প্রচ্ছদ » খেলাধুলা » অস্ট্রেলিয়া দলের অনন্য রত্ন ছিলেন মাইক হাসি

অস্ট্রেলিয়া দলের অনন্য রত্ন ছিলেন মাইক হাসি

নুহিয়াতুল ইসলাম লাবিব, বাংলা ইনিশিয়েটর


মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবেই মূলত তিনি পরিচিত, তবে মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে আজ পর্যন্ত তো অনেকেই খেলেছেন কয়জনের কথাই বা ক্রিকেটবিশ্ব মনে রেখেছে ? মিডল অর্ডারে নেমে একজন ব্যাটসম্যান যে কতোটা বিধ্বংসী হতে পারে তাই মূলত দেখিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যেই নিশ্চয় কার কথা বলছি তা ভাবতে ভাবতে কপালে চিন্তার ভাঁজ পরে গিয়েছে, বলছি অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার মাইক হাসির কথা, যিনি কি না একাধারে আট বছর বিশ্বস্ত প্রহরীর মতো অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে অবদান রেখে গিয়েছেন।

জাতীয় দলে যেমনটি বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান হিসেবে ছিলেন ঠিক তেমনটিই বিধ্বংসী ছিলেন ঘরোয়া ক্রিকেটেও। বেশ দাপুটে ব্যাটিং করবার জন্যই মূলত অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ডের নজর কাড়ে মাইক।

ঘরোয়া ক্রিকেটে শুরুটা হয়েছিল ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ান ওরিওর্স দলটির মাধ্যমে। লো অর্ডারে ব্যাটিং করলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে রান্যের বন্যায় ভাসিয়েছেন প্রতিপক্ষকে।একটা নমুনা দিয়েই ব্যাপারটা পরিষ্কার করা যাক, ঘরোয়া ক্রিকেটে তার সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটি ছিল ৩২৯ রানের!

দীর্ঘদিন ঘরোয়া ক্রিকেট ও লিস্ট এ ক্রিকেটে পারফর্ম করলেও অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলে সুযোগ পেতে তাকে অপেক্ষা করতে হয় ২০০৪ সাল পর্যন্ত।অভিষেক ম্যাচটি ছিল উপমহাদেশের অন্যতম পরাশক্তি ভারতের বিপক্ষে। অভিষেক ম্যাচটি যেন মনের মতোই হয়েছিল মাইকের জন্য, ব্যাক্তিগত ১৭ রান করে অপরাজিত থেকে অজিদের পাঁচ উইকেটের বিশাল জয়ের শেষ ছোঁয়াটি এসেছিল বামহাতি এ ব্যাটসম্যানের ব্যাট থেকেই।

অভিষেকের পর থেকেই অস্ট্রেলিয়া দলে নিয়মিত মুখ হিসেবেই ছিলেন বামহাতি এ ব্যাটসম্যান। দীর্ঘ নয় বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ওয়ানডে খেলেছেন ১৮৫ টি অন্যদিকে টেস্ট এবং টি টুয়েন্টি খেলেছেন যথাক্রমে ৭৮ ও ৩৮ টি। সব ধরণের ক্রিকেট খেললেও টেস্টেই তাঁর ব্যাট হেসেছিল একাধিকবার। ৭৯ টেস্টে ৫১.৫২ গড়ে করেছেন ৬২৩৫ রান ! তবে দুর্ভাগ্য টেস্ট ক্যারিয়ারে ১৯ বার শতকের দেখা পেলেও ডাবল সেঞ্চুরি করবার সুযোগ হয়নি , দুশো ছুই ছুই করেও ইংলিশদের বিরুদ্ধে একবার ১৯৫ করে তাকে সাজঘরে ফিরতে হয়েছিল।

ওয়ানডেতেও তিনি ভূগিয়েছেন প্রায় সব ক্রিকেট খেলুড়ে দেশকেই।তবে সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটি খেলেছিলেন ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষেই।৯০ বলে ১০৯ রানে অপরাজিত থাকা ইনিংসটিতে ছিল ১০ টি চার ও ৩ টি ছয়ের মার! ওয়ানডেতে বাংলাদেশ যেন ছিল তাঁর প্রিয় প্রতিপক্ষ। ওয়ানডেতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটিও (১০৮) ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে। তাছাড়া উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অর্ধশতকও হাঁকিয়েছেন টাইগারদের বিরুদ্ধে। ওয়ানডেতে তার গড়ই বলে দেয় তিনি কতোটা ওয়ানডে মেজাজে ছিলেন। ১৮৫ ওয়ানডে খেলে ৪৮.১৫ গড়ে করেছেন ৫৪৪২ রান ! যার মাঝে রয়েছে তিনটি শতক এবং ৩৯ টি অর্ধশতক!

টেস্ট, ওয়ানডে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন তবে টি টুয়েন্টিতেও কম যান না তিনি। তিনি প্রয়োজনে প্রতিপক্ষের জন্য কতোটা বিধ্বংসী হয়ে উঠতে পারে তা মনে হয় বেশি বুঝেছে পাকিস্তানই। ২০১০ সালের ১৪ মে, আইসিসি ওয়ার্ল্ড টি টুয়েন্টির দ্বিতীয় সেমিফাইনাল চলছিল পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার মাঝে। পাকিস্তানের দেওয়া ১৯১ রানের বিশাল টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে প্রথমেই খাদে পরে যায় অজিরা। হোয়াইট এবং মাইক হাসির জুটির উপর ভর করে অজিরা ঘুরে দাঁড়ায়। তবুও শেষ ওভারে অজিদের প্রয়োজন ১৭ রান! টি টুয়েন্টিতে কেন যে কোনো ক্রিকেটের ভার্সনেই এ এক মস্ত কঠিন কাজ। তার উপর বোলিং প্রান্তে বল করবার জন্য দাঁড়িয়ে আছেন দুসরা বোলার সাঈদ আজমল ।তবে ভুলে গেলে চলবে না ওপাশেও ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে আছে মাইক হাসি। প্রথম বল ডট, পাচ বলে প্রয়োজন ১৭ ! এবারো কি তার ব্যাট খ্যাপাতে তলোয়াড় হতে পারবে ? না নিরাশ করে নি মাইক, টানা ২ বলে ২ টি ছয় , এরপরের বলে স্কয়ারে ফিল্ডারের মাথার উপর দিয়ে হাঁকালেন একটি চার। দু বলে প্রয়োজন এখন কেবল এক রান। তবে এক রান আর নিলেন না আবারো একটি বিশাল ছয় মেরে দলকে নিয়ে গেল জয়ের বন্দরে। ২৪ বলে ৬০ রানের সে ইনিংসটিই তার টি টুয়েন্টিতে সর্বোচ্চ !

মনে প্রশ্ন জাগতে পারে আজ ঘটা করে কেনই বা তার কথা বলা হচ্ছে, বলা হচ্ছে এই কারণে যে ১৯৭৫ সালের আজকের দিনে অর্থাৎ ২৭ মে জন্ম হয়েছিল বিধ্বংসী এ ব্যাটসম্যানের। নিজের ৪২ তম জন্মবার্ষীকিতে মাইক হাসিকে জানাই জন্মদিনের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।