প্রচ্ছদ » বাংলাদেশ » আজ ১৩ জুন, নারী উত্ত্যক্তকরণ বা ইভ টীজিং প্রতিরোধ দিবস।

আজ ১৩ জুন, নারী উত্ত্যক্তকরণ বা ইভ টীজিং প্রতিরোধ দিবস।

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৭৬:১২:৩৩ অপরাহ্ন

[pfai pfaic=”fa fauser fa-spin ” pfaicolr=”” ] জান্নাতুল তাবাসসুম, বাংলা ইনিশিয়েটর

 

নারী একাধারে গর্ভধারিণী মা, স্নেহের বোন, স্ত্রী, কিংবা আদরের কন্যা। বহুরূপে,বহুগুনে গুনান্নিত নারী এ পৃথিবীতে আসেন আশীর্বাদ রূপে। সমাজ জীবনে হোক কিংবা সংসার জীবনেই হোক তাঁরা সংগ্রাম করেই চলেন ত্যাগ, সহ্যশক্তি, পরিশ্রম তাঁদের জীবন জুড়ে। জীবন যুদ্ধে বরাবরই কঠিন ও দুর্গম পথের পথিক।

কিন্তু বড় লজ্জা ব্যাপার মহীয়সী এই নারী সমাজ আজ বিভিন্ন হায়নার হতে উত্তক্ত ও নির্যাতিত হচ্ছে নানা ভাবে। ভদ্র সমাজ এর নাম রেখেছে ইভ টিজিং বা যৌন হয়রানি।

ইভ টিজিং বা যৌন হয়রানিকে প্রতিরোধ করতে ১৩ জুন পালন করা হয় ‘নারী উত্ত্যক্তকরণ প্রতিরোধ দিবস’। প্রথমবারের মতো ১৩ জুনকে ঘিরে ব্যাপকভাবে ‘নারী উত্ত্যক্তকরণ প্রতিরোধ দিবস’ পালন করা হয় ২০১০ সালে। সে বছর দিবসটি জাতীয়ভাবে পালন করা হয়েছিল। এই দিবস পালনের উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে আছে রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে নারীর স্বাভাবিক চলাচল, জীবনযাপন অবাধ, সমুন্নত করা ও তাদের অধিকার এবং সম্মান বজায় রাখা। দেশে যৌন হয়রানির মাত্রা ভয়াবহভাবে বেড়ে যাওয়ায় তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে সরকার স্বতন্ত্র আইন প্রণয়ন ও নানা কর্মসূচি নিলেও বখাটেদের অত্যাচার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি কখনোই।

২০১৬ এর পয়লা বৈশাখেও মেলায় আসা নারীদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঘটনা রীতিমতো এক জঘন্য উদাহরণ। এই ভয়াবহ অবস্থাটি থেকে বাঁচতে এখন সামাজিক প্রতিরোধ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। যে যেই অবস্থানে রয়েছেন সাধ্য অনুযায়ী সেখান থেকেই প্রতিরোধ গড়তে হবে সম্মিলিতভাবে। ভয়াবহ এই ব্যাধি খেকে বাঁচাতে হবে এই দেশ, এই জাতিকে।

বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি (বিএনডব্লিউএল)-এর এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়, দেশে শতকরা ৯১ শতাংশ পর্যন্ত নারী যৌন হয়রানির শিকার হয়ে থাকে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের একটি তথ্যমতে, দেশে ১০ থেকে ১৮ বছর বযসের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ মেয়ে যৌন হয়রানির শিকার হয়।

