প্রচ্ছদ » বাংলাদেশ » অপরিবর্তিত ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশই থাকছে

অপরিবর্তিত ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশই থাকছে

প্রকাশ : ৩০ মে ২০১৭৫:০২:২১ অপরাহ্ন

[pfai pfaic=”fa fa-user fa-spin ” pfaicolr=”” ]  জান্নাতুল তাবাসসুম | বাংলা ইনিশিয়েটর

প্রতিবারের মতো এবারো ভ্যাট সংক্রান্ত জটিলতায় সুদিনের মুখ দেখছেন না ব্যবসায়ীরা।

২০১২ সালের ‘মূসক ও সম্পূরক শুল্ক আইন’ অনুযায়ী ১৫ শতাংশ ভ্যাট কার্যকর করার কথা ছিল গত বছরের ১ জুলাই থেকে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে তা পিছিয়ে দেয় সরকার।

শনিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এই উপনীত সিদ্ধান্তের কথা জানান ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “অনেক আলোচনা করে আমরা শেষ পর্যন্ত ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশই রাখছি।”

যদিও বা ব্যবসায়ীদের আপত্তির মুখে তিন সপ্তাহ আগে ভ্যাটের হার কমানোর প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও বাজেটের ঠিক পাঁচ দিন আগে আবার সেই ১৫ শতাংশের কথাই বলা হচ্ছে এমনটা জানা যায়।

তবে ভ্যাটমুক্ত টার্নওভারের সীমা এবার বাড়ানো হচ্ছে এবং দুই এক দিনের মধ্যে নতুন সীমা ঠিক করা হবে বলে জানান তিনি।

বর্তমানে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার (বার্ষিক বিক্রি) ভ্যাটমুক্ত। আর ৩০ লাখ থেকে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভারের ক্ষেত্রে ৩ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য।

তবে মাননীয় অর্থমন্ত্রী আরো জানান, এবার ৮০ লাখ টাকার ওই সীমা বাড়িয়ে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা বা তার বেশি করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে ভ্যাটের হার ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪ বা ৫ শতাংশ করা হতে পারে। “অর্থাৎ, আমরা এই বাজেটে ছোট ব্যবসায়ীদের বিশেষ ছাড় দিচ্ছি,” বলেন মুহিত।

তিনি বলেন, দেশে আট লাখ নিবন্ধিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকলেও ভ্যাট দেয় মাত্র ২৫ থেকে ২৬ হাজার। এবং এই সংখ্যা আমরা আগামী বছর দ্বিগুণ বাড়িয়ে ৫০ হাজারে পৌঁছাবে এমনটাই আশাবাদী তিনি।

মাননীয় অর্থমন্ত্রীর মতে, এই ভ্যাট কাঠামোতে বাজারে পণ্যমূল্য কোনো অবস্থাতেই বাড়ার কথা নয়। রোজার কারণে ব্যবসায়ীরা কিছুটা বাড়িয়ে দিলেও, ভ্যাটের কারণে তা বাড়ার কারণ নেই। এ সরকারের সময়ে তার দেওয়া কোনো বাজেটের পরপরই দ্রব্যমূল্য বাড়েনি, এমনটাই দাবি তাঁর।
আরও বলা হয়, ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট নেওয়া হবে। ব্যবসায়ীদের দাবির কারণে এবারও যে তা হচ্ছে না, সে ইংগিত পাওয়া যায় গত ১০ মে। অর্থমন্ত্রী সেদিন ভ্যাট আইন সংশোধন করে এর হার নামিয়ে আনার কথা বলেন।

এরপর গত ২৪ মে তিনি জানান, ভ্যাটের হার ঠিক করতে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। কিন্তু সেই আলোচনার পর শনিবারি ১৫ শতাংশ ভ্যাট আদায়ের সিদ্ধান্তেই অটল থাকার কথা জানান তিনি।

