প্রচ্ছদ » বাংলাদেশ » আজ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের ত্রিশতম মৃত্যু্বার্ষিকী

আজ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের ত্রিশতম মৃত্যু্বার্ষিকী

তারিক মাহমুদ রাতুল, বাংলা ইনিশিয়েটর

আজ ২৯ শে মে, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের ত্রিশতম মৃত্যু্বার্ষিকী। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে হলেও শিক্ষাক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকেননি তিনি। দারুণ মেধাবী ছিলেন তিনি। ১৯১৯ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য বিলেত যান তিনি তবে ১৯২১ সালেই আবার নিজ দেশে ফেরত আসেন এবং সাহিত্য জগতে প্রবেশ করেন। বিলেতে থাকাকালীন সময়ে তিনি ধ্বনিতত্ত্ব ও ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাতত্ত্ব ছাড়াও প্রাকৃত ভাষা, ফার্সি ভাষা, প্রাচীন আইরিশ ভাষা, পুরনো ইংরেজি ও গোথিক ভাষায় ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। অতঃপর লন্ডন থেকে তিনি প্যারিসে গমন করেন। সেখানে তিনি প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ে স্লাভ ও ইন্দো-ইউরোপিয়ান ভাষাতত্ত্ব, প্রাচীন সগডিয়ান ও প্রাচীন খোতানি ভাষা, গ্রিক ও লাতিন ভাষার ইতিহাস এবং অস্ট্রো কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এশিয়াটিক ভাষাতত্ত্ব বিষয়ে অধ্যয়ন করেন। ১৯২২ সালে দেশে ফিরে আসার পর স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় কর্তৃক ভারতীয় ভাষাতত্ত্বের ‘খয়রা’ অধ্যাপক হিসেবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুনরায় কর্মজীবন শুরু করেন। এখানে দীর্ঘ ৩০ বছর কাজ করার পর ১৯৫২ সালে এমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে পুনঃনিযুক্ত হন।

সারাজীবনই তিনি নতুন নতুন জ্ঞান সংগ্রহ করার চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। রবীন্দ্রনাথ তাঁকে ‘ভাষাচার্য’ উপাধি দিলে তিনি আনন্দের সঙ্গে তা নেন। তাঁকে রবীন্দ্রনাথ তাঁর শব্দতক্ত্ব বইটা উত্সর্গ করেছেন। বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। তিনি পরিষদের পত্রিকা অধ্যক্ষ ছাত্রধ্যক্ষ, পরিষদের সহকারী সভাপতির দায়িত্ব সামলান। তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য বইগুলো হল“ ‘বাঙ্গালা ভাষাতক্ত্বের ভূমিকা’, পশ্চিমের যাত্রী’, সংসৃ্তিকী, ‘মনীষী স্মরণে’ প্রভৃতি।

তিনি তার প্রতিভার সম্মান সর্ব স্থানে পেয়েছেন।
১৯৩৫ সালে রয়্যাল এশিয়াটিক সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হন।

১৯৪৮ সালে হিন্দি ভাষায় বিশেষ অবদানের জন্য সাহিত্য বাচস্পতি উপাধি লাভ করেন।

১৯৫০ সালে লন্ডনের সোসাইটি অব আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সের সদস্য পদ লাভ করেন।

১৯৫২-১৯৫৮ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের বিধান পরিষদের অধ্যক্ষ পদে বহাল ছিলেন।

১৯৫৫ সালে অসলোর নরওয়েজিয়ান অ্যাকাডেমির সদস্য পদ লাভ করেন।

১৯৬৩ সালে ভারত সরকার কর্তৃক পদ্মবিভূষণ উপাধিতে ভূষিত হন।

১৯৬৬ সালে ভারতের জাতীয় অধ্যাপকের মর্যাদা লাভ করেন।

১৯৬৯ সালে সাহিত্য অকাদেমির সভাপতি নির্বাচিত হন।

১৯৭৭ সালের অাজকের এই দিনে এই মহান ভাষা বিজ্ঞানী জীবনাবসান হয়। আজ তার মৃত্যু দিবস সারাদেশে পালিত হচ্ছে কবির কবিতা আবৃতি, প্রবন্ধ পাঠ ও জীবনী আলোচনার মাধ্যমে স্মৃতি চারণ করে ।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।