প্রচ্ছদ » বাংলাদেশ » শুভ জন্মদিন দ্বিজেন্দ্রলাল রায়

শুভ জন্মদিন দ্বিজেন্দ্রলাল রায়

সুরাইয়া আক্তার জীম
আজ ১৯ জুলাই। ১৮৬৩ সালে এ দিনেই বিশিষ্ট বাঙালি কবি, নাট্যকার ও সংগীতস্রষ্টা দ্বিজেন্দ্রলাল রায় জন্মেছিলেন। তিনি ডি. এল. রায় নামেও পরিচিত ছিলেন।দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্ম অধুনা পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরে। তাঁর পিতা কার্তিকেয়চন্দ্র রায় (১৮২০-৮৫) ছিলেন কৃষ্ণনগর রাজবংশের দেওয়ান। ফলে তাঁর বাড়িতে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, দীনবন্ধু মিত্র প্রমুখের মতো বহু গুণীজনের সমাবেশ হত।

কার্তিকেয়চন্দ্র নিজেও ছিলেন একজন বিশিষ্ট গায়ক ও সাহিত্যিক। আর এই পরিবেশের আবেশেই বালক দ্বিজেন্দ্রলালের প্রতিভার বিকাশে বিশেষ সহায়ক হয়। তাঁর মা প্রসন্নময়ী দেবী ছিলেন অদ্বৈত আচার্যের বংশধর।দ্বিজেন্দ্রলালের দুই দাদা রাজেন্দ্রলাল ও হরেন্দ্রলাল এবং এক বৌদি মোহিনী দেবীও ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যস্রষ্টা।দ্বিজেন্দ্রলাল ১৮৭৮-এ প্রবেশিকা পরীক্ষায় বৃত্তি লাভ করেন। এফ. এ. পাস করেন কৃষ্ণনগর গভঃ কলেজ থেকে। পরে হুগলি কলেজ থেকে বি.এ. এবং ১৮৮৪ সালে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ (অধুনা প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে এম.এ. পাস করেন। রয়্যাল এগ্রিকালচারাল কলেজ ও এগ্রিকালচারাল সোসাইটি হতে কৃষিবিদ্যায় FRAS এবং MRAC ও MRAS ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৮৮৬ সালে দেশে প্রত্যাবর্তন করে সরকারি কর্মে নিযুক্ত হন দ্বিজেন্দ্রলাল। কিন্তু তিন বছর বিদেশে থাকার পর দেশে ফিরে প্রায়শ্চিত্ত করতে অসম্মত হলে তাঁকে নানা সামাজিক উৎপীড়ন সহ্য করতে হয় সংস্কারাছন্ন হিন্দু সমাজ দ্বারা।ভারতবর্ষে ফিরে তিনি জরিপ ও কর মূল্যায়ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন, এবং মধ্যপ্রদেশে সরকারি দপ্তরে যোগ দেন। পরে তিনি দিনাজপুরে সহকারী ম্যাজিস্ট্রেট পদে নিয়োগ পান। তিনি প্রখ্যাত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক আন্দুলিয়া নিবাসী প্রতাপচন্দ্র মজুমদারের কন্যা সুরবালা দেবীকে বিবাহ করেন ১৮৮৭ সালে।

১৮৯০ সালে বর্ধমান এস্টেটের সুজামুতা পরগনায় সেটেলমেন্ট অফিসার হিসাবে কর্মরত অবস্থায় কৃষকদের অধিকার বিষয়ে তাঁর সাথে বাংলার ইংরেজ গভর্নরের বিবাদ ঘটে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি ১৯১৩ সালে সরকারি চাকরি হতে অবসর নেন।

তিনি প্রায় ৫০০ গান রচনা করেন। এই গানগুলি বাংলা সংগীত জগতে দ্বিজেন্দ্রগীতি নামে পরিচিত। তার বিখ্যাত গান “ধনধান্যে পুষ্পে ভরা”, “বঙ্গ আমার! জননী আমার! ধাত্রী আমার! আমার দেশ” ইত্যাদি আজও সকলের মনে দাগ কেটে যায়।

  • তঁর কিছু বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থঃ
    আর্যগাথা, ১ম খণ্ড (১৮৮৪)
    The Lyrics of India (ইংল্যান্ডে থাকাকালীন রচিত) (১৮৮৬ )
    আর্যগাথা, ২য় খণ্ড (১৮৮৪)
    আষাঢ়ে (১৮৯৯)
    হাসির গান (১৯০০)
    মন্দ্র (১৯০২)
    আলেখ্য (১৯০৭)
    ত্রিবেণী (১৯১২)

উল্লেখযোগ্য নাটকঃ

  • (১) প্রহসন বা লঘু রসাশ্রয়ি নাটক- সম্পাদনা
    একঘরে (১৮৮৯)
    কল্কি অবতার (১৮৯৫)
    বিরহ (১৮৯৭)
    এ্যহস্পর্শ বা সুখী পরিবার (১৯০১)
    প্রায়শ্চিত্ত (১৯০২)
    পুনর্জন্ম (১৯১১)
    আনন্দ-বিদায় (১৯১২)
  • (২) ইতিহাসাশ্রয়ী নাটক:
    তারাবাঈ (১৯০৩)
    রানা প্রতাপসিংহ (১৯০৫)
    দুর্গাদাস (১৯০৬)
    সোরার রুস্তম (১৯০৮)
    নূরজাহান (১৯০৮)
    মেবার পতন (১৯০৮)
    সাজাহান (১৯০৯)
    চন্দ্রগুপ্ত (১৯১২)
    সিংহল বিজয় (১৯১৫)
  • (৩) পৌরাণিক নাটক:
    পাষাণী (১৯০০)
    সীতা (১৯০৮)
    ভীষ্ম (১৯১৪)
  • (৪) সামাজিক নাটক:
    পারাপারে (১৯১২)
    বঙ্গনারী (১৯১৬)

৪৯ বছর বয়সে, ১৯১৩ সালের ১৭ই মে তারিখে কলকাতায় দ্বিজেন্দ্রলালের জীবনাবসান ঘটে। সমাধিস্থল কলকাতা, বাংলা প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত (অধুনা পশ্চিমবঙ্গ, ভারত)

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।