১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে, মুদ্রাস্ফীতি হবে। আবার তা দিতে আগ্রহী হবেন না ব্যবসায়ীরা, এমনটাই ব্যবসায়ীরা মনে করেন।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়লড-সিপিডির সুপারিশেও বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশে ভ্যাটের হার ১২ শতাংশ রাখাই যুক্তিযুক্ত হবে।

কিন্তু মুহিত বলছেন, “বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচিত এবং কঠিন বিষয় হচ্ছে ভ্যাট। ২০১২ সালে আমরা ভ্যাট আইন পাস করি। কিন্তু এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে পারিনি। ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমালে সামান্য কমাতাম, কিন্তু সেখানে হিসাবের অনেক অসুবিধা হত। ভ্যাটের রেট ইউনিফর্ম হবে এবং সেটা ১৫ শতাংশই থাকবে।”

পাশাপাশি এনবিআর কর্মকর্তারা আশা করছেন, চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২ লাখ ৪২ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা, যার মধ্যে মূসক বা ভ্যাট থেকেই ৭২ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা আসবে বলে মুহিত আশা করেছিলেন। ওই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও রাজস্ব আদায় এবার গত অর্থবছরের তুলনায় বেশি হবে।

কিন্তু অপেক্ষা করতে হবে আগামী অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ কোটি টাকার বেশি অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা ধরে যে বাজেট মুহিত সাজাচ্ছেন, সেখানে কত টাকা রাজস্ব আদায়ের পরিকল্পনা থাকছে আর তার কত শতাংশ ভ্যাট থেকে আসবে- সেই হিসাব জানতে ১ জুন বাজেট বক্তৃতা পর্যন্ত।

আগামী ১ জুন বেলা দেড়টায় তিনি জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা শুরু করবেন; সন্ধ্যার আগেই বাজেট বক্তৃতা শেষ হবে, জানান অর্থমন্ত্রী।

তার এবারের বাজেট বক্তৃতার শিরোনাম হবে ‘উন্নয়নের মহাসগরে বাংলাদেশ: সময় এখন আমাদের’। এবং সংসদে বাজেট পাস হবে ২৯ জুন।

নতুন বাজেটের আকার চার লাখ টাকার বেশি হবে জানিয়ে মুহিত বলেন, “মানব সম্পদে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হবে। বরাদ্দ বেশি থাকবে পরিবহন ও জ্বালানি খাতে। প্রতিবন্ধীদের বিষয়েও এবার বিশেষভাবে বিবেচনা করা হবে।”

বছর বছর বাজেটের আকার বাড়াতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মাননীয় অর্থমন্ত্রী। টানা নয় বার এবং মোট এগারোটি বাজেট দিতে যাওয়া মুহিত বলেন, “৯৫ হাজার কোটি টাকার বাজেট আমি চার লাখ কোটি টাকার বেশি অংকে নিয়ে যাচ্ছি। আগামী বাজেট পাঁচ লাখ কোটিতে নিয়ে যাব। এটাই শেখ হাসিনার সরকারের কৃতিত্ব। আর আর্থমন্ত্রী হিসেবে আমার সবচেয়ে বড় তুষ্টির জায়গা।”

আর তাঁর কাছে ‘আরেকটি বড় সাফল্য’ হবে যদি তিনি ভ্যাট আইনের বাস্তবায়ন দেখে যেতে পারেন, এমনটাই তিনি এই ৮৩ বছর বয়সে এসে মনে করেন।

তবে তিনি মনে করেন বাজেট বাস্তবায়নে সরকারের দক্ষতার অভাব আছে। “জেলা বাজেট” কে তিনি ব্যর্থতার চোখে দেখেন। এবং এর জন্য স্থানীয় সরকারকে আরও শক্তিশালী হতে হবে বলে তিনি মনে করেন নতুবা তার মতে দেশের সত্যিকার টেকসই উন্নয়ন সম্ভব না।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।