প্রচ্ছদ » বাংলাদেশ » যদি মন কাঁদে তুমি চলে এসো এক বরষায়

যদি মন কাঁদে তুমি চলে এসো এক বরষায়

 খাতুনে জান্নাত | বাংলা ইনিশিয়েটর 

‘বাহ্! বেশ বই পড়ো তো তুমি! তোমার প্রিয় লেখক কে?’
– ‘হুমায়ূন আহমেদ’।
আমি জানি এই ঘটনার পর কী হবে। সে আমার দিকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকাবে, যে দৃষ্টিতে মেশানো থাকবে তাচ্ছিল্য। কপাল কুঁচকে বলবে, ‘হুমায়ূন আহমেদ!’

এই ঘটনা অহরহ ঘটছে আমার সাথে। হুমায়ূন আহমেদ যেন কারো প্রিয় লেখক হতে পারে না! কেন পারে না? তার লেখায় নাকি শুকনো হাস্যরস ছাড়া শেখার কিছু নেই! অদ্ভুত দুনিয়া! সবকিছুর মধ্যে জ্ঞান খোঁজে। জ্ঞানের সাগরে ডুব দিতে চায়। যেন লেখকেরা জন্মেছেন তাদেরকে সর্ববিষয়ে দীক্ষিত করার মহান দায়িত্ব নিয়ে!

যত জ্ঞানগর্ভ কথাই আমরা বলি না কেন, “হুমায়ূনের লেখায় তো কিছু নেই! শিক্ষণীয় কিছু না থাকলে ও লেখা পড়ে লাভ কী?” সেই জ্ঞানগর্ভ কথা বলার পরেও যদি হুমায়ূন আহমেদের একটি বই হাতে নিয়ে শুধু এক পৃষ্ঠা পড়ি, তাহলেও পুরোটা না শেষ করে উঠতে পারব না। এতটাই গল্পে টেনে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা তার, এই ক্ষমতাকে অগ্রাহ্য করা কঠিন, বড় কঠিন। হ্যাঁ, পড়া শেষ হওয়ার পর অবশ্য আমরা আনন্দের সাথে আবার আলোচনা শুরু করতে পারি, “বুঝলে, হুমায়ূনে কিছু নেই বাপু…”।

হুমায়ূন আহমেদ। আমার মতে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের শ্রেষ্ঠ লেখক। একটি লেখকের শ্রেষ্ঠত্ব কোথায়? তার গল্পে পাঠককে আকর্ষণের ক্ষমতায়। আমার মনে হয় হুমায়ূন আহমেদের মতো গল্পে এভাবে পাঠককে ঢুকিয়ে ফেলার ক্ষমতা আর কোনো লেখকের নেই এখন পর্যন্ত। তিনি এত সহজ, এত সাবলীল, যে তাকে পড়ার পর অন্য সবার লেখাকেই মনে হবে ‘বিরক্তিকর’!

এই দুঃখী দেশটা একটি হুমায়ূনকে পেয়েছিলো। আর পায় নি। হুমায়ূন ডজন ডজন জন্মায় না, হুমায়ূন একজনই হয়। কত শত বইবিমুখ মানুষকে যে এই হুমায়ূন বই পড়ার নেশা ধরিয়ে দিয়েছেন, তার খবর কে রাখে? এই দেশটা দুঃখী ছিল সবসময়েই। এখনও আছে। একটি হুমায়ূন আহমেদকে পেয়েও তাকে হারাতে হলো। এত বেদনা সহ্য করার ক্ষমতা দেশটার কী করে হলো কে জানে!

প্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ, তুমি সাধারণ কোনো মানুষ নও। তুমি হলে জাদুকর। যার জাদু নিছক কোনো কৌশল নয়, তোমার আছে সত্যিকার অলৌকিক ক্ষমতা। তোমার জাদু শব্দে শব্দে, পাঠকের মনে-প্রাণে-অন্তরে।

আজ কি চাননি পসর রাত হবে? জানি না। সেদিনও ছিল না যেদিন তুমি চলে গেছিলে। তাতে কী? চলে যাওয়ার বেদনার চেয়ে কি চাননি পসর রাতে যেতে পারো নি তার বেদনা বেশি?
ভালো থেকো তুমি প্রিয় লেখক। এই পৃথিবীর সকল মানুষ, পৃথিবীর নীল আকাশ, সবুজ গাছ, হলুদ পাখি – সবার পক্ষ থেকে বলছি ভালো থেকো তুমি, প্রিয় লেখক।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।