প্রচ্ছদ » বাংলাদেশ » আজকের দিনে জন্মেছিলেন বহুরূপী বিজন ভট্টাচার্য !

আজকের দিনে জন্মেছিলেন বহুরূপী বিজন ভট্টাচার্য !

 সুরাইয়া আক্তার জ্বীম | বাংলা ইনিশিয়েটর 

আজ ১৭ জুলাই , রোজ সোমবার। ১৯১৭ সালের এ দিনেই বাংলাদেশের ফরিদপুরে জন্মেছিলেন দেশপ্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব বিজন ভট্টাচার্য । তাঁর পিতা ক্ষীরোদবিহারী ভট্টাচার্য ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক। ভূস্বামী পরিবারে তাঁর জন্ম। পিতার কর্মসূত্রে বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাস করার সুবাদে তিনি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হন।
১৯৪০ এর দশকে নাট্যজীবনে পা ফেলেন তিনি।

প্রচলিত বাণিজ্যিক থিয়েটারের ধারার বাইরে স্বতন্ত্র নাট্য আন্দোলনের সূচনা করেন কিছু ফ্যাসিবাদ বিরোধী লেখক শিল্পী গোষ্ঠী। এঁদেরই সাংস্কৃতিক শাখা ছিল ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘ বা ইন্ডিয়ান পিপলস থিয়েটার অ্যাসোসিয়াসন। যা আইপিটিএ নামে বেশি পরিচিত। বিজন ভট্টাচার্য ছিলেন এ গণনাট্য সঙ্ঘের প্রথম সারির নাট্যকর্মী। বিজন ভট্টাচার্যের নাটক রচনা, অভিনয় এবং নির্দেশনা সাফল্য লাভ করেছিল এ গণনাট্য আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। চিন্তা, চেতনা অসাধারণভাবে চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলতে পারদর্শী ছিলেন তিনি। বিভিন্ন নাট্যতে তিনি তার বহূ রৃপ বেশ সুন্দর ভাবেই ফুটিয়ে তুলেছেন।

অভিনেতা হিসেবে বিজন ভট্টাচার্য অসামান্য কৃতিত্ব দেখিয়ে ছিলেন। নানারকম চরিত্রকে মূর্ত করে তুলতে তিনি দক্ষ ছিলেন । নানান উপভাষার সংলাপ উচ্চারণেও তিনি সাফল্য ছিলেন।

তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চরিত্রের মধ্যে ছিল বেন্দা (জবানবন্দী), প্রধান সমাদ্দার (নবান্ন), পবন ও কেতকাদাস (মরাচাঁদ), হরেন মাস্টার (গোত্রান্তর), প্রভঞ্জন (দেবীগর্জন), মামা (গর্ভবতী জননী), কেদার (আজ বসন্ত), সুরেন ডাক্তার (চলো সাগরে) প্রভৃতি।

নাট্যনির্দেশক হিসাবেও তিনি সমান সফল ছিলেন। গণনাট্য সঙ্ঘে তাঁর নাটক জবানবন্দী এবং নবান্ন ছিল অসাধারণ দুটি প্রযোজনা।

তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটগুলো হলো কলঙ্ক, গোত্রান্তর, মরাচাঁদ, দেবী গর্জন, কৃষ্ণপক্ষ, আজবসন্ত, চলো সাগরে প্রভৃতি।

পারিবারিক জীবনে বিখ্যাত লেখিকা জ্ঞানপীঠ পুরস্কার বিজয়ী মহাশ্বেতা দেবী বিজন ভট্টাচার্যের স্ত্রী। তবে পরবর্তীকালে তাঁরা বিবাহ বিচ্ছিন্ন হন। তাঁদের এক সন্তান নবারুণ ভট্টাচার্য যিনি ১৯৪৮ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। নবারুণ ভট্টাচার্য একজন সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার প্রাপ্ত লেখক এবং কবি।

১৯৭৮সালের জানুয়ারি মাসে বিজন ভট্টাচার্য ওপারের বাসিন্দা হন, চিরকালের জন্য না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।