প্রচ্ছদ » Uncategorized » আজ ২৫শে বৈশাখ, কবিগুরুর জন্মদিন

আজ ২৫শে বৈশাখ, কবিগুরুর জন্মদিন

প্রকাশ : ৮ মে ২০১৭১:২৪:১৮ অপরাহ্ন

[pfai pfaic=”fa fa-user fa-spin ” pfaicolr=”” ]  সাব্বির রায়হান অপি | বাংলা ইনিশিয়েটর

আজ ২৫ বৈশাখ, ১২৬৮ বঙ্গাব্দে আজকের দিনে পশ্চিমবঙ্গের জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহন করে একটি ছোট শিশু। পরবর্তী কালে এই শিশুটিই হয়ে ওঠে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। রবীন্দ্রনাথ ছিলেন পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মাতা সারদাসুন্দরী দেবীর চতুর্দশ সন্তান। তার ছদ্মনাম ছিল ভানুসিংহ ঠাকুর (ভণিতা)।

১৮৬১ সালের ৭ই মে জন্মগ্রহন করা রবীন্দ্রনাথ ছিলেন অগ্রণী বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী ও দার্শনিক। তাঁকে বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক মনে করা হয়। বাল্যকালে প্রথাগত বিদ্যালয় শিক্ষা তিনি গ্রহণ করেননি। গৃহশিক্ষক রেখে বাড়িতেই তাঁর শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আট বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। ১৮৭৪ সালে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা-এ তাঁর “অভিলাষ” কবিতাটি প্রকাশিত হয়। এটিই ছিল তাঁর প্রথম প্রকাশিত রচনা।

রবীন্দ্রনাথের ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস ও ৩৬টি প্রবন্ধ ও অন্যান্য গদ্যসংকলন তাঁর জীবদ্দশায় বা মৃত্যুর অব্যবহিত পরে প্রকাশিত হয়। তাঁর সর্বমোট ৯৫টি ছোটগল্প ও ১৯১৫টি গান যথাক্রমে গল্পগুচ্ছ ও গীতবিতান সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় প্রকাশিত ও গ্রন্থাকারে অপ্রকাশিত রচনা ৩২ খণ্ডে রবীন্দ্র রচনাবলী নামে প্রকাশিত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় পত্রসাহিত্য উনিশ খণ্ডে চিঠিপত্র ও চারটি পৃথক গ্রন্থে প্রকাশিত। এছাড়া তিনি প্রায় দুই হাজার ছবি এঁকেছিলেন।

১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলিকাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। রবীন্দ্রনাথকে গুরুদেব, কবিগুরু ও বিশ্বকবি অভিধায় ভূষিত করা হয়। রবীন্দ্রনাথের কীর্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম হল তাঁর রচিত আমার সোনার বাংলা ও জনগণমন অধিনায়ক জয় হে গানদুটি যথাক্রমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ ওভারতীয় প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সংগীত। তাঁর প্রবর্তিত নৃত্যশৈলী “রবীন্দ্রনৃত্য” নামে পরিচিত। তার কিছু সেরা উপন্যাস হল: বৌ-ঠাকুরাণীর হাট (১৮৮৩), রাজর্ষি (১৮৮৭), চোখের বালি (১৯০৩), নৌকাডুবি (১৯০৬), প্রজাপতির নির্বন্ধ (১৯০৮), গোরা (১৯১০), ঘরে বাইরে (১৯১৬), যোগাযোগ (১৯২৯), শেষের কবিতা (১৯২৯), দুই বোন (১৯৩৩), মালঞ্চ (১৯৩৪) ইত্যাদি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গল্প হল “কঙ্কাল”, “নিশীথে”, “মণিহারা”, “ক্ষুধিত পাষাণ”, “স্ত্রীর পত্র”, “নষ্টনীড়”, “কাবুলিওয়ালা”, “হৈমন্তী”, “দেনাপাওনা”, “মুসলমানীর গল্প” ইত্যাদি।

রবীন্দ্রনাথের কবিতাগুলোর মধ্যে সোনার তরী (১৮৯৪), চিত্রা (১৮৯৬), চৈতালি (১৮৯৬), কল্পনা (১৯০০), ক্ষণিকা (১৯০০), নৈবেদ্য (১৯০১), খেয়া (১৯০৬), গীতাঞ্জলি (১৯১০), গীতিমাল্য (১৯১৪), গীতালি (১৯১৪), বলাকা (১৯১৬), পলাতকা (১৯১৮), পূরবী (১৯২৫), মহুয়া (১৯২৯), পুনশ্চ (১৯৩২), শেষ সপ্তক (১৯৩৫), পত্রপুট (১৯৩৬), শ্যামলী (১৯৩৬), রোগশয্যায় (১৯৪০), আরোগ্য (১৯৪১), জন্মদিনে (১৯৪১) ও শেষ লেখা (১৯৪১)।

নাটকগুলির মধ্যে রয়েছে হল: শারদোৎসব (১৯০৮), রাজা (১৯১০), ডাকঘর (১৯১২), অচলায়তন (১৯১২), ফাল্গুনী (১৯১৬), মুক্তধারা (১৯২২), রক্তকরবী (১৯২৬), তাসের দেশ (১৯৩৩), কালের যাত্রা (১৯৩২) ইত্যাদি।

দীর্ঘ রোগে ভোগের পর কলকাতার পৈত্রিক বাসভবনেই ৭ আগস্টের ১৯৪১ সালে ৮০ বছর বয়সে এই মহান ব্যাক্তিটি পৃথিবীকে বিদায় জানান। তবে তার বাংলা সাহিত্যে তার অবদান তাকে বাঁচিয়ে রাখবে আজীবন।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।