প্রচ্ছদ » খেলাধুলা » ভারতের বিপক্ষে খড়-কুটোর মতো উড়ে গেলো বাংলাদেশ

ভারতের বিপক্ষে খড়-কুটোর মতো উড়ে গেলো বাংলাদেশ

প্রকাশ : ৩০ মে ২০১৭১০:২৪:৩২ অপরাহ্ন

[pfai pfaic=”fa fauser fa-spin ” pfaicolr=”” ] ইফতেখার তাহসীন মোহাঃ আবির, বাংলা ইনিশিয়েটর

 

আজ বিকাল সাড়ে ৩ টায় দি ওভাল স্টেডিয়ামে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ এবং ইন্ডিয়া। ম্যাচে ইন্ডিয়ার ৩২৪ রানের জবাবে মাত্র ৮৪ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। ফলে বাংলাদেশের সঙ্গী হয় ২৪০ রানের লজ্জ্বাজনক এক বিশাল এক হার।

নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফির অনুপস্থিতিতে আজ অধিনায়ক ছিলেন সাকিব আল হাসান। টসে জিতে ইন্ডিয়াকে ব্যাট করতে পাঠান তিনি।

শুরুতেই ২ উইকেট ফেলে ইন্ডিয়াকে চাপের মুখে ফেলে দেন রুবেল হোসেন এবং মুস্তাফিজুর রহমান। সেখান থেকেই হাল ধরেন শিখর ধাওয়ান এবং দীনেশ কার্ত্তিক। তারা দুজনে মিলে ঠিক একশো রান যোগ করেন। ফলে ২১ রানেই ২ উইকেট হারানো ভারত শক্ত অবস্থানে চলে যায়। আউট হওয়ার আগে শিখর ধাওয়ান করেন ৬৭ বলে ৬০ রান। তবে চতুর্থ উইকেটে কেদার যাদবকে সঙ্গে নিয়ে আরো ৭৫ রান যোগ করেন দীনেশ কার্ত্তিক।

দলীয় ১৯৬ রানে কেদার যাদব আউট হন ৩১ রান করে। দারুণ খেলতে থাকা দীনেশ কার্ত্তিক(৯৪) কিছুক্ষন পর স্বেচ্ছায় অবসর নেন। তবে লড়াই চালিয়ে যান রবীন্দ্র জাদেজা এবং হার্দিক পান্ডিয়া। জাদেজা ৩২ রান করে আউট হলেও শেষ পর্যন্ত ৫৪ বলে ৮০ রান করে অপরাজিত থাকেন হার্দিক। ফলে ইন্ডিয়ার রানও হয় পাহাড়সম। নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ইন্ডিয়া সংগ্রহ করে ৭ উইকেটে ৩২৪ রান। তবে ইন্ডিয়ার মূল দুই  ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি এবং মহেন্দ্র সিং ধোনি ব্যাট করতে নামেননি।

বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন রুবেল হোসেন। ৯ ওভারে ৫০ রান দিয়ে তিনি তুলে নেন ৩ উইকেট। সাঞ্জামুল ইসলাম ৯ ওভারে ৭৪ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট এবং মুস্তাফিজুর রহমান ৮ ওভারে ৫৩ রান দিয়ে নেন ১ টি উইকেট। আর বলার মতো কোনো পারফর্মেন্স নেই বাংলাদেশি বোলারদের।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইন্ডিয়ার কাছে কোনো পাত্তাই পায়নি বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা। ১১ রানেই বাংলাদেশ হারায় ৩ ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস এবং সাব্বির রহমানকে। সেই ধাক্কা কাটতে না কাটতেই ২১ রানে আউট হন সাকিব আল হাসান। তারপর কোনো রান যোগ হওয়ার আগেই শূন্য রানে আউট হন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। এক রান পরেই মোসাদ্দেক হোসেনও সেই পথ ধরেন। সেখান থেকে মেহেদি হাসান মিরাজ এবং মুশফিকুর রহিম দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন। তবে ১৩ রান করে মুশফিকও আউট হয়ে গেলে ৪৭ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। ৮ম উইকেটে সাঞ্জামুলকে সঙ্গে নিয়ে ৩০ রান যোগ করেন মেহেদি হাসান মিরাজ। আউট হওয়ার আগে বাংলাদেশের ইনিংসের সর্বোচ্চ ২৪ রান করেন মিরাজ। তিনি আউট হওয়ার কিছুক্ষণ পর সাঞ্জামুলও আউট হয়ে ফিরে আসেন। তারপর ১ রান যোগ করতে না করতেই শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন রুবেল হোসেন। ফলে মাত্র ৮৪ রানে অল আউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।

ইন্ডিয়ার পক্ষে তিনটি করে উইকেট লাভ করেন ভুবনেশ্বর কুমার এবং উমেশ যাদব। একটি করে শিকার মোহাম্মদ শামি, জাস্প্রিত বুমরাহ, হার্দিক পান্ডিয়া এবং রবীচন্দ্র অশ্বিনের।

এই হারে নিশ্চিতভাবেই আত্মবিশ্বাস অনেকখানি কমে গেছে বাংলাদেশের। এই ম্যাচটি যত দ্রুত সম্ভব ভুলে যেতে চাইবেন মাশরাফি, সাকিব, মুশফিকরা। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ঠিক আগ মুহূর্তে এমন হার নিশ্চিতভাবেই চিন্তার ভাঁজ ফেলবে টিম ম্যানেজমেন্টের। তবে আশার কথা এই যে, এই ম্যাচটি ছিল প্রস্তুতি ম্যাচ এবং এতে মূল দলের বেশ কিছু খেলোয়াড় খেলেননি। তাই এই ম্যাচের খারাপ পারফর্মেন্স ভুলে গিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভালো কিছু করার জন্যই মুখিয়ে থাকবে বাংলাদেশ।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।