প্রচ্ছদ » সাইন্স ভিউ » বিজ্ঞান ফিচার » ১১ আলোকবর্ষ দুরের আজব সংকেত – উইয়ার্ড

১১ আলোকবর্ষ দুরের আজব সংকেত – উইয়ার্ড

প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০১৭১২:০৩:১০ অপরাহ্ন

[pfai pfaic=”fa fa-user ” pfaicolr=”” ]  আলিমুজ্জমাান নয়ন | বাংলা ইনিশিয়েটর

বিশাল এই মহাবিশ্ব জগতে যে আমরা একা নই এমন প্রমাণ উদ্ধারে দিবানিশি ব্যাস্ত গবেষকরা। তাদেরকে একটু নাড়িয়ে দিতেই মাঝে মাঝেই কয়েকশ আলোকবর্ষ দুরের গ্যালাক্সি থেকে ছুটে আসে অদ্ভুত কিছু সংকেত। প্রতিবার তাই সবাই যখন আনন্দে নেচে ওঠে তখন আবার বোঝা যায় যে বুদ্ধিমান কোন প্রাণির থেকে আসেনি এই সংকেত। তবে এবার গবেষকদের চৌকস অভিজ্ঞতাতে শুরুতেই ধরা দিল নতুন এক সংকেত। যা শুরু থেকেই অন্য সংকেত গুলি থেকে আলাদা।

১৯৭৭ সাল নাগাদ প্রথম মহাবিশ্বের এক অজানা সংকেত পৌছায় মানুষের হাতে। ‘ওয়াও’ নামে আখ্যায়িত সেই সংকেত যেন এক সমীকরণে ঘেরা রহস্য ছিল সকলের কাছে। তারই ধারাবাহিকতকায় অদ্ভুত এই সংকেতটির নাম দেওয়া হয়েছে – ‘উইয়ার্ড’
উইয়ার্ড সংকেতটি আসছে প্রায় ১১ আলোকবর্ষ দুরের এক বামন নক্ষত্র থেকে। সূর্যের থেকে প্রায় ২৮০০ গুণ কম উজ্জ্বল এই লাল বামন নক্ষত্রের নাম রোস ১২৮। গত মে মাস নাগাদ ক্যারিবিয়ান সমুদ্র তীরে অবস্থিত পুয়ের্তো রিকো অঞ্চলে অবস্থিত এ্যারেসিবো মানমন্দিরের রেডিও টেলিস্কোপে ধরা পরে এই সংকেতটি।

ইউনিভার্সিটি অব পুয়োর্তো রিকোর মহাকাশপ্রাণ বিভাগের অধ্যাপক এ্যাবেল মেন্ডেজ জানায় যে অদ্ভুত এই সংকেতটি প্রায় দশ মিনিট যাবৎ ধরা পরে তাদের টেলিস্কোপে। সংকেত থেকে এটা বোঝা যায় যে এটি কোন বুদ্ধিমান প্রাণির সৃষ্টি নয়। বরং কোন যান্ত্রিক বা মহাবিশ্বের কোন বিশেষ ঘটনার ফলাফল এই সংকেত।

সেটি (SETI- Search for Extraterrestrial Interlligence) দলের সদস্যরাও এই সংকেত প্রত্যক্ষ করেছেন। মেন্ডেজের ধারণা এ্যারেসিবোর টেলিস্কোপটি বেশি শক্তিশালী হওয়ার দরুণ মহাবিশ্বের অন্য কোন গ্যালাক্সির গ্রহাণুর গুলির সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট এই তরঙ্গ সংকেত টেলিস্কোপে ধরা পরেছে। এছাড়া এটি কোন দুর মহাবিশ্বের যোগাযোগের স্যাটেলাইটের সংকেতও হতে পারে বলে তার ধারণা।


মহাকাশে খুঁজে পাওয়া আগের সকল সংকেত থেকে ভিন্ন এই সংকেতটি সৃষ্টির পেছনে শক্তির মহাবিস্ফোরণ থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি গবেষকরা। কারণ প্রতিনিয়ত আমাদের সূর্য বা তার চেয়েও বড় নক্ষত্রে ঘটে চলেছে কোটি কোটি শক্তি সৃষ্টিকারী বিক্রিয়া। যার রেডিয়েশন কয়েকশ আলোকবর্ষ পাড়ি দিয়ে আমাদের টেলিস্কোপে ধরা দেওয়া অসম্ভব কিছু নয়।

তবে সংকেতটি কিন্তু একবার এসেই থেমে থাকেনি। গত ১৬ জুলাই থেকে মাঝে মাঝেই একই প্রকৃতির সংকেত ধরা পরছে এ্যারেসিবোর মানমন্দিরের টেলিস্কোপে। তাই এই সংকেতের উৎস ও এর রহস্য উন্মোচন করতে কাজ শুরু করেছে ক্যালিফোর্নিয়ার এ্যালেন টেলিস্কোপ অব এ্যারের গবেষকরা। তাই এখন বুকে হাত রেখে অপেক্ষা করা যেতেই পারে দুর নক্ষত্রের সেই সংকেত সমাধান করে মহাকাশ গবেষণার নতুন জগতে পাড়ি জমানোর।

>

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।