প্রচ্ছদ » উড়াল » সংগঠন » প্রত্যাশীদের কথা

প্রত্যাশীদের কথা

কাজী মোয়াজ্জমা তাসনিম | বাংলা ইনিশিয়েটর


বর্তমান প্রজন্ম নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। তারা অনেক বেশি আত্মকেন্দ্রীক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ক্ষেত্রবিশেষে বাস্তব জীবনের চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। অপসংস্কৃতিতে আসক্ত। দেশ, সমাজ, মানুষ নিয়ে তাদের কোন মাথাব্যথাই নেই। অভিযোগগুলো শুনতে তিক্ত হলেও এর সত্যতা অস্বীকার করা যাবে না। প্রযুক্তি আর প্রতিযোগিতার এই যুগের প্রভাবটা তরুণদের উপরই কি সবচেয়ে বেশি পড়ার কথা না?

এই হতাশার উল্টো পিঠে কিন্তু আশার আলোও আছে। হয়ত খুব ক্ষুদ্র, তবে এর তীব্রতা চোখ ধাঁধিয়ে দেওয়ার মতই। এই প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করেই গড়ে উঠেছে বিভিন্ন সমাজসেবক সংগঠন। সংগঠনগুলোর মূল ভিত্তিও কিন্তু এই তরুণরাই। শুধু ক্যারিয়ার গঠন আর বন্ধু মহলে নিজেকে স্মার্ট প্রমাণই যাদের একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। যারা দেশ নিয়ে ভাবে। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায়। নিজের সময়, শ্রম, মেধা, দক্ষতার অনেকখানি তারা ব্যয় করে সমাজকর্মে।

এমনই একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হল প্রত্যাশা বাংলাদেশ। ২০১৫ সালের জুন মাসে যখন এই অরাজনৈতিক, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক সংগঠনটি যাত্রা শুরু করে তখন সংগঠনোর প্রতিটা সদস্যই ছিল কিশোর- কিশোরী। স্কুল কলেজ পড়ুয়া। এখন হয়তোবা কেউ কেউ কৈশোর পেরিয়ে তারুণ্যের খাতায় নাম লিখিয়েছে, তবুও প্রত্যাশার প্রায় ৪০ জন সক্রিয় সদস্যের সিংহভাগই এই স্কুল কলেজ পড়ুয়া কিংবা সদ্য স্কুল কলেজ পেরোনো ছাত্রছাত্রীরাই।

বয়সে কিশোর হলে কী হবে? প্রতিটি সদস্যের আন্তরিক পরিশ্রমে প্রত্যাশা প্রতিবারই দেখেছে সাফল্যের মুখ। ২০১৫ সালের রোজার ঈদে “ঈদের খুশি ফুঁটবে হাসি” নামক ইভেন্টে মিরপুরে ৫০ ও তেজগাঁও রেলস্টেশনে ৩৫, মোট ৮৫ জন পথশিশুকে ঈদের নতুন জামা প্রদানের মাধ্যমে এর যাত্রা শুরু।

একই বছর তারা আয়োজন করে “ময়লা পরিষ্কার অভিযান” নামক ইভেন্ট। যে ইভেন্টে তারা মিরপুর ১০- মিরপুর ১ পর্যন্ত রাস্তায় ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করে এবং আশেপাশের মানুষদের যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলতে উদ্বুদ্ধ করে। ২০১৫ সালে “শীতে নয় ভোগান্তি, উষ্ণতার প্রতিশ্রুতি” নামক ইভেন্টের মাধ্যমে শীতকালে উত্তরবঙ্গের পঞ্চগড়ে শীতার্তদের মাঝে ১০০ কম্বল বিতরণ করা হয়। ২০১৬ সালে মিরপুর স্টেডিয়ামের আশেপাশে থাকা সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সাথে “প্রত্যাশা মেহেদী উৎসব ” পালিত হয়। ২০১৬ সালের রোজার ঈদে ” এক চিলতে হাসি ” ইভেন্টের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের দুটি এতিমখানার প্রায় ৫০ জন বাচ্চাকে ঈদের পোষাক ও ইফতার বিতরণ করা হয়। এছাড়াও বছরজুড়ে তারা রক্তদান ও অন্যান্য সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম করে থাকে।

প্রতিবারের ধারাবাহিকতায় এবারও প্রত্যাশা হাতে নিয়েছে একটি ব্যতিক্রমী ইভেন্ট। এতিমখানার শিশুদের ঘিরে সাজানো এই ইভেন্টে দুটি প্রজেক্ট রয়েছে।
প্রজেক্ট ১:- ইফতার ও জামাকাপড় বিতরণ- এই প্রজেক্টে একাধিক এতিমখানার অসহায় শিশুদের একবেলা ইফতার ও সাথে ঈদের নতুন জামা বিতরণ করা হবে।
প্রজেক্ট ২:- যুদ্ধকথা- এই প্রজেক্টে এতিমখানার বাচ্চাদের মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশ সম্পর্কিত বিশেষ ক্লাসের আয়োজন করা হবে। যেহেতু এসকল প্রতিষ্ঠানে বাচ্চারা এই বিষয়গুলো সম্পর্কে জানার সুযোগ পায় না। তাই প্রত্যাশা এই গুরুদায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রত্যাশা ঈদ আনন্দ- ২০১৭ নামক এই ইভেন্টে মিডিয়া পার্টনার হিসেবে আছে শিশু, কিশোর ও তারুণ্যের অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ইনিশিয়েটর।

একাবিংশ শতাব্দীর কিশোরেরা যখন নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত তখন প্রত্যাশার কিশোরেরা দেখছে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন। যে বাংলাদেশে কোন দারিদ্র্য থাকবে না, বৈষম্য থাকবে না, থাকবে না কোন সাম্প্রদায়িকতা। যে দেশে প্রত্যেকটা মানুষের মুখে থাকবে অনাবিল হাসি। মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশকে বুকে ধারণ করে প্রত্যাশীরা নিরলস কাজ করে চলেছে তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশায়।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।