প্রচ্ছদ » কিশোর তারকা » ছবি এঁকে বিশ্ব জয় করতে চায় সামির

ছবি এঁকে বিশ্ব জয় করতে চায় সামির

রংতুলি নিয়ে তার যত ভাবনা। সে কারণেই ছবি আঁকায় রয়েছে ভালো সুনাম। পেয়েছে বেশ কিছু পুরস্কারও। গান গেয়েও কুড়িয়েছে প্রশংসা। খিলগাঁও সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় আর্ট ক্লাবের প্রেসিডেন্ট দশম শ্রেণির এই ছাত্র আনিসুল ইসলাম সামিরকে নিয়ে লিখেছে মুসাররাত আবির জাহিন-


ছোটবেলায় অন্য সব শিশুর মতো সামিরকেও তার মা-বাবা কিনে দিয়েছিলেন রংয়ের বাক্স। কিন্তু তখনও তারা জানতেন না তাদের এই ছোট্ট ছেলের রাজ্যের সখ্যতা গড়ে উঠবে এই রঙের সঙ্গে, তার পৃথিবী হবে হাজার রংয়ে রঙিন।

সামিরের পুরো নাম আনিসুল ইসলাম সামির। তার বয়সী শিশুরা যখন খেলনা গাড়ি, পিস্তল কিংবা পুতুল নিয়ে ব্যস্ত থাকতো, সে তখন মেতে থাকতো নানারকম রং নিয়ে! রঙিন এই এক্সপেরিমেন্ট ছিল তার প্রতিদিনকার খেলা। তার মনে হতো জগতের সব অজানা রহস্য যেন লুকিয়ে আছে তার ছোট্ট রংয়ের বাক্সে! আর সেই রহস্য যে তাকে ভেদ করতেই হবে!

সামিরের আঁকা কিছু পোর্ট্রেট ছবি

সেই ছোট্ট সামির এখন বেশ বড় হয়ে গিয়েছে, সেই সাথে বড় হয়েছে তার অভিজ্ঞতার ঝুলিও। বন্ধুমহলে ছবি আঁকার জন্য হয়েছে নামডাক। বন্ধুরা যে শুধু সামিরকে আর্টিস্ট বলেই ক্ষান্ত হয় তা কিন্তু নয়, তার কাছ থেকে আঁকিয়ে নেয় নিজেদের পোর্ট্রেট। এমন একটা আর্টিস্ট বন্ধু থাকতে কেউ এই সুযোগ ছাড়ে নাকি! সামিরও খুশি মনেই পোর্ট্রেট এঁকে দেয় তাদের।

ছবি আঁকা নিয়ে তার প্রাপ্তির ঝুলি বেশ বড়। স্কুলের সব ধরনের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার প্রথম স্থান তার দখলে। যার ফলে স্কুলের আর্ট ক্লাবের প্রেসিডেন্ট সে। এছাড়াও বিভিন্ন চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে একাধিক মেডেল, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট অর্জন করেছে সে। মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল, গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল, ’ইমাজিনেশন্স’ আর্ট কম্পিটিশন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীতে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন চিত্রাংকন প্রতিযোগিতাতেও পেয়েছে পুরস্কার। শুধু তাই নয়, তার আঁকা বেশ কিছু ছবি বিভিন্ন প্রদর্শনীতেও স্থান পেয়েছে! এখন সে যুক্ত আছে বাংলা ইনিশিয়েটরের মাসিক কিশোর ম্যাগাজিন “কৈশোর” এর চিত্রশিল্পী হিসেবে।

পোর্ট্রেট ছাড়া সে অ্যানিমে ড্রইং, সাবজেক্ট ড্রইং, অয়েল পেইন্টিং সহ নানা রকম ছবি আঁকাতেও পারদর্শী।

তার মানে যে সামির শুধু ছবি আঁকতে পারে তা কিন্তু নয়, রংয়ের মতো সুরের সাথেও কিন্তু গড়ে উঠেছে তার বন্ধুত্ব। যার কারণে ”শব্দ” নামের একটি ব্যান্ডের সাথে যুক্ত হয়েছে সে। এ বছর দলীয় জাতীয় সংগীত গাওয়াতে প্রথম স্থান লাভ করেছে সামির। এছাড়া বেশ কিছু স্টেজ পারফরমেন্স করছে সে। এখন সে তার স্কুলের অডিও বুকের কাজ করছে।

যে বাবার হাত ধরে ছবি আঁকায় হাতেখড়ি হয় সামিরের, তার হঠাৎ করে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি সামিরের পুরো পৃথিবীকে এলোমেলো করে দেয়। কিন্তু প্রিয় মানুষদের অনুপ্রেরণা আর নিজের চেষ্টায় সেই হতাশাময় মুহূর্ত কাটিয়ে উঠেছে সে। কারণ, সামিরেরা যে হেরে যেতে জানেনা!

খিলগাঁও গভ. হাই স্কুলের দশম শ্রেণির এই ছাত্র আপাতত পোর্ট্রেট আঁকা থেকে বিরতি নিয়েছে। কারণ সে শুধু ছবি আঁকাতেই নয়, পড়াশোনা তেও সমান পটু। তাই এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে জোর দমে। পিএসসি এবং জেএসসি দুটো পরীক্ষাতেই তার রয়েছে জিপিএ ৫। চুপচাপ স্বভাবের সামিরের স্বপ্ন একদিন ছবি আঁকা দিয়েই সে জয় করবে বিশ্ব। পৃথিবী হয়তো আরেকবার অবাক নয়নে দেখবে জয়নুল আবেদীন, কাইয়ুম চৌধুরী কিংবা কামরুল হাসানের মতো এক বিস্ময়কে, যে বিস্ময় সে এখনই ছড়িয়ে রেখেছে তার চারপাশে।

বাংলাইনিশিয়েটর/১৫ জুন ২০১৭/জাহিন/জান্নাত/এসএসকে 

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।