প্রচ্ছদ » বাংলাদেশ » ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ : জীবন ও কর্ম

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ : জীবন ও কর্ম

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৭১১:১৯:১৬ পূর্বাহ্ন

[pfai pfaic=”fa fa-user fa-spin ” pfaicolr=”” ]  সাব্বির রায়হান অপি | বাংলা ইনিশিয়েটর

আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য,
তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙ্গালি।”

এই কথাটি আজ সবার মুখে মুখে শোনা যায়। তবে যিনি এই কথাটি আমাদের শিখিয়েছেন, সেই স্মরণীয় ব্যাক্তিটি আজ আমাদের মাঝে নেই। আজ ১৩ই জুলাই, আজকের দিনেই মৃত্যুবরণ করেন বিশিষ্ট শিক্ষক, বহুভাষাবিদ ও দার্শনিক ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই ভারতের পশ্চিম বঙ্গের চব্বিশ পরগণা জেলার পেয়ারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ভারতীয় উপমহাদেশের এই স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব।

১৯০৪ সালে হাওড়া জেলা স্কুল থেকে এন্ট্রান্স, ১৯০৬ সালে কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে এফ.এ এবং ১৯১০ সালে সিটি কলেজ থেকে সংস্কৃতে সম্মান-সহ বি.এ ডিগ্রি অর্জন করেন এই বহুভাষাবিদ। এছাড়া ১৯১২ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনতত্ত্বে এম.এ ডিগ্রি অর্জন করেছেন শহীদুল্লাহ। পরবর্তীকালে ১৯২৫ সালে সরবন বিশ্ববিদ্যালয়, প্যারিস থেকে পি.এইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন এই ভাষাবিজ্ঞানী।

শিক্ষাকতার পাশাপাশি বিভিন্ন ভাষায় ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র দখল ছিল অসাধারণ ও অসামান্য। ১৯৬১ – ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত বাংলা একাডেমির ইসলামি বিশ্বকোষ প্রকল্পের অস্থায়ী সম্পাদক পদে নিযুক্ত হন শহীদুল্লাহ। বাংলা একাডেমি কর্তৃক গঠিত বাংলা একাডেমির পঞ্জিকার তারিখ বিন্যাস কমিটির সভাপতি নিযুক্ত হন ১৯৬৩ সালে। মূলত, তাঁর নেতৃত্বে বাংলা পঞ্জিকা একটি আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত রূপ পায়। এর আগে তিনি উর্দু ভাষার অভিধান প্রকল্পেও তিনি সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন। পরে পূর্ব পাকিস্তানি ভাষার আদর্শ অভিধান প্রকল্পের সম্পাদক হিসেবে বাংলা একাডেমিতে যোগ দেন। এছাড়া তিনি বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতির সম্পাদক এবং ১৯৪৮ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সম্মেলনের সভাপতি হিসাবেও দায়িত্বরত ছিলেন।

সবসময়ই সাহিত্য কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত থাকা শহীদুল্লাহ অনেক বই লিখেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:- ভাষা ও সাহিত্য, বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড), বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান, বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত, দীওয়ানে হাফিজ, রুবাইয়াত-ই-ওমর খৈয়াম, বিদ্যাপতি শতক।

পাকিস্তান আমলে তাকে ‘প্রাইড অফ পারফরমেন্স পদক’ ও মরণোত্তর হিলাল ই ইমতিয়াজ খেতাব এবং ঢাকা সংস্কৃত পরিষদ তাঁকে ‘বিদ্যাবাচস্পতি’ উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম এমেরিটাস অধ্যাপক পদ লাভ এবং ফ্রান্স সরকার কর্তৃক সম্মানজনক পদক “নাইট অফ দি অর্ডারস অফ আর্টস অ্যান্ড লেটার্স” পান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে মরণোত্তর ‘ডি লিট’ উপাধি দেয় এবং ১৯৮০ সালে মরণোত্তর বাংলাদেশের স্বাধীনতা পদক দেওয়া হয়। ভাষাক্ষেত্রে তাঁর অমর অবদানকে সম্মান ও শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ঢাকা হলের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় শহীদুল্লাহ হল।

মৃত্যুর পর তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলের পাশে সমাহিত করা হয়।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।