাস্তায় রাখা হয় না। তারপরও গাড়ির চলাচলে বাতাসে গর্ত থেকে যে পরিমাণ ধুলা ওড়ে তা মানুষের জন্য অস্বস্তির। এবারের শুষ্ক মৌসুমে তা আরও বেড়েছে।

বাংলা ইনিশিয়েটর/১৮ এপ্রিল ২০১৭/এসএসকে/রুমী

>