প্রচ্ছদ » মুক্তমঞ্চ » আমার কথা » গুলিস্তানের সেই রাস্তার টানে…

গুলিস্তানের সেই রাস্তার টানে…

মো. মোস্তফা মুশফিক তালুকদার | বাংলা ইনিশিয়েটর

গুলিস্তান হতে যেই গলিটা রাজউক ভবনেদের দিকে মোড় নেয় সেদিক দিয়েই আসছিলাম আমি আর আম্মু, সারাবিকেল ভরে কিছু ইলেক্ট্রনিক্সের জিনিশ আর আমার সাইন্স প্রজেক্টের কিছু যন্ত্রপাতি কেনা শেষে গল্প করতে করতে বাড়ি ফিরছিলাম, আমাদের সাথে সাথে ক্লান্ত পাখিরাও বাড়ি ফিরছিলো, আকাশে লাল এক আভা বিরাজমান আর চারিদিকে হালকা ঠাণ্ডাভাব, যেন কিচ্ছুক্ষণ পর ই বৃষ্টি আসবে।

হঠাৎ দূর থেকে চোখে পড়লো এক ভিখারিনী মহিলাকে, সাধারনত এমন ভিখারিনী চোখে পড়ে না, এক্ষেত্রে ব্যাতিক্রমতা বর্ণনার পূর্বে সেই দৃশ্যটির বর্ণনা দিই, তার জামাটা খুব ময়লা পোশাকাদি তার, সামনে শোয়া রুগ্ন ছেলে, পেছনে একটা বস্তা, হাতের সামনে একটা স্টিলের থালা, আর পাশে শোয়া একটা কুকুর, সাধারণত আমাদের দেশে ভিখারিনীদের এমন পোষ্য প্রাণী কখনোই দেখা মেলে না, দেখলাম তিনি হাতে একটা ময়লা, পুরোনো ভাংগা পাখা দিয়ে বাতাস করে চলছেন, একবার বাতাস করেন তার সন্তানকে, একবার ঘুমন্ত কুকুরটাকে দূর থেলে অপলক দৃষ্টি আমার ছিলো শুধু সেদিকেই, তার এই বাতাস কোনো সাধারণ বাতাস না, এ এক ভালোবাসার মায়ের অসীম মমতাময়ী বাতাস, তার সন্তানের প্রতি তার যা ভালোবাসা, পোষ্য কুকুরটার ক্ষেত্রেও কম নয়। উভয়ের ই তার কাছে সমান অধিকার। দেখে সত্যিই অভিভূত হলাম।

আমি এগিয়ে গেলাম তার কাছে, আমার সাথে তখন কোনো ক্যামেরা নেই। স্কুল থেকে সোজা ওদিকে যাওয়ায় সাথে নেই আমার মোটোমোটি ভালো ক্যামেরা সম্পন্ন ফোনটাও, তাই সম্বল হলো আম্মুর পুরনো ফোনটিই। আমি ছবি তোলার আগে আম্মু বললো,”যাও গিয়ে পারমিশন নিয়ে আসো”। আমি গিয়ে বললাম, ” আন্টি, একটা ছবি তুলি?” তিনি আমার উদ্দেশ্যে হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়লেন। আমি সদ্য ক্রয়কৃত ভিডিও স্যান্ড বের করে, দুটো ছবি তুললাম। ছবি তোলা শেষে আম্মু একটা কয়েন বের করে সেটি দিয়ে আসতে বললেন। আমি কয়েনটি স্টিলের থালায় ফেললাম। একটা শব্দ হলো, কুকুরটার ঘুম ভাংগলো, সে আমার দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে একপলক তাকালো, আমিও তাকালাম, আমাদের উভয়ের চোখ একদিকে হলো, আর কিছু না বলে ওখান থেকে চলে আসলাম, আর অনেকদিন সে ঘটনা নিয়ে ভাবতে থাকলাম, যা চলেছে এখনো, এই লেখাগুলো লিপিবদ্ধ করার সময়ভর….

 

বাংলা ইনিশিয়েটর/১৮ এপ্রিল ২০১৭/ এসএসকে/ মুশফিক

>