প্রচ্ছদ » ছবিওয়ালা » বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী দশ মসজিদ

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী দশ মসজিদ

প্রকাশ : ৪ জুলাই ২০১৭১১:৫৫:০৭ পূর্বাহ্ন

[pfai pfaic=”fa fa-user fa-spin ” pfaicolr=”” ]  সুরাইয়া আক্তার জীম | বাংলা ইনিশিয়েটর
●বায়তুল মোকাররম

এটি বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ যা রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত। এর স্থাপত্যশৈলী অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন। ১৯৬৮ সালে মসজিদটি স্থাপিত হয়। পাকিস্তানের বিশিষ্ট শিল্পপতি লতিফ বাওয়ানি ও তার ভাতিজা ইয়াহিয়া বাওয়ানির উদ্যোগে এই মসজিদ নির্মাণের পদক্ষেপ গৃহীত হয়। ৩০ ফিট উচ্চতার এ মসজিদটি দেশের সর্ববৃহৎ মসজিদ।

●ষাট গম্বুজ মসজিদ

এটি দেশের অন্যতম প্রাচীন মসজিদ। ষাট গম্বুজ মসজিদ বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি প্রাচীন মসজিদ। মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি না থাকায় এটি কে নির্মাণ করেছিলেন বা কোন সময়ে নির্মাণ করা হয়েছিল সে সম্বন্ধে সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। তবে মসজিদটির স্থাপত্যশৈলী দেখলে এটি যে খান-ই-জাহান নির্মাণ করেছিলেন সে সম্বন্ধে কোনো সন্দেহ থাকে না। ধারণা করা হয় তিনি ১৫শ শতাব্দীতে এটি নির্মাণ করেন। মসজিদটি বহু বছর ধরে ও বহু অর্থ খরচ করে নির্মাণ করা হয়েছিল। পাথরগুলো আনা হয়েছিল রাজমহল থেকে।

●বাচা শাহ জামে মসজিদ

দেশের আরকটি ঐতিহ্যসমৃদ্ধ মসজিদ বাচা শাহ জামে মসজিদ যা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৩৩ সালে। মসজিদটি ছিলো মুঘল সাম্রাজ্যের একমাত্র স্থাপত্যশৈলী। মসজিদটি পূননির্মান হয় ১৯৮৩ সালে এবং তখনই মসজিদটি মোঘল নিদর্শনকে হারিয়ে ফেলে।

●সোনা মসজিদ

এটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন মসজিদ। প্রাচীন বাংলার রাজধানী গৌড় নগরীর উপকণ্ঠে পিরোজপুর গ্রামে এ স্থাপনাটি নির্মিত হয়েছিল, যা বর্তমানে বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানার অধীনে পড়েছে। সুলতান আলা-উদ-দীন শাহ এর শাসনামলে (১৪৯৩-১৫১৯ খ্রিষ্টাব্দে) ওয়ালি মোহাম্মদ নামে এক ব্যক্তি এই মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। মসজিদের মাঝের দরজার উপর প্রাপ্ত এক শিলালিপি থেকে তা জানা গেলেও তারিখের অংশটুকু ভেঙে যাওয়ায় নির্মাণকাল জানা যায় নি। এটি কোতোয়ালী দরজা থেকে মাত্র ৩ কি.মি. দক্ষিণে। এটি হোসেন-শাহ স্থাপত্য রীতিতে তৈরি। এর দৈঘ্য ৮২ ফুট, প্রস্থ ৫২.৫ ফুট। মসজিদটিতে রয়েছে ১৫টি গম্বুজ ।

●বাঘা মসজিদ

এটি রাজশাহী জেলা সদর হতে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে বাঘা উপজেলায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক মসজিদ। সুলতান নাসিরউদ্দিন নসরাত শাহ ১৫২৩ খ্রিষ্টাব্দে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। বহুবার মসজিদটি ভাঙ্গে এবং তা পূণর্নির্মাণ করা হয়। ঐতিহ্যবাহী এ মসজিদটিতে ঈদ উল ফিতর এ তিনদিনব্যাপী মেলা হয়ে থাকে।

