প্রচ্ছদ » বাংলাদেশ » বাংলাদেশেও জনপ্রিয়তা লাভ করছে ফিডজেট স্পিনার

বাংলাদেশেও জনপ্রিয়তা লাভ করছে ফিডজেট স্পিনার

শেখ নাজমুস সাকিব | বাংলা ইনিশিয়েটর

ফিডজেট স্পিনার হলো এমন একটি টয় বা খেলনা যেটি ব্যক্তির মানসিক চাপ দূরীকরণ প্রক্রিয়ায় বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখছে। মূলত প্লাস্টিক বা ধাতবপ্রকৃতি পাত দ্বারা সুনিপুণ ভাবে এর স্ট্রাকচার তৈরী করা হয়।

ব্রাশ, স্টেইনলেস স্টিল, কপার,টাইটেনিয়াম ইত্যাদি মূলত ব্যবহার করা হয়ে থাকে স্পিনারটির মৌলিক গঠন তৈরিতে। ভেতরে ঘূর্নায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে ভিন্ন ভিন্ন আকৃতির বেয়ারিং। যার ফলশ্রুতিতে স্পিনারটি ভিন্ন ভিন্ন ভঙ্গিমায় ঘূর্ণায়মান থাকতে পারে।

বলা হয়ে থাকে, অসুস্থ কল্পনামগ্নতা এবং মানসিক দুশ্চিন্তা বা উদ্বিগ্নতায় সাময়িক সময়ের জন্য হলেও আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিচ্ছে এই ছোট্ট খেলনা টি। ব্যক্তি চাইলেই কিছুক্ষণের জন্য নিজেকে সম্পূর্ণরূপে দুশ্চিন্তামুক্তরূপে আত্নপ্রকাশ করতে পারেন এই ফিডজেট স্পিনারটি নিয়ে নাড়াচাড়া করে। কম্পনের আওয়াজ, ঘূর্ননের ধারা ও পরিব্যাপ্তি ইত্যাদি মিলিয়ে ফিডজেট স্পিনার টি একটি সংজ্ঞাবহ প্রতিক্রিয়া তৈরীতে সক্ষম।

“দ্য গার্ডিয়ান”, “দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস” পত্রিকা দুটির বরাত দিয়ে বলা যায়, ফিডজেট স্পিনার এর প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায় “ক্যাথেরিন হেটিংগার” নামের একজন মহিলার কাছ থেকে যিনি কিনা পেশায় একজন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার।

অবশ্য ভাবনার বিষয় এই যে, মনোবিজ্ঞানীদের একটি বড় অংশ যখন ফিডজেট স্পিনার কে অনেক বেশিই উপকারী বলে ঘোষণা দিয়ে ফেলেছেন ঠিক একই সময়ে তাদের কিয়দংশ এই চিন্তাধারার বাইরে কিছু তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। তারা আশংকা করছেন, এটি আরোও বেশি ধ্বংসাত্মকরূপে দেখা দিতে পারে। মূলত ১৯৯০ সালে এটি আবিষ্কার হলেও এটি বেশ পরিচিতি লাভ করে ২০১৭ সালের প্রথম দিকে, একধরণের খেলনারূপে। উল্লেখযোগ্য বিষয়টি এই যে, বাইরের দেশের স্কুলগুলোর ক্লাসরুমে ব্যাপকহারে এর ব্যবহার অথরিটি কে বাধ্য করে এটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে, যখন কিছু কিছু স্কুলে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে এই স্পিনারটি ব্যবহার করতে যেন তারা আরোও বেশি মনোযোগী হতে পারে সবদিক দিয়েই।

অনলাইন কমিউনিটি তে ব্যাপক সাড়াজাগানো এই স্পিনার ক্রমেই বাংলাদেশে পরিচিতি লাভ করছে। ১৩ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ব্যস্ততম নগরীতে বসবাসকারীরাই মূলত ঝুঁকছেন বেশি। এর ব্যাখ্যা স্বরুপ এটি বলা যায় যে, শতশত মানসিক চাপকে পিছে ফেলে একটুখানি রিলিফের আশা তো সবাই করে। যদি ফিডজেট স্পিনার সাময়িক সময়ের জন্য কিছুটা মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়,তবে মন্দ কি?

বাংলাদেশে যেহেতু ফিডজেট স্পিনার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান নেই, তাই বাংলাদেশী ক্রেতাদের কে সাহায্য নিতে হচ্ছে অনলাইনের। বর্তমানে অনলাইনে কেনাকাটা খুব সহজ হয়ে যাওয়ায় খেলটা টি হাতে পেতেও খুব বেগ পেতে হচ্ছেনা সাধারণ ক্রেতাদের। তবে অবশ্যই কিছুটা বাড়তি মূল্য পরিশোধ করেই কিনতে হচ্ছে কেননা এগুলো মূলত শিপিং এর মাধ্যমে ইউরোপিয়ান দেশগুলো থেকে বাংলাদেশে আনা হচ্ছে। কিছু কিছু ব্যক্তি বা দেশীয় প্রতিষ্ঠানও অনলাইনের আশীর্বাদে বাংলাদেশের সাধারণ ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করছেন, তবে তা অবশ্যই বাড়তি মূল্য পরিশোধের মাধ্যমে।

ডিজাইনভেদে ও গঠনভেদে ৩-৪ মার্কিন ডলার(USD) থেকে শুরু করে ৩০-৪০ মার্কিন ডলারে(USD) বিক্রি হচ্ছে এক একটি ফিডজেট স্পিনার। অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

একথা বলাই যায়, ব্যাপক সাড়া জাগানো এই খেলনাটি আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বাংলাদেশের সব বয়সী ক্রেতাদের ব্যাপক চাহিদায় রুপ নিতে যাচ্ছে।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।