প্রচ্ছদ » বাংলাদেশ » সচেতনতা বাড়লেও কমছে না শিশুশ্রম

সচেতনতা বাড়লেও কমছে না শিশুশ্রম

 সুরাইয়া আক্তার জীম | বাংলা ইনিশিয়েটর

আজ ১২ জুন। বিশ্ব শিশুশ্রম বিরোধী দিবস আজ।‘শিশু শ্রমকে না বলুন, মানসম্মত শিক্ষাকে হ্যাঁ বলুন’- এই স্লোগান নিয়ে ২০০৩ সাল থেকে প্রতিবছর ১২ জুন বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস।

১৯৮৯ সালের ২০ নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ‘জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ’ অনুমোদিত হয়। ১৯৯২ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) শিশুশ্রম বন্ধ করতে এক কর্মসূচি হাতে নেয় এবং ২০০২ সালের ১২ জুন থেকে আন্তর্জাতিক শিশুশ্রম সংস্থা (আইএলও) বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহনের মাধ্যমে প্রতিবছর দিবসটি ‘বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে পালন করছে ।

বর্তমানে বাংলাদেশসহ ৮০টি দেশ এ দিবসটি পালন করছে।আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)’র এক তথ্য থেকে জানা যায়, বাংলাদেশে শিশু শ্রমিকরা প্রায় ৩৪৭ ধরণের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এর মধ্যে ৪৭ ধরণের কাজকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজের মধ্যে রয়েছে ব্যাটারিসহ বিভিন্ন বিষাক্ত রাসায়নিক কারখানায় শিশুশ্রম, ট্যানারি শিল্প, যৌনকর্ম, বিড়ি ও তামাক ফ্যাক্টরি, পরিবহন খাত, ময়লা আবর্জনা সংগ্রহ করা, গ্যাস ফ্যাক্টরি, লেদ মেশিন ও ওয়েল্ডিংয়ের কাজ, রিকশা ও ভ্যানচালনা, কাঠমিস্ত্রির কাজ, জুয়েলারি শিল্পে কারিগরের কাজ, চাল ও মসলার কারখানায় কাজ, ম্যানুফ্যাকচারিং কারখানার কাজ, মাদকদ্রব্য বিক্রি।

এসব কাজে নিয়োজিতদের অধিকাংশই পথশিশু। পথশিশুদের ৬৯ শতাংশই কোন না কোন শিশুশ্রমে নিয়োজিত রয়েছে। এরা শুধুমাত্র একবেলা খাওয়ার জন্য প্রতিদিন তাদের হাড়ভাঙা পরিশ্রম দিয়ে যাচ্ছে।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, এরা দারিদ্রর পাশাপাশি পরিবারের বড় সন্তান হওয়ায় পরিবারের দায়ভার তাকে গ্রহন করতে হয় ।তাছাড়া ছোট বলে তাদের ইচ্ছে মতো খাটানো যায়, কম মজুরি দিলেও চলে বলেই অনেকে ওয়ার্কশপ, লেগুনায় কাজের জন্য পথশিশুদের রাখে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, পারিবারিক ও আর্থ-সামাজিক কারণে ৬ থেকে ৭ বছর বয়সেই বাংলাদেশের শিশুরা জীবন ধারণের জন্য শ্রম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, দেশের ৩৫ লক্ষ শিশু শ্রমিকদের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত রয়েছে ১৩ লক্ষ শিশু, যা মোট শিশু শ্রমিকের ৪১ শতাংশ।

শিশুশ্রম বিরোধী দিবসের মূল উদ্দেশ্যে পথশিশুদেরকে তাদের অধিকার দেওয়া, শিশুশ্রম ঝুঁকিপূর্ণ তা সম্পর্কে সকলকে জানানো। প্রতিবছরই এ দিবসটি পালিত হয়ে যাচ্ছে ।বাড়ছে সকলের মাঝে সচেতনতা তবু কমছে না শিশুশ্রম। শিশুশ্রম কমানো বর্তমানে বাংলাদেশে একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।