প্রচ্ছদ » বাংলাদেশ » বিখ্যাত কিরীটি রায় এর স্রষ্টার জন্মদিবস আজ

বিখ্যাত কিরীটি রায় এর স্রষ্টার জন্মদিবস আজ

জান্নাতুল তাবাসসুম, বাংলা ইনিশিয়েটর 

 

বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র কিরীটি রায়ের স্রষ্টা নীহাররঞ্জন গুপ্ত এর জন্মদিবস আজ। ডাঃ নীহাররঞ্জন গুপ্ত একজন ভারতীয় বাঙালি লেখক। তিনি জনপ্রিয় রহস্য কাহিনীকার এবং চিকিৎসক হিসেবে উপমহাদেশে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

১৯১১ সালের ৬ জুন তৎকালীন যশোরের লোহাগড়া উপজেলার ইটনায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পরিবার ছিল বিখ্যাত কবিরাজ বংশীয়। তাঁর বাবার নাম সত্যরঞ্জন গুপ্ত আর মায়ের নাম লবঙ্গলতা দেবী। তিনি শৈশবকাল অতিবাহিত করেন কলকাতায়। কৃষ্ণনগর কলেজ থেকে আইএসসি ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি কলকাতায় কারমাইকেল মেডিক্যাল কলেজ থেকে ডাক্তারি বিদ্যায় কৃতকার্য হন। এরপর তিনি লন্ডন থেকে চর্মরোগ বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

শৈশবকাল থেকেই তিনি সর্বদাই স্বপ্ন দেখতেন লেখক হওয়ার। এক সময় তিনি শান্তিনিকেতনে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আশীর্বাদ গ্রহণ সহ তাঁর স্বাক্ষর বা অটোগ্রাফ সংগ্রহ করেন। আঠারো বছর বয়সে নীহাররঞ্জন তাঁর প্রথম উপন্যাস রাজকুমার রচনা করেন। ইংল্যান্ডে অবস্থানকালীন সময়ে তিনি গোয়েন্দা গল্প রচনায় আগ্রহান্বিত হয়ে স্বীয় লেখার উত্তোরন ঘটান এবং আগাথা ক্রিস্টির সাথে সাক্ষাৎ করেন।

ভারতে ফিরে এসে তিনি তাঁর ১ম গোয়েন্দা উপন্যাস কালো ভ্রমর রচনা করেন। এতে তিনি গোয়েন্দা চরিত্র হিসেবে কিরীটি রায়কে সংযোজন করেন যা বাংলা কিশোর সাহিত্যে এক অনবদ্য সৃষ্টি। তিনি বাংলা সাহিত্যে রহস্য কাহিনি রচনার ক্ষেত্রে অপ্রতিদ্বন্দ্বী লেখক ছিলেন। উপমহাদেশীয় প্রেক্ষাপট ও উপযোগী করে রচিত হয়েছে তাঁর রহস্য উপন্যাসগুলো। এ পর্যন্ত প্রায় পঁয়তাল্লিশটি উপন্যাসকে বাংলা ও হিন্দি ভাষায় চলচ্চিত্রায়ণ করা হয়েছে যথাক্রমে টলিউড ও বলিউডের চলচ্চিত্রাঙ্গনে।

এছাড়াও তিনি শিশুদের উপযোগী সাহিত্য পত্রিকা সবুজ সাহিত্যের সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বড়দের ও ছোটদের উপযোগী – উভয় ধরনের গোয়েন্দা উপন্যাস রচনায় সবিশেষ দক্ষতা দেখিয়েছেন নীহাররঞ্জন। মোট দুই শতাধিক গ্রন্থ তিনি রচনা করে গেছেন। উল্লেখযোগ্য রচনাগুলো হলো কালোভ্রমর, মৃত্যুবাণ,কালনাগ,উল্কা,উত্তরফাল্গুনী,হাসপাতাল,কলঙ্কিনী কঙ্কাবতী,লালুভুলু,রাতের রজনীগন্ধা,কিরীটি অমনিবাস,অপারেশন। ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দের ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।