প্রচ্ছদ » অনিয়ম » নিয়ম ভাঙ্গাই যখন অভ্যাস

নিয়ম ভাঙ্গাই যখন অভ্যাস

প্রকাশ : ২৯ মে ২০১৭৬:০০:৫৯ অপরাহ্ন

খাতুনে জান্নাত | বাংলা ইনিশিয়েটর

দেয়ালে বড় বড় করে লেখা আছে এখানে পোস্টার লাগানো নিষেধ। দেখা যায় সেই লেখাটার ঠিক পাশেই সেটে দেয়া হয়েছে গাদা গাদা পোস্টার! কিংবা লেখাটার উপরেই একটা পোস্টার লাগিয়ে দেয়া হয়েছে।

“এটি একটি ধূমপানমুক্ত এলাকা। এখানে ধূমপান করা নিষেধ” – এরকম আজকাল লেখা থাকে অনেক জায়গাতেই। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় লেখাটার পাশে বসেই বেশ আয়েশ করে কেউ না কেউ সিগারেটে সুখটান দিচ্ছে।

“এখানে ময়লা ফেলা নিষেধ” – এরকম শত শত সাইনবোর্ড রাস্তায় আছে। কেউ তো তা মানছেই না,বরং সাইনবোর্ডটা পারলে কেউ কেউ একটু ময়লা করে দিয়ে যাচ্ছে!

রাস্তাঘাটে বের হলে প্রতিনিয়ত আমরা সম্মুখীন হচ্ছি এরকম নিয়মের। আমাদের চলার সুবিধার জন্যই এই নিয়মগুলো তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে আমাদের দেশের পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে নিয়ম না মানাটাই একটা অভ্যাসে পরিণত হয়ে গিয়েছে। কোনো নিয়মই সঠিকভাবে মানা হচ্ছেনা। উপরে তো মাত্র তিনটা উদাহরণ,এরকম আরও শত শত উদাহরণ রয়েছে। পথচারীরা ফুট ওভারব্রীজ ব্যবহার করছে না, ড্রাইভাররা ঠিকমতো ট্রাফিক নিয়ম মানছে না, ‘নো পার্কিং’ এরিয়ার গাড়ি পার্কিং করা হচ্ছে – এরকম বহু বলা যাবে।

নিয়ম ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে ব্যাপারটা এমন দাঁড়িয়েছে যে, নিয়ম যারা মানছে তাদের দিকেই মানুষ আড়চোখে তাকাচ্ছে। সবাই রাস্তাকেই ডাষ্টবিন বানিয়ে ময়লা ফেলছে নির্দ্বিধায়। এর মধ্যে একজন মানুষ যদি ডাষ্টবিনে ময়লা ফেলেন তাহলে অন্যরা তার দিকে এমনভাবে তাকান যেন সে অন্য গ্রহ থেকে এসেছে।

এই নিয়মগুলো না মানার নেপথ্যে রয়েছে সামাজিক অসচেতনতা এবং আইনের মধ্যে ফাঁক। আইন অমান্যকারীকে যদি সবসময় কঠোর শাস্তির আওতায় আনা যেত, তাহলে অন্তত শাস্তির ভয়ে সকলে আইন মানতো। আর সমাজের সকলে সচেতন হয়ে গেলে তো আর আইনের প্রয়োজনও ছিল না।

নবম শ্রেণীর ছাত্রী নূপুর (ছদ্মনাম) বলে, “আমি রাস্তায় ময়লা ফেলতাম না যদি না রাস্তা আগে থেকেই নোংরা থাকতো। সবাই রাস্তায় ময়লা ফেলে। তাহলে আমি একা ফেললে কি খুব একটা দোষের ব্যাপার হবে?”

১৪ বছর বয়সী সামায়লা বলে, “আমি ১০ নাম্বার দিয়ে যখনই যাই,রিক্সা রং সাইড দিয়ে চলে। যদি আমি বলি রং সাইড দিয়ে কেন চলছেন,রিক্সাচালক বলে এতে নাকি তাড়াতাড়ি হবে। ৫ টাকা দিলেই নাকি রং সাইড দিয়ে যেতে দেয়।”

শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজের ছাত্রী সাগরিকা বলে, “আমি সবসময় ময়লা ডাষ্টবিনে ফেলি। বিন একটু দূরে হলে হাতে করে নিয়ে সেখানে ফেলি। তা না হলে ব্যাগে করে বাসায় নিয়ে যাই। আমি যখন বিনে ময়লা ফেলি রাস্তার মানুষজন আমার দিকে এমনভাবে তাকায় যেন আমি একটা পাগল। আবার বাসায় নিয়ে ফেললেও মা-বাবা বলে এই দেশ এমনিতেই নোংরা। এখানে সচেতনতা দেখিয়ে লাভ নেই।”

প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষের অসচেতনতা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ার ফলে এ ধরণের অনিয়ম বেড়েই চলেছে। ছোটবেলা থেকে প্রতিনিয়ত সমাজের এ অবস্থা দেখে এবং নিজেও এ ধরণের অনিয়মগুলো চর্চা করে মানুষ এতেই অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। যার ফলে আমাদের দেশের কোন সমস্যাই নির্মূল হচ্ছে না,বরং দিনে দিনে বেড়েই চলেছে।

প্রয়োজন কঠোর আইন এবং জনসচেতনতা। একটি শিশুকে ছোটবেলা থেকেই নিয়ম-কানুন কেন পালন করা উচিত তা শেখানো প্রয়োজন। এতে করেই নিয়ম না মানার অভ্যাস থেকে এদেশের মানুষের পক্ষে বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে। তা না হলে চিরদিন উল্টোটাই করে যাবে এদেশের মানুষ।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।