প্রচ্ছদ » উড়াল » সাফল্য » জন্মদিনেই এভারেস্ট জয় !

জন্মদিনেই এভারেস্ট জয় !

সাব্বির রায়হান অপি, বাংলা ইনিশিয়েটর

১৯৫৩ সালের আজকের দিনে অর্থাৎ ২৯ মে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেন নেপালের তেনজিং নরগে। শুধু তাই নয় আজকের দিনে তিনি জন্মগ্রহনও করেছিলেন।

তার সাথে যৌথভাবে এডমন্ড হিলারী থাকলেও তেনজিং নরগে সর্বপ্রথম শৃঙ্গে উঠে এভারেস্ট জয় করবার খেতাব অর্জন করেন ।তেনজিং নরগের আসল নাম নামগ্যাল ওয়াংদি। পেশায় তিনি একজন পর্বতারোহী ছিলেন। মজার ব্যাপার হলো প্রথম দিকে তিনি তাঁর জন্মতারিখ জানতেন না, পরবর্তীকালে ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দের ২৯শে মে তিনি মাউন্ট এভারেস্ট জয় করার পরে সেই দিনকে নিজের জন্মদিন বলে ঘোষণা করেন।তাঁর পিতার নাম ছিল খাংলা মিংমা এবং মাতার নাম দোকমো কিন-জোম।

১৯৩৫ সালে তিনি প্রথম এরিক শিপটনের নেতৃত্বে একজন মালবাহক হিসেবে মাউন্ট এভারেস্ট অভিযানে যান। যা তার জীবনের পর্বতারোহণ অভিযান। এসময় তেনজিং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পর্বতারোহণের কলা কৌশল শিখেছিলেন। এই দল বাইশ হাজার ফুট উঁচুতে অবস্থিত নর্থ কল অব্দি আরোহণ করেছিলো। এরপরে ১৯৩৬ ব্রিটিশ মাউন্ট এভারেস্ট অভিযানে তেনজিং জীবনের দ্বিতীয় মাউন্ট এভারেস্ট অভিযানে যান। এসময় নেতৃত্বে ছিলেন হিউ রাটলেজের। এছাড়া ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দে ডন স্কুলের শিক্ষক গিবসন ও মার্টিনের সঙ্গে তেনজিং ২০,৭২০ ফুট উচ্চতার বন্দরপুঞ্ছ শৃঙ্গে অভিযান করেন। কিন্তু প্রচন্ড তুষারপাতের জন্য ১৭০০০ ফুট পর্যন্তই অভিযান সমাপ্ত হয়।

১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে জন হান্টের নেতৃত্বে ব্রিটিশদের মাউন্ট এভারেস্ট অভিযানে তেনজিং ষষ্ঠবারের মত অংশগ্রহণ করেন। দশ হাজার পাউন্ড মাল বহন করার জন্য ৩৬২ জন মালবাহক ও ২০ জন শেরপা সহ চার শতাধিক মানুষ অংশ গ্রহণ করেছিলেন এ অভিযানে। অক্সিজেন সরবরাহকারী ব্যবস্থায় গোলোযোগ দেখা দিলে তাঁরা ৭,৮৯০ মিটার থেকে ৩০০ ফুট নিচে থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হয়। এরপর দলপতি হান্ট, তেনজিং ও নিউজিল্যান্ডের পর্বতারোহী এডমন্ড হিলারিকে শৃঙ্গজয়ের চেষ্টা করতে নির্দেশ দেন। ত্রিশ পাউন্ড ওজনের সরঞ্জাম নিয়ে তাঁরা শৃঙ্গ আরোহণের চেষ্টা শুরু করেন। শৃঙ্গের ঠিক নিচে চল্লিশ ফুটের খাড়া একটি পাথরের দেওয়ালে একটি খাঁজ ধরে তেনজিং এগিয়ে যান এবং হিলারি তাঁকে অনুসরণ করেন।

সকাল ১১:৩০ মিনিটে মাউন্ট এভারেস্ট শৃঙ্গের চূড়ায় প্রথম পা ফেলেন তেনজিং। আর ইতিহাসে নাম লেখান। পর্বতশৃঙ্গে তাঁরা পনেরো মিনিট ছিলেন। এই সময় হিলারি তেনজিংয়ের ছবি তুলেছিলেন। ছবিতে তেনজিংয়ের হাতে জাতিসংঘ, ইংল্যান্ড, নেপাল ও ভারতের পতাকা লাগানো বরফ কুঠার দেখা যায়। পরবর্তিতে তেনজিংকে জর্জ পদক প্রদান করা হয়।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।