প্রচ্ছদ » বাংলাদেশ » আজকের দিনে নিখোজ হন দানবীর আর. পি. সাহা

আজকের দিনে নিখোজ হন দানবীর আর. পি. সাহা

  সাব্বির রায়হান অপি | বাংলা ইনিশিয়েটর

আজ ৭ মে। ১৯৭১ সালের আজকের দিনে চিরদিনের জন্য এই পৃথিবীকে বিদায় জানিয়েছিলেন বিখ্যাত সমাজসেবক, উদ্যোক্তা, দানবীর, শিক্ষানুরাগী, রণদাপ্রসাদ সাহা। মূলত, আর. পি. সাহা নামেই তিনি বেশি পরিচিত।

রণদাপ্রসাদ সাহা ১৮৯৬ সালের ১৫ নভেম্বর ঢাকা জেলার উপকন্ঠ সাভারের কাছুর গ্রামে মাতুলালয়ে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম দেবেন্দ্রনাথ সাহা পোদ্দার এবং মাতার নাম কুমুদিনী দেবী। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল টাঙ্গাইল জেলার মীর্জাপুরে। চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত তিনি সেখানেই অধ্যায়ন করেন। চৌদ্দ বছর বয়সে বাড়ি থেকে পালিয়ে কলকাতা চলে যান রণদা। সেখানে গিয়ে জীবিকা নির্বাহের উদ্দেশ্যে মুটের কাজসহ বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত হন।

এরই মধ্যে স্বদেশী আন্দোলনে যোগদান করে কয়েকবার কারাবরণ করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় বেঙ্গল অ্যাম্বুলেন্স করে যোগ দিয়ে মেসোপটমিয়ায় যান। সেখানে তিনি হাসপাতালে এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রোগীদের জীবন বাঁচালে তাকে নবপ্রতিষ্ঠিত (১৯১৬) বেঙ্গল রেজিমেন্টে কমিশন প্রদান করা হয়। যুদ্ধ শেষ হলে ১৯১৯ সালে পঞ্চম জর্জের সাথে সাক্ষাতের আমন্ত্রণে ইংল্যান্ড সফর করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে সেনাবাহিনী ত্যাগ করে, রেলওয়ে বিভাগে টিকেট কালেক্টরের চাকরি নেন। পরবর্তীতে ১৯৩২ সালে চাকরিতে ইস্তফা দেন তিনি। উপার্জিত ও সঞ্চিত অর্থ দিয়ে কয়লার ব্যবসা শুরু করেন। চার বছরে ব্যবসায়িক সাফল্যের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। এ সময়ে দ্য বেঙ্গল রিভার সার্ভিস কোম্পানি নামে নৌ-পরিবহন সংস্থা এবং নৌ-পরিবহন বীমা কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৪২ – ১৯৪৩ সালে সরকারের খাদ্য-শস্য ক্রয়ের প্রতিনিধি নিযুক্ত হন তিনি ১৯৪৪ সালে নারায়ণগঞ্জে পাটের ব্যবসায় নামেন এবং জর্জ এন্ডারসনের কাছ থেকে “জুট প্রেসিং বিজনেস” এবং “গোডাউন ফর জুট স্টোরিং” ক্রয় করে নেন। এরপরে নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লায় ইংরেজদের মালিকানাধীন তিনটি পাওয়ার হাউস ক্রয় করেন। চামড়ার ব্যবসাও শুরু করেন এই সময়।

তার কাজের জন্য তাকে দানবীর বলা হয়। এছাড়া তৎকালীন বৃটিশ সরকার তাকে “রায় বাহাদুর” খেতাব প্রদান করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ সরকার মানবসেবায় অসামান্য অবদানের জন্য তাকে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে এপ্রিল মাসে পাকহানাদার বাহিনী আর. পি. সাহাকে তুলে নিয়ে যায়। এক সপ্তাহ পর বাড়ী ফিরে আসলেও পুণরায় ৭ মে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তার আর কোনো খবর পাওয়া যায় নি।

তিনি চলে গেছেন তবে রেখে গেছেন অসামান্য অবদান। যার জন্য আজও তাকে শ্রদ্ধা ভরে স্মরন করা হয়। তিনি অনন্তকাল বেঁচে থাকবেন আমাদের অন্তরে।

>