প্রচ্ছদ » বাংলাদেশ » আজ বিদ্রোহী কবির ১১৮ তম জন্মদিন

আজ বিদ্রোহী কবির ১১৮ তম জন্মদিন

সাব্বির রায়হান অপি | বাংলা ইনিশিয়েটর

“আমি চির বিদ্রোহী বীর –
বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির উন্নত শির!”

বিদ্রোহী কবির এই বিদ্রোহী লাইন দুটি আজো আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়। আজ ২৫ মে। ১৮৯৯ সালের আজকের দিনেই পৃথিবীতে জন্ম নেয় দুখু মিয়া নামে এমন একটি শিশু পরবর্তি সে হয়ে ওঠে আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

আজকের দিনে পশ্চিমবঙ্গের চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহন করেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম জনপ্রিয় অগ্রণী বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সঙ্গীতজ্ঞ ও দার্শনিক কাজী নজরুল ইসলাম। কাজী ফকির আহমদের দ্বিতীয় স্ত্রী জাহেদা খাতুনের ষষ্ঠ সন্তান নজরুল। তার কঠিন জীবন শুরু হয় যখন ১৯০৮ সালে তাঁর পিতার মৃত্যু হয়। বয়স ছিল মাত্র নয় বছর। পারিবারিক অভাব-অনটনের কারণে তাঁর শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত হয়।  দশ বছর বয়সেই জীবিকা অর্জনের যুদ্ধে নামেন। মসজিদে মুয়াজ্জিন, মক্তবে শিক্ষকতা, হাজি পালোয়ানের কবরের সেবক হিসাবে কাজ শুরু করেন। তিনিই বাংলা সাহিত্যে ইসলামী চেতনার চর্চা শুরু করেছেন বলা যায়।

বাল্য বয়সেই লোক সংগীতের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে একটি লেটো দলে যোগ দেন। এই দলের সাথে তিনি বিভিন্ন স্থানে যেতেন, তাদের সাথে অভিনয় শিখতেন এবং তাদের নাটকের জন্য গান ও কবিতা লিখতেন। এরমধ্যে চাষার সঙ, শকুনীবধ, রাজা যুধিষ্ঠিরের সঙ, দাতা কর্ণ, আকবর বাদশাহ, কবি কালিদাস, বিদ্যাভূতুম, রাজপুত্রের গান, বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ এবং মেঘনাদ বধ। নজরুল কালীদেবীকে নিয়ে প্রচুর শ্যামা সঙ্গীত ও রচনা করেন। এভাবেই জীবন সংগ্রামে বেঁচে থাকেন নজরুল।

১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের শেষদিকে নজরুল সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। সৈনিক থাকা অবস্থায় তিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেন।পরবর্তীতে তিনি সাংবাদিক হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন।

১৯২১ সালের এপ্রিল-জুন মাসের দিকে নজরুল মুসলিম সাহিত্য সমিতির অফিসে গ্রন্থ প্রকাশক আলী আকবর খানের সাথে পরিচিত হন। এসময় তিনি বিরজাসুন্দরী দেবীর বাড়িতে আসেন। আর এখানেই পরিচিত হন প্রমীলা দেবীর সাথে যার সাথে তার প্রথমে প্রেম ও পরে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন।

নজরুল সাম্যবাদের একজন অগ্রদূত ছিলেন। তার কাছে মানুষ সবার আগে ছিলো। তিনি মুসলিম হয়েও চার সন্তানের নাম হিন্দু এবং মুসলিম উভয় নামেই নামকরণ করেন। যেমন: কৃষ্ণ মুহাম্মদ, অরিন্দম খালেদ (বুলবুল), কাজী সব্যসাচী এবং কাজী অনিরুদ্ধ।
নজরুল তার শেষ ভাষনে তাই বলেছিলেন – “কেউ বলেন আমার বানী যবন কেউ বলেন কাফের। আমি বলি ও দুটোর কোনটাই না। আমি শুধু হিন্দু মুসলিমকে এক জায়গায় ধরে নিয়ে হ্যান্ডশেক করানোর চেষ্টা করেছি, গালাগালিকে গলাগলিতে পরিণত করার চেষ্টা করেছি।”

১৯৭২ খ্রিস্টাব্দের ২৪ মে তারিখে ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে কবি নজরুলকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে নজরুলকে স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।

নজরুলের গানের সংখ্যা চার হাজারের অধিক। যা নজরুল সঙ্গীত নামে পরিচিত। এছাড়া গদ্য রচনা, গল্প, উপন্যাস, কবিতা তার অবদান সবারই জানা।

১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এতে তিনি বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন। তাঁর অসুস্থতা সম্বন্ধে সুষ্পষ্টরূপে জানা যায় ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসে। এরপর তাঁকে মূলতহোমিওপ্যাথি এবং আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা করানো হয়। কিন্তু এতে তার অবস্থার তেমন কোন উন্নতি হয়নি। একসময় মানসিক ভারসাম্য হারিয়়ে ফেলেন। ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দের ২৯ আগস্ট তারিখে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। নজরুল তাঁর একটি গানে লিখেছেন, “মসজিদেরই কাছে আমায় কবর দিয়ো ভাই / যেন গোরের থেকে মুয়াজ্জিনের আযান শুনতে পাই”। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে সমাধিস্থ করা হয়।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।