প্রচ্ছদ » আন্তর্জাতিক » মিসাইলম্যান অফ ইন্ডিয়া এপিজে আবুল কালাম

মিসাইলম্যান অফ ইন্ডিয়া এপিজে আবুল কালাম

 সাব্বির রায়হান অপি | বাংলা ইনিশিয়েটর

এ. পি. জে. আবদুল কালাম ! পুরো নাম আবুল পাকির জয়নুল-আবেদিন আবদুল কালাম। নামটি আকারে যতটা বিশাল তার চেয়েও বিশাল তার কর্ম। এই নামটির সাথে পরিচিত নয় এমন খুজে বের করাটাও কঠিন। তিনি সকলের কাছে পরিচিত একজন অধ্যাপক, একজন লেখক আবার একজন বিজ্ঞানী অথবা বিমান প্রযুক্তিবিদ হিসেবে। সবচেয়ে বেশি পরিচিত ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের একাদশ রাষ্ট্রপতি হিসেবে।

১৯৩১ সালের ১৫ অক্টোবর ভারতের মাদ্রাজের রামেশ্বরমের একটি গরিব মুসলিম তামিল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এই ভারতরত্ন। পিতা জয়নুল-আবেদিন ছিলেন একজন দরিদ্র নৌকামালিক। তাই বিদ্যালয়শিক্ষা সমাপ্ত হতে না হতেই কাঁধে নেন পরিবারের অভাব দূর করার দায়িত্ব। সংবাদপত্রে লেখালিখি করার পাশাপাশি চালিয়ে যান লেখাপড়া। ১৯৫৪ সালে সেন্ট জোসেফ’স কলেজ থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তিতে তিনি পদার্থবিদ্যা সম্পর্কে উৎসাহ হারিয়ে হতাশ হন। তাই ১৯৫৫ সালে তিনি মাদ্রাজ ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে বিমানপ্রযুক্তি নিয়ে অধ্যয়ন শুরু করেন। মাদ্রাজে অধ্যায়নকালে ভারতীয় বিমান- বাহিনীর আট জন কর্মীর দরকার ছিল। তিনি সেই পরীক্ষায় অংশ নেন, তবে দূর্ভাগ্যবশত নবম হন।

১৯৬০ সালে স্নাতক সম্পন্ন করার পর ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংগঠন (DRDO) -এ একজন বিজ্ঞানী হিসেবে যোগদান করেন। এরপর ১৯৬৯ সালে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থায় (ISRO) -তে বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞান প্রশাসক হিসেবে কাজ করেন। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও মহাকাশযানবাহী রকেট উন্নয়নের কাজে তাঁর অবদানের জন্য তাঁকে ‘মিসাইল ম্যান অফ ইন্ডিয়া’ খেতাব দেয়া হয়। ১৯৯৮ সালে পোখরান-দুই পরমাণু বোমা পরীক্ষায় তিনি প্রধান সাংগঠনিক ছিলেন। তিনি ১৯৭০ থেকে ১৯৯০ সালের মাঝে Polar Satellite Launch Vehicle (PSLV) এবং SLV-III তৈরি করেন।

২০১৫ খ্রিস্টাব্দের ২৭শে জুলাই মেঘালয়ের শিলং শহরে অবস্থিত ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট নামক প্রতিষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন। পরে তাকে বেথানী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তিনি মৃত্যুবরন করেন। তার মৃত্যুতে তাঁর সম্মানে সাত দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হয়। এসময় ভূটান সরকার তার দেশের পতাকা অর্ধনমিত রাখার ও ১০০০টি বাতি প্রজ্জ্বলনের নির্দেশ দেয়। তিনি ভারতের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ভারতরত্ন অর্জন করেছেন।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।