প্রচ্ছদ » বাংলাদেশ » একনজরে বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমেদ

একনজরে বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমেদ

 ইনিশিয়েটর ডেস্ক । বাংলা ইনিশিয়েটর 

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনায়,যখন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রাহমান পাকিস্থানে শত্রু কারাগারে বন্দি এবং যখন বাঙালি জাতি বিভ্রান্ত, ভবিষ্যৎ প্রশ্নে অনিশ্চিত, কিংকর্তব্য বিমুর, তখন তাজউদ্দিন আহমেদ প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার গঠন ও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহন করে যে কর্তব্য সম্পাদন করেন তা এক কথায় বিস্ময়কর ও অবিস্মরণীয়। ইতিহাস সঠিক সময়েই সঠিক মানুষটিকে নির্বাচন করেছিলো। ইতিহাসের এই নায়ক তাজউদ্দিন আহমেদ ১৯২৫ শালের ২৩ জুলাই বর্তমান গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার দরদরিয়া গ্রাম এক সম্ভ্রান্ত মধ্যাবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। ১৯৫৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিতে প্রথম শ্রেণীতে বি এ পাশ করেন ।মহান এই মানুষটি ১৯৬৪ সালে কারাগারে পরীক্ষা দিয়ে আইন পাশ করেন।তাজউদ্দীন আহমেদ

৪০এর দশকে নিখিল বঙ্গ মুসলিম ছাত্রলীগ ও বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের নেতৃস্থানীয় সদস্য ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ । তিনি পাকিস্থান বিরোধী  আন্দোলনে যুক্ত থাকলেও তিনি জাতি,জাতিগত সমস্যা ও জাতীয়তাবাদ স্বতন্ত্র ধারনা পোষণ করতেন। দেশ ভাগের পর মুসলিম লীগের গনবিরোধী কার্যকলাপে বিব্রত হয়ে তিনি এ দলের সঙ্গে সম্পর্কে ছেদ করেন। আসুন একনজরে দেখে নেই এই বিখ্যাত ব্যাক্তির গৌরবময় সংগ্রামী জীবনঃ

  • ১৯৪৮ সালে ছাত্রলীগ এবং আওয়ামীলীগ গঠনের প্রক্রিয়ায় তিনি যুক্ত ছিলেন।
  • ১৯৫১ সালে তিনি যুবলীগ এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
  • ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে অনেক অত্যাচার সহ্য করতে হয়।
  • ১৯৫৩ সালে ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন।
  • ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের মনোনয়নে পূর্ববঙ্গ আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।একই বছর ৯২-ক ধারায় গ্রেফতার হন।
  • ১৯৫৫ সালে পূর্ব পাকিস্থান আওয়ামীলীগের সমাজ সেবা ও সংস্কৃতি সম্পাদক হন।
  • ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসন জারির পর গ্রেফতার হন। এবং ১৯৫৯ সালে মুক্তি লাভ করেন।
  • ১৯৬২ সালের সামরিক শাসনামলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এর সাথে এন ডি এফ এর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে অংশগ্রহন করেন।
  • ১৯৬৪ সালে আওয়ামীলীগের পুনরজ্জীবনের জন্য তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এর পরের বছর গুলো তাজউদ্দীন আহমদ ও আওয়ামীলীগের জন্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
  • ১৯৬৬ সালে লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলের সম্মেলনে যোগদান করেন।এই সম্মেলনেই আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে ঐতিহাসিক ৬ দফা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পেশ করেন।
  • ১৯৬৬ সালের মার্চ মাসে তিনি আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পা্দক নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি প্রচার সম্পাদক ছিলেন।৬ বছর পর্যন্ত তিনি পরিপূর্ণ যোগ্যতার সঙ্গে সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
  • ১৯৬৬ সালের ৮ মে ৬দফার প্রচার অভিজান চলাকালে তিনি তৎকালীন দেশরক্ষা আইনে গ্রেফতার হন।,মুক্তিপান গন অভ্যুত্থান কালে,১২ ফেব্রুয়ারী, ১৯৬৯।
  • ফেব্রুয়ারী –মার্চ মাসে রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে আওয়ামীলীগের অন্যতম প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেন।
  • ১৯৭০ সনে তদানীন্তন পাকিস্থান জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে ঢাকা- ৫ আসন থেকে নির্বাচিত হন।
  • ১৯৭১ সালের মার্চে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে অসহযোগ আন্দোলনের নেতৃত্তে তিনি গুরুত্তপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাছাড়া ঐ সময়ে ইয়াহিয়া –ভুট্টোর সঙ্গে আওয়ামীলীগের আলোচনায় গুরুত্ত পূর্ণ ভূমিকা রাখেন বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদ।
  • ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী গণহত্যা শুরু করে। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয় পশ্চিম পাকিস্তানে।বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধের সধিনায়কের অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠন করেন তিনি। তাজউদ্দীনের ভাষায়, ‘আমি সেদিন সাড়ে সাত কোটি বাঙালির স্বার্থে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম তা হলো: একটি স্বাধীন সরকার প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম পরিচালনার জন্য কাজ শুরু করা৷’
  • 07252015_01_Bangabandhu_Tajuddin১৯৭১ সালের ২২শে ডিসেম্বর তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ বাংলাদেশ সরকারের নেতৃবৃন্দ ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেন। শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ফিরে আসলে তাজউদ্দীন আহমদ প্রদধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান। তিনি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ১৯৭৩-এ ঢাকা-২২ আসন থেকে সনংসদ সদস্য নির্বাচিত হন৷ বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় বাজেট পেশ করেন, প্রথম পাঁচশালা পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন।
  • ১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু স্বপরিবারে নিহত হলে বাংলার ইতিহাসে যে করুন অধ্যায়ের সূচনা হয়,তার চরম পরিণতি ঘটে ঐ সালের ৩রা নভেম্বর ।এই দিন ই গৃহবন্ধি করা হয় তাজউদ্দীন আহমেদকে ২২ আগস্ট নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে । ২ মাস ১০ দিন আহমেদকে,পর ,৩ রা নভেম্বর ভোররাতে জেলখানার সকল নিয়ম ভঙ্গ করে ঘাতকরা নির্মম ভাবে গুলি চালালে শহীদ হন বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমেদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম , ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও এইচ এম কামরুজ্জামান। তাজউদ্দীন আহমেদকে দাফন করা হয় বনানী কবরস্থানে।

প্রচার বিমূখ একনিষ্ঠ কর্মযোগী ছিলেন তিনি। তিনি কোরআনে হাফেজ ছিলেন সর্বদিক দিয়ে তিনি পারদর্শী ছিলেন । তিনি বলতেন “মুছে যাক আমার নাম, তবু বেঁচে থাক বাংলাদেশ

আরও পড়ুনঃ একজন দুঃসাহসিক মুক্তিযোদ্ধা শিরিন বানুর গল্প

সুত্রঃ ইন্টারনেট

বাংলাইনিশিয়েটর/২৩/০৭/২০১৬/এস এস কে/ রাকিব/তানভীর

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।