প্রচ্ছদ » আন্তর্জাতিক » বহুল পরিচিত অক্ষয়কুমার দত্তের জন্মদিবসে আজ

বহুল পরিচিত অক্ষয়কুমার দত্তের জন্মদিবসে আজ

 জান্নাতুল তাবাসসুম | বাংলা ইনিশিয়েটর

অক্ষয়কুমার দত্ত একাধারে শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক ও আদি ব্রাহ্মসমাজের প্রধান কর্মীপুরুষ। জন্ম ১৮২০ সালের ১৫ জুলাই নবদ্বীপের পাঁচ মাইল উত্তরে, চুপী গ্রামে। তাঁর পিতা পীতাম্বর দত্ত ছিলেন কলকাতার কুঁতঘাটের পুলিশ-কার্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ; পরে সাবইন্সপেক্টর হন। মাতা, দয়াময়ী দেবী।

কলকাতার ওরিয়েন্টাল সেমিনারির ছাত্র থাকাকালে তিনি পঞ্চম শ্রেণি থেকে ডাবল প্রমোশন পেয়ে তৃতীয় (বর্তমান সপ্তম) শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন। দ্বিতীয় শ্রেণি পরীক্ষা পাস করার পরই (১৮৩৫) পারিবারিক রীতি অনুসারে তাঁর বিয়ে হয়। কিছুদিন পরে পীতাম্বর দত্তের মৃত্যু হলে অক্ষয়কুমার দত্তের প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়। ওরিয়েন্টাল সেমিনারির ছাত্র থাকাকালেই তিনি সেখানকার শিক্ষক হার্ডম্যান জেফ্রয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বহুভাষাবিদ পন্ডিত জেফ্রয়ের কাছে তিনি গ্রিক, ল্যাটিন, জার্মান, ফরাসি ও হিব্রু ভাষা ছাড়াও শিখেন পদার্থবিদ্যা, ভূগোল, জ্যামিতি, বীজগণিত, ত্রিকোণমিতি, সাধারণ বিজ্ঞান, মনস্তত্ত্ব প্রভৃতি। আমিরউদ্দীন মুন্সির কাছে শিখেন ফারসি ও আরবি।

১৮৩৮ সালে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত-এর সঙ্গে পরিচয় হলে তিনি অক্ষয়কুমার দত্তকে সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় প্রবন্ধ লিখতে উৎসাহিত করেন। এ পত্রিকায় নিয়মিত লেখার সূত্রেই দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর সঙ্গে অক্ষয়কুমার দত্তের পরিচয় হয়। ১৮৩৯ সালে ৬ অক্টোবর ‘তত্ত্ববোধিনী সভা’ প্রতিষ্ঠিত হলে ২৬ ডিসেম্বর তিনি এ সভার সভ্য হন। পরের মাসেই (জানুয়ারি ১৮৪০) তিনি নির্বাচিত হন এ সভার সহকারী সম্পাদক। ১৮৪০ সালের ১৩ জুন কলকাতায় এ সভার উদ্যোগে তত্ত্ববোধিনী পাঠশালা প্রতিষ্ঠিত হয়। অক্ষয়কুমার দত্ত এ পাঠশালার শিক্ষক নিযুক্ত হন। তিনি পড়াতেন ভূগোল ও পদার্থবিদ্যা। এ বিষয়ে বাংলা ভাষায় পাঠ্যগ্রন্থ না থাকায় তিনি এ পাঠশালার শিক্ষার্থীদের জন্য লেখেন ভূগোল (১৮৪১) ও পদার্থবিদ্যা (১৮৫৬) বিষয়ক বই। ভূগোল বাংলা ভাষায় লেখা প্রথম বিজ্ঞানবিষয়ক বই এবং এ বইয়ের মাধ্যমে অক্ষয়কুমার দত্ত বাংলা যতিচিহ্নের প্রবর্তন করেন। পদার্থবিদ্যা পরে প্রকাশিত হলেও, এটি বাংলা ভাষায় রচিত বিশুদ্ধ বিজ্ঞানের প্রথম গ্রন্থ।

অক্ষয়কুমার দত্তের বাষ্পীয় রথারোহীদিগের প্রতি উপদেশ ও ধর্মোন্নতি সংসাধন বিষয়ক প্রস্তাব প্রকাশিত হয় ১৮৫৫ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসে। প্রথম বইটি ছিল রেলওয়ে সম্পর্কে বাঙালি লেখক কর্তৃক রচিত প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ। মানবসভ্যতায় নানা ধর্মের ক্রমবিবর্তন কীভাবে ঘটেছে, শেষোক্ত বইটিতে বর্ণনা করা হয়েছে তার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।

অক্ষয়কুমার দত্ত উদ্ভিদ প্রেমিক ছিলেন। আমেরিকা ও ইউরোপের বহু স্থান থেকে দুর্লভ বৃক্ষচারা সংগ্রহ করে তিনি নিজের বাসভবনে সুপরিকল্পিতভাবে একটি বাগান তৈরি করেন। বাগানটির নাম দিয়েছেন ‘শোভনোদ্যান’। বাগানের প্রত্যেকটি তরু, গুল্ম ও লতার শরীরে উদ্ভিজ্জ-বিদ্যাসম্মত­­ ল্যাটিন নাম ও তার স্বরূপ সংক্ষেপে বর্ণনা করেন। তিনি তাঁর বাড়িতে একটি ভূতাত্ত্বিক সংগ্রহশালাও গড়ে তুলেছেন। ১৮৮৬ সালের ২৭ মে তাঁর মৃত্যু হয়।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।