প্রচ্ছদ » অনিয়ম » চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে

চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে

 শ্রাবন্তী কামাল, বাংলা ইনিশিয়েটর

সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকুনগুনিয়া নামের ভাইরাস জ্বরের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় এ রোগের আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। চিকিৎসকরা বলেছেন, বৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন স্থানে পানি জমার ফলে ঢাকা শহরে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে মশাবাহিত এই রোগ। একটি পরিবারে একজর আক্রান্ত হলে অন্যদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কারণ, মশা খুব দ্রুতই এই ভাইরাস একজন থেকে অন্যজনের দেহে নিয়ে যায়।

চিকুনগুনিয়া অনেকটা ডেঙ্গুর মতোই। বর্তমানে রাজধানীর অধিকাংশ মানুষই এ রোগে আক্রান্ত। কারও সিজনাল জ্বর, কারও ডেঙ্গু হচ্ছে; তবে বেশিরভাগ মানুষই আক্রান্ত হচ্ছে ‘চিকুনগুনিয়া’ নামের নতুন ধরণের এই রোগে।

চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ এমনভাবে ছড়িয়ে পড়ছে যে ঢাকার প্রায় সব হাসপাতালগুলোতেই চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এই বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের অবসর প্রাপ্ত অধ্যাপক ড. মোতাহের হোসেন বলেন, “ঋতু বা পরিবর্তনের ফলে এই সময়ে ভাইরাস জ্বর সহ নানা ধরনের জ্বর দেখা দিচ্ছে, বিশেষ করে ডেঙ্গু এমনকি সম্প্রতি চিকুনগুনিয়া বেশি হচ্ছে”।

চিকুনগুনিয়া রোগটি হবার পিছনে মূল কারণ অসচেতনতা। সচেতনতার অভাবে আজ মানুষ নিজেই নিজের বিপদ ডেকে এনেছে। বর্তমানে শহরগুলোর রাস্তায় বের হলেই ময়লার স্তূপ ছাড়া আর কিছুই দেখা যায় না। যেখানে-সেখানে প্রতিনিয়ত ফেলা হচ্ছে বিভিন্ন ময়লা। যার ফলে সেসব জায়গায় বৃষ্টির পানি জমে গড়ে উঠছে মশার আবাসস্থল। আর অন্যদিকে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলেছে কিন্তু জনসচেতনতা বাড়াতে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যারা চিকুনগুনিয়ায় এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে তাদের এখনো পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি।

তাছাড়া চিকুনগুনিয়া রোধে এডিস মশা ও অন্যান্য মশা নিধনে এখনো পর্যন্ত সব স্থানে প্রয়োজনীয় ঔষধ ছিটানোও হয়নি। সারাদেশে সম্প্রতি কর্পোরেশন এলাকার আবর্জনার স্তূপ পরিষ্কারের ব্যবস্থা ঠিকমতো নেওয়া হচ্ছে না। পর্যাপ্ত ঔষধ ছিটিয়ে এডিস মশা নিধন করলেই চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু মশার প্রকোপ কমার কথা। কিন্তু এখনো পর্যন্ত সেই ব্যবস্থা যথাযথভাবে নেওয়া হচ্ছে না।

নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই এ রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া অত্যন্ত জরুরি।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।