প্রচ্ছদ » সাইন্স ভিউ » বিজ্ঞান ফিচার » নক্ষত্রদের জন্মের ইতিহাস (১ম পর্ব)

নক্ষত্রদের জন্মের ইতিহাস (১ম পর্ব)

প্রকাশ : ৬ আগস্ট ২০১৭৭:৩৭:০৬ অপরাহ্ন

[pfai pfaic=”fa fa-user ” pfaicolr=”” ]  আবদুল্লাহ আল মামুন | বাংলা ইনিশিয়েটর

যদি আপনি ফালুদা ( একধরনের খাবার)বানাতে চান তবে দরকার হবে আপেল সহ নানা ফল, দুধ,পানি আরো বহু উপকরণ। উপকরণগুলি তৈরী হয় নানা রকম অণু দিয়ে। অণু তৈরী হয় আবার হাইড্রোজেন,কার্বন,অক্সিজেন সহ আরো ঊননব্বইটি পরমাণু দিয়ে।

পরমানু গুলো আসলো কোথা থেকে এমন প্রশ্নের উত্তরে এক বাক্যে বলা যায় নক্ষত্র হতে। হাইড্রোজেন ব্যাতিত প্রায় সব পরমানু নক্ষত্র তে তৈরী হয়। নক্ষত্রগুলি যেন মহাজাগতিক রান্নাঘর। এ রান্নাঘরে হাইড্রোজেন কে অন্যান্য ভারী পরমাণুতে রূপান্তর করে। নক্ষত্রগুলি আন্তওনক্ষত্রের গ্যাস ও ধূলিকণায় পূর্ণ যারা আবার তৈরী হাইড্রোজেনের তৈরী।

আর এ হাইড্রোজেন সৃষ্টি হয়েছি মহাবিস্ফোরণ এর পর। যে বিস্ফোরণ এর পরপর সূচনা হয় আমাদের এ অসম্ভব সুন্দর অসীম মহাবিশ্বের।

চলুন কাটা যাক একটা আপেলকে। আমরা অনেকটা ডেমোক্রিটাস এর স্টাইলে কাটা শুরু করবো। মানে যতক্ষন না অব্দী আপেলটি অণু তে রূপান্তর না হয়। অণুতে পৌছুলে আমরা দেখবো বেশ কিছু পরমানুর বন্ধনের মাধ্যমে অণু এর উদ্ভব। পরমাণু এবং পরমাণুকে আমরা যদি ভাঙাতে শুরু করি দেখবো তার কেন্দ্রে রয়েছে প্রোটন নিউট্রন ( যদিও হাইড্রোজেন পরমানুর কেবল প্রোটন আছে এবং তাকে ঘিরে ঘুরছে ইলেকট্রন মেঘ) এর দ্বারা গঠিত নিউক্লিয়াস এবং সেটাকে ঘিরে রয়েছে ইলেকট্রন মেঘ। ইলেকট্রনসমূহের চার্জ নেগিটিভ আর প্রোটনের চার্জ পজিটিভ সাথে নিরেপক্ষ নিউট্রন!

পরমাণু আবিস্কারের প্রথম দিকে নিউক্লিয়াসকে খুজে পাওয়া সম্ভব হয়নি ভাবা হয়েছিল পজিটভ চার্জ এ ইলেকট্রনের ক্ষুদ্র সাগরে এলোমেলো ভাবে সজ্জিত কিন্তু সর্বশেষ মডেলে জানা গেল ইলেকট্রন মেঘ নিউক্লিয়াসকে ঘিরে। ইলেকট্রন গুলিই নির্ধারন করে প্রতিটা পরমাণুর ধর্ম! স্বর্ণের চাকচিক্য, ধাতব পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা ইত্যাদি ধর্ম সব নিউক্লিয়াসের বাইরে এ ইলেকট্রনগুলির কীর্তি!

নিউক্লিয়াসের বড্ড বেশি ছোট হবার জন্যই যেনো একে আবিস্কার করতে বেশ সময় নিয়েছিলো !

ইলেকট্রন মেঘে নিউক্লিয়াসকে ঘিরে ঘুরলেও পরমানুর ভরের বড় অংশ নিউক্লিয়াসের দ্বারাই সৃষ্ট। পরমাণুর অধিকাংশ স্খান এতটাই ফাকাঁ যেন মনে হবে বস্তু যেন কিছু দ্বারাই তৈরী হয়নাই!

আপনি মোবাইল টা টাচ করছেন,মোবাইল সহ মোবাইলের স্ক্রিনটাও পরমাণুর তৈরী আবার আপনার আঙ্গুল আপনার আঙ্গুল কোষের সমন্বয় তৈরী সে কোষের নানা কোষাণু এবং কোষাণু গুলো নানা জৈব অণু এবং সেসব জৈব অণু আবার কার্বন-হাইড্রজেনের যে শেকলের সৃষ্টি! অর্থ্যৎ আপনিও পরমাণু দ্বারা সৃষ্টি যে পরমাণুর অধিকাংশ অংশ ফাকা। তাহলে আপনি মোবাইল এ টাচ করার পরও কেন স্ক্রিনে আঙ্গুলটা দেবে যায়না। কেন বা পরমানু এর তৈরী এ চেয়ারটায় বসে থাকতে পারছেন। সেটা ভেদ করে ধপাস খেয়ে পরছেন না বা হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছেননা?

কোশ্চেনটা যত কঠিন উত্তরটা তত সহজ। পরমাণুর বাইরে যে ইলেকট্রন সেগুলোর অবশ্যই গতিশীল হবার কারনে ভরবেগ প্রাপ্ত হয় যে কারনে পরমাণু ফাকা হলেও ভঙ্গুর নয়। আবার আপনি যখন টাচ করছেন তখন আপনার পরমানুর বাইরের অংশের সাথে স্ক্রিনের পরমানুর সাথে বিকর্ষন করে। কেন করে? কারন আপনার পরমানু ইলেকট্রনের সাথে টাচ স্ক্রিনের ইলেকট্রনের বিকর্ষন করা সাথে গতিশীল ইলেকট্রন মেঘের ভরবেগ পরমানুকে অভঙ্গুর মজবুত করে তোলে। পদার্থের গঠনকারী কণা গুলোর চার্জ যদি কোনো ভাবে আমরা গায়েব করি দেখবো পুরো জগৎটা একটা সুপের মত হয়ে গিয়েছে। সব মিশে একাকার। থাকতো ইলেকট্রন, প্রোটন নিউট্রন!

আমরা বস্তুর যত গভীরে যাই দেখি অসীম সংখ্যক কণার সৃষ্টি গোটা বস্তু জগৎ, সম্মুখীন হই ক্ষুদ্র অসীমতার। যখন দূর মেঘ মুক্ত আকাশে চোখ রাখি আমরা দেখতে পাই অসীম নক্ষত্রবিথী সহ আরো কত অসীম সংখ্যার মহাজাগতিক বস্তু।

এ অসীমতার খেলায় গোটা মানব সভ্যতা মানবিক ক্রিয়া যেন অর্থহীন হয়ে পরে কিন্তু হতাশ হবার কিছু নেই। কেন নেই? বলবো আমার কাছে তথ্য আছে পরের পর্বে চোখ রাখুন!

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।