“মা”

প্রকাশ : ২৫ মে ২০১৭৭:৫২:০৩ অপরাহ্ন

[pfai pfaic=”fa fauser fa-spin ” pfaicolr=”” ] খাতুনে জান্নাত, বাংলা ইনিশিয়েটর

 

বই পরিচিতিঃ “মা” ; লেখকঃ আনিসুল হক

প্রকাশকঃ সময় প্রকাশনী

পৃষ্ঠাঃ ২৬৮

ধরণঃ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্প

প্রথম প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ২০০৩

 

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এদেশে যত গল্প-উপন্যাস লেখা হয়েছে, আনিসুল হকের ‘মা’ তার মধ্যে অন্যতম। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ আজাদের মায়ের জীবনী অবলম্বনে লেখা এ উপন্যাস সর্বস্তরের পাঠকের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। বলা হয় আনিসুল হকের এ যাবৎকালের শ্রেষ্ঠ রচনা হলো ‘মা’।

উপন্যাসে লেখকের চোখে মুক্তিযুদ্ধের চেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে একজন শহীদের মায়ের জীবন, কীভাবে সারাজীবন সংগ্রাম করে একজন মা নিজের ছেলেকে প্রতিষ্ঠিত করে তোলে, তারপর মহান মুক্তিযু্দ্ধে দেশ মা-কে রক্ষা করার জন্য যু্দ্ধে পাঠিয়ে দেন সেই ছেলেকে। এই একজন মা যেন প্রতিনিধিত্ব করছে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া লক্ষ লক্ষ শহীদের মাকে;এই একটি উপন্যাস পড়লেই বোঝা যায় শুধু ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তেই ভেজা নয় এদেশের মাটি, ত্রিশ লক্ষ শহীদের ত্রিশ লক্ষ মায়ের চোখের জলও মিশে আছে এ মাটি জুড়ে,তাদের হাহাকার মিশে আছে এদেশের আকাশ-বাতাসে।

উপন্যাসের শুরুতে আজাদের মা অর্থাৎ মোসাম্মৎ সাফিয়া বেগমের জীবনের সুখী অধ্যায় দেখতে পাওয়া যায়। পূর্ব পাকিস্তানের ক্ষমতাশালী ব্যক্তি ইউসুফ চৌধুরীর স্ত্রী সাফিয়া বেগম। একমাত্র ছেলে আজাদ। সংসারে সুখের কোন কমতি ছিল না। কিন্তু আকস্মিক এক ঘটনায় আজাদকে নিয়ে সাফিয়া বেগম ইউনুস চৌধুরীকে ছেড়ে নিজেদের ফরাশগঞ্জের বাড়িতে ওঠেন। তখন থেকেই শুরু হয় আজাদের মায়ের সংগ্রাম। এর মধ্যে তার বোনও মারা যায়। ফলে বোনের সন্তানদের দায়িত্বও তারই তুলে নিতে হয়। শত আর্থিক কষ্টের মধ্যেও তিনি ইউসুফ চৌধুরীর কাছে ফিরে যান নি। বরং আজাদকে মানুষের মতল মানুষ করেছেন। সেই আজাদ যখন একাত্তরে যুদ্ধ করতে যেতে চাইলো,তখন তিনি তাকে যু্দ্ধে পাঠালেন। একসময় আজাদ পাকিস্তানিদের হাতে বন্দী হলো। তাকে পাকিস্তানীরা নিয়ে গেলেন যাতে তিনি আজাদকে বোঝান রাজসাক্ষী হতে,তাহলে আজাদকে ছেড়ে দেয়া হবে। তিনি গিয়ে বললেন, “শক্ত থাকো বাবা। এদের কাছে কোন কিছু স্বীকার করবে না।” আজাদ সেদিন তার কাছে ভাত খেতে চেয়েছিল। পরদিন তিনি ভাত নিয়ে গিয়েছিলেন ঠিকই,কিন্তু আজাদকে আর পাননি। আজাদ আর কোনদিন ফিরে আসেনি। আজাদকে ভাত খাওয়াতে পারেননি বলে সাফিয়া বেগমও আর কোনদিন ভাত খাননি।

আজাদের মৃত্যুর পর ১৪ বছর বেঁচে ছিলেন তিনি,কিন্তু এক দানা ভাত মুখে দেননি। একবেলা রুটি খেয়ে থেকেছেন। ‘মা’ উপন্যাসটি নিয়ে আনিসুজ্জামান, সরদার ফজলুল করিম, মুহম্মদ জাফর ইকবাল প্রভৃতি গুণীজনের মন্তব্যও এই উপন্যাসে পাওয়া যাবে। আনিসুল হক যাদের সাথে কথা বলে এবং যেসব বই থেকে তথ্য সংগ্রহ করে উপন্যাসটি লিখেছেন সেসবের তালিকাও পাওয়া যাবে উপন্যাসের শেষে। মুক্তিযুদ্ধের সময় এদেশের হতভাগ্য মায়েদের কষ্ট কিছুটা হলেও আন্দাজ করা যাবে বইটি পড়লে। কিছুটা হলেও বোঝা যাবে,একাত্তর খুব সহজ ছিল না।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।