প্রচ্ছদ » লাইফ স্টাইল » স্বাস্থ ও খাদ্য » এই গরমে ইফতারে কী খাবেন?

এই গরমে ইফতারে কী খাবেন?

তীব্র গরমে জনজীবন যখন অতিষ্ট সেই সময়েই এ বছর  শুরু হয়েছে সিয়াম-সাধনার মাস রমজান। সারাদিন প্রচন্ড গরম উপেক্ষা করে রোজা রাখার পর প্রথম খাবারই হচ্ছে ইফতার। তাই ইফতারে কী খাওয়া হচ্ছে সেটি খুবই জরুরি। ইফতারের খাবার হওয়া চাই খুবই পরিমিত ও সহজে হজমযোগ্য খাবার যা খেলে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা যায়। বারডেম হাসপাতালের সাবেক প্রধান পুষ্টি কর্মকর্তা পুষ্টিবিদ আখতারুন নাহার আলো বাংলা ইনিশিয়েটর এর পাঠকদের জন্য দিয়েছেন কিছু পরামর্শ। রোজার প্রথম ইফতারের পূর্বে জেনে নেই তাঁর পরামর্শঃ-

রোজার মাসে শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে সঠিক ও স্বাস্থ্যকর ইফতার অনেক জরুরী বিষয়। একমাত্র সুষম ও স্বাস্থ্যকর ইফতারি যথাযথ পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি শরীরকে সুস্থ ও সক্রিয় রাখতে পারে।

তরল খাবারঃ 
এবার রোজা পড়েছে তীব্র গরমে। তাই প্রথমে প্রচুর তরলের কথা মাথায় রাখতে হবে। সম্ভব হলে কয়েক রকম শরবত রাখতে হবে ইফতারের মেন্যুতে। তরল বা শরবতজাতীয় খাবার হিসেবে লাচ্ছি, তাজা ফলের রস, ডাবের পানি, আখের গুড়ের শরবত ও লেবু পানি অনেক উপকারি। শরবত তৈরিতে তাল মিছরি, গুড়, বাদামি চিটি ব্যবহার করা যেতে পারে।

ফলমূলঃ
মৌসুমী ফলমূল অবশ্যই ইফতারির মেনুত রাখা উচিত। বিভিন্ন ধরনের ফল দিয়ে তৈরি শরবত খাওয়া যেতে পারে। এ ধরনের খাবার ভিটামিন ও মিনারেলের চাহিদা পূরণ করে শরীরে প্রয়োজনীয় খাদ্য আঁশ জোগায়। এক্ষেত্রে খেজুর অনেকেই তালিকার শীর্ষে রাখতে পছন্দ করেন। সারাদিন রোজা রাখার পর পেট খালি থাকে বলে শরীরে গ্লুকোজের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। খেজুর সেটা দ্রুত পূরণে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত খেজুর খেলে অনেক রোগ থেকে দূরে থাকা যায়।

মৌসুমী ফলের শরবতঃ
এখন পাওয়া যাচ্ছে এমন কয়েকটি ফল হলো আম, জাম, লিচু, আনারস ইত্যাদি। ইফতারের আইটেমে খুব সহজেই এই ফলগুলো জুস বানিয়ে রাখতে পারেন। এতে তৃষ্ণা মেটানোর পাশাপাশি পুষ্টিচাহিদা পূরন হবে।

সবজিঃ
শুধু বেগুনি না খেয়ে কয়েক রকম সবজি দিয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার তৈরি করলে তা শরীরের অনেক উপকারে আসে। সবজি-স্যান্ডউইচ, সবজি নুডলস, সবজি রোল, সবজি মম, সবজি পাকোরা ইত্যাদি ইফতারের মেনুতে রাখা যেতে পারে। বয়স্কদের সবজি স্যুপ দিলে ভালো হয়। তবে মনে রাখতে হবে, সবজির আইটেমে তেল ব্যবহার হয় বেশি।

ছোলাঃ
ছোলা রোজার পরিচিত একটি খাবার। তাছাড়া ছোলা প্রোটিনের ভালো উৎস। তবে অনেক তেল ও মসলায় তৈরি ভুনা ছোলা খেলে উপকারের পরিবর্তে অপকার হতে পারে। ছোলা সারারাত ভিজিয়ে রাখলে ভালো এবং সিদ্ধ ছোলার সাথে পেঁয়াজ, মরিচ, শশা, টমেটো ইত্যাদি মিশিয়ে অথবা সামান্য তেলে ছোলার খাবার তৈরি হলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। কাঁচা ছোলা খেলেও অনেক খাদ্য আঁশ ও প্রোটিন পাওয়া যায়।

মিষ্টিজাতীয় খাবারঃ
শুধু জিলাপি বা বুন্দিয়া নয়, ইফতারে স্বাস্থ্যকর ও দুগ্ধজাত মিষ্টান্ন পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে। জিলাপি বা বুন্দিয়া তেলে ভেজে সিরায় ফেলা হয়; যা বেশি খেলে ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই দুধের তৈরি মিষ্টি জাতীয় খাবার যেমন ফালুদা, কার্স্টাড, পুডিং , ফিরনি ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে।

অন্যান্য খাবারঃ 
চিড়া দই ইফতারের জন্য খুব ভালো একটি খাবার। এটি তাৎক্ষণিকভাবে শরীরে কার্ববোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম যোগায়। এছাড়া দইবড়া, নুডলস, স্যান্ডউইচ, রুটি-কাবাব, মম ইত্যাদি ইফতারের মেনুতে রাখা যেতে পারে। শশা থাকতে পারে বাড়তি হিসেবে।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।