প্রচ্ছদ » বাংলাদেশ » বাংলা সাহিত্যের প্রথম ঔপন্যাসিক প্যারীচাঁদ মিত্রের শুভজন্মদিন !

বাংলা সাহিত্যের প্রথম ঔপন্যাসিক প্যারীচাঁদ মিত্রের শুভজন্মদিন !

প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০১৭২:৩৯:১০ অপরাহ্ন

[pfai pfaic=”fa fa-user ” pfaicolr=”” ]  সুরাইয়া আক্তার জীম | বাংলা ইনিশিয়েটর

আজ ২২শে জুলাই, শনিবার । ১৮১৪ সালের এই দিনেই এক বণিক পরিবারে জন্মেছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম ঔপন্যাসিক প্যারীচাঁদ মিত্র। তাঁর ছদ্মনাম টেকচাঁদ ঠাকুর। তাঁর পিতার নাম রামনারায়ণ মিত্র । তিনি কাগজ ও হুন্ডি ব্যবসায়ী ছিলেন।

শৈশবে প্যরীচাদঁ একজন গুরুমহাশয়ের নিকট বাংলা ও পরে একজন মুনশির নিকট ফারসি শিখেন। ইংরেজি লাভের জন্য হিন্দু কলেজে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছিলেন। ঐ সময় ডিরোজিও নামে একজন বিখ্যাত অধ্যাপক ছিলেন হিন্দু কলেজে। তিনি তাঁর শিষ্য ও ভাবশিষ্য ছিলেন।

কর্মজীবনে তিনি বাংলার নবজাগরণের অন্যতম নেতা ছিলেন। তিনি ক্যালকাটা পাবলিক লাইব্রেরির লাইব্রেরিয়ান ছিলেন। তিনি ফার্সি, বাংলা ও ইংরেজি ভালো ভাবে জানায় বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় বহু গ্রন্থ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তিনি ও তাঁর সহযোগী রাধানাথ শিকদার মহিলাদের জন্য একটি মাসিক পত্রিকা সম্পাদনা করেছিলেন। এছাড়াও তিনি জনকল্যাণ মূলক কাজও করতেন। তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটের সদস্য ছিলেন। তিনি পশু-ক্লেশ নিবারণী সভারও সদস্য ছিলেন। বেথুন সোসাইটি ও ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটির অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন প্যারীচাঁদ মিত্র। ১৮৩৮ সালে তিনি জ্ঞানান্বেষণ সভার সদস্য হন । তাঁর ইংরেজি ভাষায় রচিত লেখাসমূহ ছাপা হত ইংলিশম্যান, ইন্ডিয়ান ফিল্ড, ক্যালকাটা রিভিউ, হিন্দু প্যাট্রিয়ট, ফ্রেন্ড অফ ইন্ডিয়া প্রভৃতি পত্রিকায়। তিনি পুলিশি অত্যাচারিতার বিরুদ্ধে লড়েছিলেন এবং সফলকামও হয়েছিলেন। তিনি স্ত্রী শিক্ষা প্রচারে যথেষ্ট সক্রিয়তার পরিচয় দেন। তিনি বিধবাবিবাহ সমর্থন করতেন। তিনি বাল্যবিবাহ এবং বহুবিবাহের বিরোধিতা করেন। তিনি আমদানি ও রফতানি এবং চালের ব্যবসা করে প্রচুর অর্থোপার্জন করেন।

তার কয়েকটি অপরাজেয় সৃষ্টি:
আলালের ঘরের দুলাল (তাঁর শ্রেষ্ঠ এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস)। ১৮৫৮ খ্রি. প্রকাশিত এই উপন্যাসটির অন্যতম প্রধান চরিত্র ঠকচাচা । উল্লেখ্য যে এখানে তিনি যে কথ্য ভাষা ব্যবহার করেছিলেন তা আলালী ভাষা নামে পরিচিতি লাভ করেছে। এই গ্রন্থটি ইংরেজিতেও অনুবাদ করা হয়েছিল The spoiled child নামে। মদ খাওয়া বড় দায়, জাত থাকার কি উপায় (১৮৫৯) তাঁর এ গ্রন্থে উদ্ভট কল্পনা লক্ষ করা যায়।অভেদী(১৮৭১), আধ্যাত্মিকা(১৮৮০)

The Zemindar and Ryots. এই গ্রন্থটি তখনকার সময়ে অনেক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলো। কারণ এটি রচিত হয়েছিলো চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে।

১৮৮৩ সালের ২৩শে নভেম্বর ৬৯ বছর বয়সে এ মহান ঔপন্যাসিক কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।