প্রচ্ছদ » বাংলাদেশ » নজরুল সম্পর্কে ১০ টি অজানা তথ্য

নজরুল সম্পর্কে ১০ টি অজানা তথ্য

 ইমতিয়াজ কবির প্রত্যয় | বাংলা ইনিশিয়েটর

২৫ শে মে দিনটি অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মানুষের জন্য সাধারণ হলেও বাঙালি জাতির জন্য বিশেষ। দিনটি বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি কাজী নজরুলের জন্মদিন।

বিংশশতাব্দীর বাংলা মননে কাজী নজরুল ইসলামের মর্যাদা ও গুরুত্ব অপরিসীম। একাধারে কবি, সাহিত্যিক, সংগীতজ্ঞ, সাংবাদিক, সম্পাদক, রাজনীতিবিদ এবং সৈনিক হিসেবে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে নজরুল সর্বদাই ছিলেন সোচ্চার। তাঁর কবিতা ও গানে এই মনোভাবই প্রতিফলিত হয়েছে। অগ্নিবীণা হাতে তাঁর প্রবেশ, ধূমকেতুর মতো তাঁর প্রকাশ। যেমন লেখাতে বিদ্রোহী, তেমনই জীবনে- কাজেই “বিদ্রোহী কবি”

কবি নজরুল নিয়ে আমরা সবাই কম বেশি জানি। তবুও আমাদের অজানা কিছু তথ্য নিয়ে লিখছি।

* ১৯৭২ সালের ২৪শে মে কবি নজরুলকে বাংলাদেশের জাতীয় কবি ঘোষণা করা হয়।

* নজরুলের বিখ্যাত ‘বিদ্রোহী’ কবিতার ইংরেজি অনুবাদ করেন ড. জসীম উদ্দীন আহমেদ।

* ‘বিদ্রোহী’ কবিতার স্মৃতি কবির দরিরামপুরের বিশেষ ঘটনা থেকে নেয়া।

* ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ কবিতাটি লিখার ফলে তাকে প্রথমবার কারাবরণ করতে হয়।

*নজরুলের প্রথম গদ্য রচনা ছিল “বাউণ্ডুলের আত্মকাহিনী”। ১৯১৯ সালের মে মাসে এটি সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সৈনিক থাকা অবস্থায় করাচি সেনানিবাসে বসে এটি রচনা করেছিলেন।

*১৩২৭ বঙ্গাব্দের সওগাত পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় তার প্রথম গান প্রকাশিত হয়। গানটি ছিল: “বাজাও প্রভু বাজাও ঘন”।

* তাঁর জানাজার নামাজে ১০ হাজারের মত মানুষ অংশ নেয়। জানাজা নামায আদায়ের পর রাষ্ট্রপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম, মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, রিয়াল এডমিরাল এম এইচ খান, এয়ার ভাইস মার্শাল এ জি মাহমুদ, মেজর জেনারেল দস্তগীর জাতীয় পতাকামণ্ডিত নজরুলের মরদেহ বহন করে সোহরাওয়ার্দী ময়দান থেকে বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ প্রাঙ্গনে নিয়ে যান।

* বাংলাদেশে তাঁর মৃত্যু উপলক্ষে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোক দিবস পালিত হয়। আর ভারতের আইনসভায় কবির সম্মানে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

* বাংলা সাহিত্য এবং সংস্কৃতিতে তাঁর বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দের ৯ ডিসেম্বর তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সমাবর্তনে তাঁকে এই উপাধি প্রদান করা হয়। ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করে। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।

* ১৯৪৫ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক বাংলা সাহিত্যের সর্বোচ্চ পুরস্কার জগত্তারিণী স্বর্ণপদক নজরুলকে প্রদান করা হয়। ১৯৬০ সালে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মভূষণে ভূষিত করা হয়।উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলায় অবস্থিত নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রাজধানী কলকাতার যোগাযোগ-রক্ষাকারী প্রধান সড়কটির নাম রাখা হয়েছে কাজী নজরুল ইসলাম সরণি। কলকাতা মেট্রোর গড়িয়া বাজার মেট্রো স্টেশনটির নাম রাখা হয়েছে “কবি নজরুল মেট্রো স্টেশন”।

* ১৯৪২ সালে তিনি তার বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন এবং একই বছরের জুলাই মাসে তিনি মস্তিষ্কের ভারসাম্য হারান। তবুও তিনি এ অবস্থায় ৮ লাইনের একটি কবিতা রচনা করেছিলেন।

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।