এর মধ্যে ৩৬ শতাংশ মেয়েকে উত্ত্যক্ত করা হয় তাদের স্কুলের সামনে। আর দেশের প্রায় প্রতিটি মেয়েই কোনো না কোনোভাবে জীবনের কোনো এক সময় যৌন হয়রানির শিকার হয়। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের প্রতিক্রিয়ায় নানা দেশে সরকার জাতীয় নিরাপত্তার কথা বলে মানবাধিকারকে কাটছাঁট করে। আর বাংলাদেশে যৌন-সন্ত্রাসের প্রতিক্রিয়ায় সমাজ ও পরিবার নারীর স্বাধীনতায় লাগাম পরাচ্ছে অধিকতর শারীরিক নিরাপত্তার আশায়। কিন্তু “সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ” আমাদের দেখাচ্ছে যে নিরাপত্তা অর্জনের জন্য স্বাধীনতা বিসর্জন শেষপর্যন্ত উভয়েরই ক্ষতি করে। যৌন-সন্ত্রাসের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। নারীর স্বাধীনতার ওপর বাধানিষেধ বেড়েই চলেছে, কিন্তু তাদের জীবন একটুও নিরাপদ হয়নি।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সম্প্রতি দণ্ডবিধির ৫০৯ ধারা ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা সম্পর্কে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে মতামতের জন্য পাঠানো হয়। আইন মন্ত্রণালয় তাদের মতামতে বলেছে, সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন, ২০০৯-এ দণ্ডবিধির ৫০৯ ধারা অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। সে ক্ষেত্রে ইভ টিজিং বন্ধের জন্য পৃথক কোনো আইন করার প্রয়োজন হবে না। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারা অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

বর্তমানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ফৌজদারি কার্যবিধি ও দণ্ডবিধির অধীনে ৯২টি আইনের প্রয়োগ করতে পারেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের মাধ্যমে তাঁরা এসব ক্ষমতা প্রয়োগ করে থাকেন। তবে কোনো মামলা নিতে পারেন না। সে ক্ষেত্রে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের কাছে মামলা পাঠাতে হয়।

দণ্ডবিধির ৫০৯ ধারায় ইভ টিজিং অর্থে বলা হয়েছে, ‘কোনো নারীর শালীনতার অমর্যাদার অভিপ্রায়ে কোনো মন্তব্য, অঙ্গভঙ্গি বা কোনো কাজকে বোঝাবে। কাজ অর্থ স্কুল-কলেজগামী মেয়েদের রাস্তাঘাটে দেখে শিস দেওয়া, গান গাওয়া, চোখ বাঁকা করে তাকানো, নারীর শালীনতা অমর্যাদা করার অভিপ্রায়ে কোনো মন্তব্য, কোনো শব্দ, অঙ্গভঙ্গি বা বস্তু প্রদর্শন করা এবং অনুরূপ মন্তব্য, শব্দ নারী শুনতে পায় বা বস্তু দেখতে পায় কিংবা কোনো নারীর নির্জনবাসে অনধিকার প্রবেশকেও ৫০৯ ধারায় অভিযোগ হিসেবে গণ্য হবে।’ বিচারিক কার্যক্রম সম্পর্কে আইনে বলা হয়েছে, কাউকে এই ধারায় অভিযুক্ত করতে হলে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে—কী মন্তব্য করা হয়েছে, কোন শব্দ করা হয়েছে, কী ধরনের অঙ্গভঙ্গি করা হয়েছে, কী বস্তু প্রদর্শন করা হয়েছে এবং কোনো নারীর নিভৃতবাসে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রবেশ করেছেন কি না অথবা অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনো নারীর শালীনতায় অমর্যাদা করতে প্রবৃত্ত হয়েছিলেন কি না।

জানা যায়, ৫০৯ ধারায় প্রকাশ্য মাতাল ব্যক্তির অশোভন আচরণের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে পারবেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এব্যাপারে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক এ.এস.এম শাহজাহান বেশ গুরুত্বপূর্ণ মত দিয়েছেন।

দেশ ও জাতির উন্নয়নে নারীর ভূমিকা, তাঁদের কৃতিত্ব এবং তাঁদের প্রয়োজন অপরিসীম। আজকের এই নারী উত্তক্তকরণ প্রতিরোধ দিবস এর মতো ধাপ ই পারে একটি সুস্থ সমাজ উপহার দিতে, তাঁদের স্বাধীন ও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরার অনুপ্রেরণা যোগাতে। দেশ ও জাতিকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।