প্রচ্ছদ » মুক্তমঞ্চ » সম্পাদকীয় » স্বশিক্ষিত হওয়া আর শিক্ষিত হওয়া এক নয় !

স্বশিক্ষিত হওয়া আর শিক্ষিত হওয়া এক নয় !

প্রকাশ : ২ মে ২০১৭১২:৫৯:১০ অপরাহ্ন

[pfai pfaic=”fa fauser fa-spin ” pfaicolr=”” ] শাফিন রাহমান | বাংলা ইনিশিয়েটর
একজনের জীবনের একটা বড় সময় যায় নিজেদের শৈশবের মধ্য দিয়ে। সেখান থেকে তারা শিখে কিভাবে একজন আদর্শ মানুষে পরিনত হওয়া যায়। স্বাধীন পাখির মতো আকাশে উড়ে বেরানো, কাঠ ফাটা দুপুরে নদীতে ঝাপাঝাপি করে বেড়ানোর কথা অনেকেরই মনে পরে যায় বর্তমান সচেতন সমাজের ব্যাক্তিবর্গের। তারা বর্তমান শৈশব প্রজন্ম নিয়ে কষ্ট প্রকাশ করেছেন। আসুন দেখে নেয়া যাক বর্তমান সমাজের সচেতন ব্যাক্তি বর্গ কি মনে করেন এই নিয়ে।

মিরপুর এলাকার একটি স্কুলের ইংরেজী সাহিত্যের শিক্ষককে এই সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তার মন্তব্য ছিলো অনেকটা এই রকম-

“আমরা প্রকৃতি দেখেছি। একসাথে সবাই মিলে পুকুরে,নদীতে ঝাপাঝাপি করেছি। ঝড়ের সময় আমতলায় গিয়ে আম কুড়িয়েছি। বর্তমান প্রজন্ম সেগুলো কল্পনাও করে কিনা সন্দেহ। আজকাল সবাই বাসায় বসে থাকে। এর কৃতিত্ব টা দিতে হয় অবশ্যই মোবাইল,কম্পিউটারকে। আমরা শিখেছি প্রকৃতি দেখে। এখন এই প্রকৃতি দেখে শেখার সুযোগ না থাকলেও অন্য দিকে সুযোগ অনেক বেশি হয়েছে। কো-কারিকুলার বিষয় গুলো আগে খুবি কম ছিলো ,এখন তা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। সেখান থেকে জ্ঞানার্জন করতে পারলেও অনেক। দেশে বর্তমানে অনেক সেমিনা,সভা হয়ে থাকে। বিভিন্ন শিশু কিশোর প্ল্যাটফর্ম তৈরী হয়েছে।তবে দুঃখের বিষয় হলো এগুলো শুধু রাজধানীতে প্রভাব ফেললেও রাজধানীর গন্ডি পেরিয়ে অন্য জেলা শহর গুলোতে এখনো খুব ভালো ভাবে পৌছাতে পারেনি। তবে যখনই কোনো সুযোগ আসবে প্রকৃতি দেখে শেখার চেষ্টা টা চালিয়ে যেতে হবে। স্কুলের পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্র হিসেবে বাহিরের এ সব বিষয়ও চিন্তায় রাখতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার একটি অংশ মাত্র। আসল শিক্ষা সবার নিজেদের কেই নিতে হবে”।

প্রকৌশল শফিকুর রহমানের বক্তব্য কিছুটা এমন হলেও ছিলো কিছু ভিন্নতা ।তিনি বলেন, “বর্তমানে সবাই ছুটছে রেজাল্টের পেছনে । জিপিএ ৫ পাওয়া চাইচাই। কিন্তু কেউই আর সত্যিকার অর্থে শিখতে চায় না। যেটা তার পরবর্তী জীবনে কাজে লাগবে। শিক্ষা মানুষকে দূর দৃষ্টি দেয় ,তবে বর্তমান প্রজন্ম দূর দৃষ্টির কতো টুকু পাচ্ছে সে সম্পর্কে সন্দেহ আছে। আমরা সকাল সকাল উঠে ফুটবল খেলতাম,দৌড়ঝাপ করতাম আরোও কতো কি! আর এখন তো ছেলেপেলেরা ঘুম থেকেই ওঠে বেশ বেলা করে । তারপর এইখানে প্রাইভেট অইখানে প্রাইভেট সাথে থাকে স্কুল ।এসব করে তারা খেলার সুযোগের সাথে আগ্রহও হারিয়ে ফেলে। তাদের নিজেদের কাছেই তখন মনে হয় পরীক্ষায় ভালো নম্বর না আনতে পারলে তো আমার জীবন ব্যর্থ। অবশ্যই পরীক্ষায় ভালো ফল করতে হবে কিন্তু তাই বলে যে খেলা ধুলা বন্ধ করে দিয়ে করতে হবে তা না। সব কিছুই করতে হবে নাইলে পরে গিয়ে তারাই আফসোস করবে”।

বর্তমান প্রজন্মের সাহিত্যিক নারী কবি নাসরিন আক্তারের কাছে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তার মন্তব্য ছিলো কিছু টা এই রকম, “আমি অবশ্যই কখনো চাইবো না আমার সন্তান সারাদিন টেবিলে মুখ বুজে রেখে পড়ুক। হ্যা, অবশ্যই পড়ার দরকার আছে। নিজের ভেতরের আসল সত্ত্বা কে জাগিয়ে তুলতে পড়াশোনার থেকে ভালো কোন বিকল্প আমি দেখি না। কিন্তু এখন আর কয়জন সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে পড়ে? সবাই এখন ব্যস্ত স্কুলের পরীক্ষায় বেশি নাম্বার পাওয়ার জন্য। একজন কিশোরের স্কুলের পড়াশোনার পাশাপাশি অন্য বাহিরের বই পড়ার সাথে অন্যান্য আউট ডর এক্টিভিটিজের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রাখা উচিত। সকল মা-বাবা কেই এরকম মনোভাব নিয়ে তাদের সন্তানকে বড় করে তোলা উচিত। যারা এখন পড়ছে শুধু স্কুলের পরীক্ষায় ভালো করার জন্য তাদের কে ভবিষ্যতে জ্ঞ্যান অক্ষর সম্পন্ন ছাড়া আর কিছুই বলা যাবে কিনা তা এখন বলা যাচ্ছে না। তারা হয়তো ভালো মাইনের চাকরি করবে কিন্তু তাদের অন্য কোন জ্ঞ্যান থাকবে না। সকল মা-বাবার এই বিষয়কে মাথায় রেখে তাদের সন্তানকে বড় করতে হবে”।

শিক্ষা গ্রহন অবশ্যই আবশ্যক।তবে সেটা যেনো হয় সঠিক ব্যবহারের জন্য। পড়াশোনা করতে হবে সাথে সাথে বাইরে থেকেও আমাদের শিক্ষা গ্রহন করতে হবে। স্বপ্ন দেখতে হবে বড় হওয়ার, বড়মাপের মানুষ হওয়ার ।শিক্ষা যেনো এমন না হয় যাতে সে পাঠ্যবইয়ের একের পর কে শব্দ গ্রহন করতে করতে বাহিরের আকাশে উড়ে যাওয়া পাখিই না দেখতে পায়।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।