প্রচ্ছদ » বাংলাদেশ » ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস আজ

ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস আজ

প্রকাশ : ৭ জুন ২০১৭৭:৪৭:৪৯ অপরাহ্ন

[pfai pfaic=”fa fauser fa-spin ” pfaicolr=”” ] সাব্বির রায়হান অপি, বাংলা ইনিশিয়েটর 

 

১৯৬৬ সালের ২৩ মার্চ পশ্চিম পাকিস্তানীদের শোষণ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে “৬ দফা দাবি” পেশ করেন। আজকের এই দিনে অর্থাৎ ১৯৬৬ সালের ৭ই জুন “৬ দফা” বাস্তবায়নের লক্ষ্যে লাখো লাখো মানুষ রাজপথে আন্দোলনে নেমে ছিল। এসময় তাদের প্রতিরোধ করতে পুলিশ গুলি চালায়।

সেদিন ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জায়গায় অন্তত ১১জন পুলিশের গুলিতে নিহত হয়।তাঁদের স্মরণে এবং জাতীয় মুক্তির স্বারকস্বরূপ এই দিনটি ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস হিসেবে পালিত হয়।

মূলত এই ৬ দফা দাবিকে কেন্দ্র করে বাঙালি জাতির স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলনের ভিত্তি শক্ত হয়। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান অর্থাৎ বাংলাদেশের জনসংখ্যা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল এবং পাকিস্তানের মোট রপ্তানি আয়ের সংখ্যাগরিষ্ঠ রপ্তানি হত পূর্ব পাকিস্তান থেকে। অথচ রাজনৈতিক ক্ষমতা ও অর্থনৈতিক সুবিধাসহ সব কিছু পশ্চিম পাকিস্তান ভোগ করত। বরাবরই পূর্ব পাকিস্তানকে বঞ্চিত করা হত। তাই একসময় পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী এবং পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতিবিদরা এ নিয়ে প্রতিবাদ শুরু করে। তারই ফলস্বরুপ আসে ছয় দফা।

১৯৬৬ সালের ৬ দফাগুলো হল:

● দফা -১: শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের প্রকৃতি:

পাকিস্তান হবে একটি ফেডারেশনভিত্তিক রাষ্ট্রসংঘ এবং তার ভিত্তি হবে লাহোর প্রস্তাব। সরকার হবে পার্লামেন্টারী ধরনের। আইন পরিষদের ক্ষমতা হবে সার্বভৌম। এবং এই পরিষদও নির্বাচিত হবে সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে জনসাধারনের সরাসরি ভোটে।

● দফা-২: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা:

কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা কেবল মাত্র দেশরক্ষা ও বৈদেশিক নীতি এ দু’টি ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে। অবশিষ্ট সকল বিষয়ে অঙ্গ-রাষ্ট্রগুলির নিরঙ্কুশ ক্ষমতা থাকবে।

● দফা-৩: মুদ্রা বা অর্থ-সমন্ধীয় ক্ষমতা:

মুদ্রার ব্যাপারে নিম্নলিখিত দু’টির যে কোন একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা চলতে পারেঃ-
ক. সমগ্র দেশের জন্যে দু’টি পৃথক, অথচ অবাধে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা চালু থাকবে।
খ. বর্তমান নিয়মে সমগ্র দেশের জন্যে কেবল মাত্র একটি মুদ্রাই চালু থাকতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে শাসনতন্ত্রে এমন ফলপ্রসূ ব্যবস্থা রাখতে হবে যাতে করে পূর্ব-পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে মূলধন পাচারের পথ বন্ধ হয়। এক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পৃথক ব্যাংকিং রিজার্ভেরও পত্তন করতে হবে এবং পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পৃথক আর্থিক বা অর্থবিষয়ক নীতি প্রবর্তন করতে হবে।

● দফা -৪: রাজস্ব, কর, বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা:

ফেডারেশনের অঙ্গরাজ্যগুলির কর বা শুল্ক ধার্যের ব্যাপারে সার্বভৌম ক্ষমতা থাকবে। কেন্দ্রীয় সরকারের কোনরূপ কর ধার্যের ক্ষমতা থাকবে না। তবে প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য অঙ্গ-রাষ্ট্রীয় রাজস্বের একটি অংশ কেন্দ্রীয় সরকারের প্রাপ্য হবে। অঙ্গরাষ্ট্রগুলির সবরকমের করের শতকরা একই হারে আদায়কৃত অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের তহবিল গঠিত হবে।

● দফা -৫: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা:

ক. ফেডারেশনভুক্ত প্রতিটি রাজ্যের বহির্বাণিজ্যের পৃথক পৃথক হিসাব রক্ষা করতে হবে।
খ. বহির্বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা অঙ্গরাজ্যগুলির এখতিয়ারাধীন থাকবে।
গ. কেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা সমান হারে অথবা সর্বসম্মত কোন হারে অঙ্গরাষ্ট্রগুলিই মিটাবে।
ঘ. অঙ্গ-রাষ্ট্রগুলির মধ্যে দেশজ দ্রব্য চলাচলের ক্ষেত্রে শুল্ক বা করজাতীয় কোন বাধা-নিষেধ থাকবে না।
ঙ. শাসনতন্ত্রে অঙ্গরাষ্ট্রগুলিকে বিদেশে নিজ নিজ বানিজ্যিক প্রতিনিধি প্রেরণ এবং স্ব-স্বার্থে বানিজ্যিক চুক্তি সম্পাদনের ক্ষমতা দিতে হবে।

● দফা-৬: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা:

আঞ্চলিক সংহতি ও শাসনতন্ত্র রক্ষার জন্য শাসনতন্ত্রে অঙ্গ-রাষ্ট্রগুলিকে স্বীয় কর্তৃত্বাধীনে আধা সামরিক বা আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠন ও রাখার ক্ষমতা দিতে হবে।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।