প্রচ্ছদ » অনিয়ম » ওভারব্রীজের ব্যবহার যখন বদলে যায়!

ওভারব্রীজের ব্যবহার যখন বদলে যায়!

খাতুনে জান্নাত, বাংলা ইনিশিয়েটর

পথচারীদের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে রাজধানীর বেশিরভাগ ব্যস্ত সড়কের উপরেই চোখে পড়ে  বিভিন্ন ফুট ওভারব্রীজ। অনেকক্ষেত্রে ব্যস্ত সড়কে কিছুদূর পর পরই থাকে একটি করে ওভারব্রীজ কিংবা আন্ডারপাস। কিন্তু বর্তমানে এসব ওভারব্রীজের ব্যবহারই বলতে গেলে বদলে গেছে। এখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় মানুষ ওভারব্রীজ থাকা সত্ত্বেও রাস্তা পার হয়ে যায় আর আর ওভারব্রীজ থাকে বখাটেদের দখলে!

২০১২ সালে রাজধানীর মিরপুর ১৪ নম্বর সড়কে সিদরাতুল মুনতাহা নামে দ্বিতীয় শ্রেণি পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী সড়ক দূর্ঘটনায় প্রাণ হারায়। এই দূর্ঘটনার পর ওই এলাকার জনগণের দাবী একটিই ছিল একটিই-ওখানে একটি ওভারব্রীজ করে দেয়া লাগবে। কারণ এই ব্যস্ত রাস্তা পার হতে গেলে যেকোন সময় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। এই ঘটনার দুই বছর পর ২০১৪ সালে মিরপুর ১৪ এর শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজ সংলগ্ন রাস্তায় একটি ওভারব্রীজ করে দেয়া হয়। কিন্তু আজ অধিকাংশ পথচারী পারাপার হয় রাস্তা দিয়ে,যার ফলে স্কুল ও কলেজ ছুটির পর রাস্তাটিতে প্রচুর যানজটের সৃষ্টি হয়। এবং ওভারব্রীজটি ব্যবহৃত হচ্ছে আড্ডার স্থান হিসেবে।

শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজের শিক্ষাথী তাকিয়াকে (ছদ্মনাম) এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে সে বলে, “কীভাবে ওভারব্রীজ দিয়ে যাব? ছুটি হলে যদি কখনো ওভারব্রীজ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি তো ছেলেরা অনেক ডিস্টার্ব করে, বাজে মন্তব্য করে, শিস দেয়। ওরা এতজন থাকে যে প্রতিবাদ করার সাহস পাইনা। এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার চেয়ে রাস্তা পার হয়ে যাওয়া অনেক ভালো।” তাছাড়া ওই কলেজের বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের মতে, “ওভারব্রীজ দিয়ে রাস্তা পার হওয়া অনেক কষ্টের। এর চেয়ে রাস্তা দিয়ে পার হওয়া ভালো। এতে সময়ও কম যায়।”

রাজধানীর মিরপুর ১৩ নম্বরে গেলেই চোখে পড়ে বিশাল এক ওভারব্রীজের। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোন মানুষকে ওই ওভারব্রীজে উঠতে দেখা গেছে কিনা তা নিয়ে এলাকার মানুষ যথেষ্ট সন্দিহান। মিরপুর ১৩ এর এই ওভারব্রীজে রাত হলেই শুরু হয় বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য সেবন। তাছাড়া বখাটেদের উৎপাতের কারণে এই ওভারব্রীজে উঠতে মানুষের মধ্যে এক ধরণের ভয় কাজ করে। সাধারণ মানুষের এই দূরে সরে যাওয়া ধীরে ধীরে এই ওভারব্রীজকে প্রকাশ্য সন্ত্রসীর আখড়া বানিয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে বেশিরভাগ ওভারব্রীজের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে নির্মাণ হওয়ার আগে পর্যন্তই জনগণের মধ্যে এ নিয়ে আগ্রহ কিংবা উৎসাহ থাকে। কিন্তু নির্মাণ হওয়ার পর সেই ওভারব্রীজ দিয়ে খুব বেশি মানুষ রাস্তা পার হন না। যার ফলে ওভারব্রীজ পরিণত হয় একটি আড্ডাখানায় এবং তখন চাইলেই তা আর ব্যবহার করা যায় না। এই সমস্ত ওভারব্রীজে অনেকসময় ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটে। ওভারব্রীজ মানুষের রাস্তা পারাপারের জন্য। কিন্তু বর্তমানে এর ব্যবহারই বদলে যাচ্ছে। যার ফলে প্রতিনিয়তই ঘটছে বিভিন্ন সড়ক দূর্ঘটনা। কঠিন আইনী ব্যবস্থার মাধ্যমে হোক কিংবা গণসচেতনতার মাধ্যমে-এ অবস্থায় ওভারব্রীজের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা খুবই জরুরী হয়ে পড়েছে।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।