●তারা মসজিদ

পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় আবুল খয়রাত সড়কে অবস্থিত এই ঐতিহ্যেবাহী মসজিদটি। সাদা মার্বেলের গম্বুজের ওপর নীলরঙের তারায় খচিত এ মসজিদ নির্মিত হয় আঠারো শতকের প্রথম দিকে। মসজিদের গায়ে এর নির্মাণ-তারিখ খোদাই করা ছিল না। তবে জানা যায়, আঠারো শতকে মির্জা গোলাম পীর এ মসজিদ নির্মাণ করেন। ‌মির্জা সাহেবের মসজিদ হিসেবে এটি তখন বেশ পরিচিতি পায়। ১৮৬০ সালে তিনি মারা যান। পরবর্তিকালে ১৯২৬ সালে, ঢাকার তৎকালীন স্থানীয় ব্যবসায়ী, আলী জান বেপারী মসজিদটির সংস্কার করেন। এসময় জাপানের রঙিন চিনি-টিকরি পদার্থ ব্যবহৃত হয় মসজিদটির মোজাইক কারুকাজে।

●কুসুম্বা মসজিদ

এটি বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার মান্দা থানার কুসুম্বা গ্রামের একটি প্রাচীন মসজিদ। কুসুম্বা দিঘির পশ্চিম পাড়ে, পাথরের তৈরি ধুসর বর্ণের মসজিদটি অবস্থিত। হিজরি ৯৬৬ সালে নির্মিত এ মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে ৫৮ফুট লম্বা, ৪২ ফুট চওড়ায়।এর চারদিকের দেওয়াল ৬ ফুট পুরু। তার উপর বাইরের অংশ পাথর দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। মসজিদের সন্মুখভাগে রয়েছে ৩টি দরজা। আকারে ২টি বড়, অন্যটি অপেক্ষাকৃত ছোট। দরজাগুলো খিলানযুক্ত মেহরাব আকৃতির। মসজিদের চার কোনায় রয়েছে ৪টি মিনার। মিনারগুলো মসজিদের দেওয়াল পর্যন্ত উঁচু ও আট কোনাকার। ছাদের ওপর রয়েছে মোট ৬টি গুম্বুজ। যা দুইটি সারিতে তৈরি। মসজিদের উত্তর-দক্ষিণ দিক সংলগ্ন ৭৭ বিঘা বিশিষ্ট একটি বিশাল দিঘি রয়েছে।

●কাকরাইল মসজিদ

প্রাচীন এ মসজিদটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কাকরাইল এলাকায় রমনা পার্কের পাশে অবস্থিত। এটি বাংলাদেশে তাবলীগ জামাতের মারকায বা প্রধান কেন্দ্র। ১৯৫২ সালে এই মসজিদটি তাবলীগ জামাতের মারকায হিসেবে নির্ধারিত হয়। মসজিদটির আদি নাম ছিল মালওয়ালি মসজিদ।

●খান মোহাম্মদ মৃধা মসজিদ

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরের পুরানো ঢাকা এলাকার আতশখানায় অবস্থিত একটি প্রাচীন মসজিদ। এটি ১৭০৬ খ্রিস্টাব্দে নায়েবে নাযিম ফররুখশিয়ারের শাসনামলে নির্মিত হয়। ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুনের মতে ঢাকার প্রধান কাজী ইবাদুল্লাহের আদেশে খান মহম্মদ মৃধা এটি নির্মাণ করেন। এর উচ্চতা ১৭ ফিট।

কাস্বাবটুলি জামে মসজিদ

এটি অসাধারণ কারুকার্যে সজ্জিত দেশের অন্যতম একটি মসজিদ ।পুরান ঢাকার কসাইটুলির কে পি ঘোষ রোডের এ মসজিদ ‘কাস্বাবটুলি জামে মসজিদ’ নামে পরিচিত। এর আরেক নাম ‘চিনির টুকরা মসজিদ’। হিজরি ১৩৩৮ সনে জনৈক ব্যবসায়ী আবদুল বারি এ মসজিদটি নির্মাণ করেন।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।