প্রচ্ছদ » কিশোর তারকা » রাফিদের স্বপ্নটা যখন প্রোগ্রামিং

রাফিদের স্বপ্নটা যখন প্রোগ্রামিং

এসএসসির গন্ডি পেড়োতে না পেড়োতেই আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন। বড় আকাশটা ছোঁয়ার স্বপ্ন অনেকজন দেখলেও ছুঁতে বা কয়জনই পারে! কিন্তু খিলগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সবে মাত্র মাধ্যমিক দেওয়া রাফিদ আরিয়ান তার স্বপ্নের ক্যানভাসকে ছুঁয়ে দেখিয়েছে। রাফিদের গল্প জানাচ্ছে সাবা সিদ্দিকা সুপ্ত

ছোটবেলায় সবার গেইম খেলার শখ থাকলেও রাফিদের যত্ত আনন্দ ছিল গেইম নষ্ট করার মধ্যে। গেইমের সেটিংস পাল্টাতে গিয়ে ডাটা ডিলিট করে অনায়াসেই নিজের জিভ  কামড়ে ধরা ছেলেটা সারাদিনই মেতে থাকতো প্রোগ্রামিং নিয়ে।

জেএসসি দেবার তিনমাস আগেই বাবা- মা রাফিদের প্রোগ্রামিং এর প্রতি আগ্রহ দেখে কিনে দেয় একটা পিসি। ব্যাস, শুরু হয়ে যায় ওর স্বপ্নের প্রোগ্রামিং। প্রথম প্রথম আর সবার মতো কোডিং এর কিছু না বুঝলেও অদম্য আগ্রহ আর ইচ্ছাশক্তি দিয়ে শিখে ফেলে মজার প্রোগ্রামিং।

প্রোগ্রামিং দিয়েই শুরু হয় রাফিদের জীবনের প্রথম কম্পিটিশন। “ন্যাশনাল অলিম্পিয়াড অব সফটওয়্যার ইনোভেশন” (নোসি)- তে অংশ নেওয়ার মাধ্যমেই শুরু হয় ওর প্রোগ্রামিং এর পথে নতুন অগ্রযাত্রা। সেখান থেকে জয়টাকে ছিনিয়ে আনতে না পারলেও হতাশ হয়নি তখন। বরং হারকে দেখেছে জয়ের একটা সূচনা হিসেবে। সেখান থেকে শিখে এসেছে আরো অজানা মজার বিষয়।

জয় যখন রাফিদকে হাতছানি দিয়ে ডেকেছে তখনই রেজিস্ট্রেশন করে ফেললো ‘মজিলা বাংলাদেশ অ্যাপ চ্যালেঞ্জে’। সবচেয়ে ক্ষুদে অ্যাপ ডেভেলপার কন্টেনডার হিসেবে তখন সে অংশ নেয়। তখন থেকে ‘ইউ এক্স’, ‘ইউ আই’, কোডিং নিয়ে আরো শেখা শুরু করে।

আরিয়ানের তৈরী অ্যাপস

প্রোগ্রামিং এর পাশাপাশি রাফিদের অন্যতম ইচ্ছা দেশের কোণায় কোণায় তার কাজের মাধ্যমে সেবা প্রদান করা। এই ইচ্ছার প্রয়াসেই বাংলা প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে বেশ কিছু অ্যাপ তৈরি করে যা বর্তমানে মার্কেট প্লেসে স্থান পেয়েছে। এখন তার ডেভেলপকৃত প্রায় ১৩ টি আ্যাপ আছে, যার মধ্যে “মা ও শিশু”, “আর নয় মাদক”, “ড্রাইভিং লাইসেন্স”, “পাসপোর্ট “, “AllTo Do” খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করেছে। ‘আর নয় মাদক’ অ্যাপটিতে কিশোরদের ওপর মাদকের ক্ষতিকর দিকগুলোর বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। ‘মা ও শিশু’ নামক অ্যাপটিতে গর্ভকালীন অবস্থায় মায়ের সুস্বাস্থ্য রক্ষা ও নবজাতকের লালন-পালন সম্পর্কে ভিডিওক্লিপ আর ভয়েসক্লিপ রয়েছে।

এছাড়াও রাফিদের জনপ্রিয় অ্যাপ ‘সবুজের কাছাকাছি’- বীজ বপন থেকে শুরু করে চারার যত্ন পর্যন্ত সবগুলো ধাপ বর্ণনা করা আছে। অ্যাপগুলো বাংলায় তৈরি করা হয়েছে যাতে করে রাফিদের এই সেবা বাংলাদেশের সব কৃষকশ্রেণীর কাছে পৌঁছে যায়। অ্যাপটির দ্বিতীয় ভার্সনে তাকে সাহায্য করেছে একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র অনির্বাণ সিয়াম।

আরিয়ান বিভিন্ন কম্পিটিশনের পাশাপাশি অংশগ্রণ করেছে ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড, স্লভে থন, ইন্টারনেট সপ্তাহ, ইথিক্যাল হ্যাকিং সেমিনার, ইউথ ফেস্ট সহ আরো প্রায় অর্ধশতাধিক ইভেন্টে।

প্রোগ্রামিং ছাড়াও আরিয়ান টার্গেট নতুন প্রজন্মের অভাবনীয় মেধাকে আরো এক ধাপ উপরে নিয়ে যাওয়া। সেই লক্ষ্যে একজন তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের ‘কাশফুল ফ্যাক্টরি’- র জন্য কাজ করে যাচ্ছে। কাশফুল ফ্যাক্টরির বিভিন্ন প্রোজেক্টের মাধ্যমে প্রায় ১৫০টির ও বেশি বিদ্যালয়ের তরুণদের মাঝে প্রযুক্তির শিক্ষা দেওয়াকে রাফিদ একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ বলে মনে করছে। শুধু প্রোগ্রামিং কিংবা ইভেন্টেই নয়, পড়ালেখাতেও আরিয়ান এনেছে অভাবনীয় সাফল্য।

সে বলে, “আমার সবকিছু অর্জনের পেছনে ছিল আমার বাবা- মায়ের অবদান। তাদের উৎসাহ প্রদান আর সাহায্য ছাড়া এসব সম্ভব হতো না। কিন্তু এখন আমি ওয়েব ডিজাইনিং এর পাশাপাশি কাশফুল ফ্যাক্টরিকে নিয়েই কাজ করতে চাই।” ভবিষ্যৎ লক্ষ্য হিসেবে একজন দক্ষ ওয়েব ডিজাইনার হওয়াকেই আরিয়ান বেছে নিয়েছে।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।