প্রচ্ছদ » বাংলাদেশ » কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য’র মৃত্যুবার্ষিকী আজ

কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য’র মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশ : ১৩ মে ২০১৭৩:৫১:৩৩ অপরাহ্ন

[pfai pfaic=”fa fa-user fa-spin ” pfaicolr=”” ] সাব্বির রায়হান অপি | বাংলা ইনিশিয়েটর

আজ ১৩ই মে। ১৯৪৭ সালের আজকের দিনে মৃত্যুবরন করেন প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি, সুকান্ত ভট্টাচার্য। একাধারে বিপ্লবী ও স্বাধীনতার আপোসহীন সংগ্রামী কবি ছিলেন সুকান্ত। মাত্র ২১ বছরের জীবনে কবিতা ছাড়াও, গান, গল্প, নাটক এবং প্রবন্ধে তাঁর ছিলো অবাধ বিচরণ।

কলকাতার কালীঘাটের মহিম হালদার স্ট্রীটের বাড়ীতে ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট তার জন্ম। পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার, (বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলার) কোটালীপাড়া উপজেলার, উনশিয়া গ্রামের এক নিম্নবিত্ত পরিবারে তিনি বড় হন। অল্প বয়সেই হারিয়েছেন মা, সুনীতি দেবীকে। এরপর অভিভাবক বলতে ছিলেন শুধু পিতা-নিবারন ভট্টাচার্য। তবে বাল্যবন্ধু কবি অরুনাচল বসুর মাতা কবি সরলা বসুর কাছ থেকে পেয়েছেন মাতৃস্নেহ।

১৯৪৫ সালে বেলেঘাটা দেশবন্ধ স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে অকৃতকার্য হলে আনুষ্ঠানিক শিক্ষার সমাপ্তি ঘটে। আট-নয় বছর বয়স থেকেই লিখতে শুরু করা সুকান্ত স্কুলের হাতে লেখা পত্রিকা ‘সঞ্চয়ে’ একটি ছোট্ট হাসির গল্প লিখে আত্মপ্রকাশ করেন। এরপর তার একের পর এক লেখা ছাঁপতে শুরু করে। মার্কসবাদী চেতনায় আস্থাশীল কবি হিসেবে সুকান্ত কবিতা লিখে বাংলা সাহিত্যে স্বতন্ত্র স্থান করে নেন। তাঁর রচনাবলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো: ছাড়পত্র (১৯৪৭), পূর্বাভাস (১৯৫০), মিঠেকড়া (১৯৫১), অভিযান (১৯৫৩), ঘুম নেই (১৯৫৪), হরতাল (১৯৬২), গীতিগুচ্ছ (১৯৬৫) প্রভৃতি।

পরাধীন দেশের দুঃখ দুর্দশাজনিত বেদনা এবং শোষণ মুক্ত স্বাধীন সমাজের স্বপ্ন, শোষিত মানুষের কর্ম জীবন এবং ভবিষ্যৎ পৃথিবীর জন্য সংগ্রাম তাঁর কবিতায় ফুটে উঠেছে বারবার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, তেতাল্লিশের মম্বন্তর, ফ্যাসিবাদী আগ্রাসন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রভৃতির বিরুদ্ধে তিনি লেখালেখি শুরু করেন। যার ফলস্বরুপ তিনি ১৯৪৪ সালে তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন। পার্টি ও সংগঠনের কাজে অত্যধিক পরিশ্রমের ফলে প্রথম ম্যালেরিয়া ও পরে দুরারোগ্য ক্ষয়রোগে আক্রান্ত হয়ে পরেন ২১ বছর বয়সি সুকান্ত। ১৩ই মে, কলিকাতার ১১৯ লাউডট ট্রিষ্ট্রের রেড এড কিওর হোমে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

মাত্র ৬ বছর লেখালেখি করে নিজেকে কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন। তাঁর রচনা পরিসরের দিক থেকে স্বল্প অথচ তা ব্যাপ্তির দিক থেকে সুদূরপ্রসারী।

ছাড়পত্র, আগামী, রবীন্দ্রনাথের প্রতি, প্রার্থী, সিঁড়ি, কলম, চিল, মজুরদের ঝড়, বোধন, আঠারো বছর বয়স, ঘুম নেই, পরিখা, সব্যসাচী, অভিবাদন, সূচনা, নিভৃত, রোম, পূর্বাভাস, প্রতিদ্বন্দ্বী, মুহূর্ত, পরাভব, হদিশ, অভিযান, সূর্যপ্রনাম, মিঠে-কড়া, রেশনকার্ড, ব্ল্যাক-মার্কেট, সিপাহী বিদ্রোহ, হরতাল, রাখাল ছেলে, আকাল এর মত অসংখ্য গ্রণ্থের জন্য আমরা আজও তাকে শ্রদ্ধা ভরে স্মরন করি।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।